ডা. অতনু দম্পতি ভালো থাকুন

স্টাফ রিপোর্টার
ছবিতে দুই ডাক্তার দম্পতি করোনাকালে সকালে বাড়ি থেকে বের হয়ে কর্মস্থলে যাওয়ার দৃশ্য। এঁরা সুনামগঞ্জ শহরের পূর্ব নতুনপাড়া’র বাসিন্দা। সামনের সারির এই দুই যোদ্ধাকে প্রতিদিনই তাদের বয়স্ক বাবা-মা ও সন্তানরা বিদায় জানান। এই ডাক্তার দম্পত্তির একজন ডা. অতনু ভট্টাচার্য সুনামগঞ্জ বক্ষব্যধি হাসপাতালে এবং ডা. কান্তা নারায়ণ চক্রবর্ত্তী সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালের বহির্বিভাগে দায়িত্ব পালন করেন। বাবা অজয় ভট্টাচার্য ব্যাংকার ছিলেন ও মা মিনা ভট্টাচার্য শিক্ষিকা দুজনেই বিনয়ী ও মানবিক মানুষ হিসাবে পরিচিত। করোনাকালে নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছেন এই দম্পত্তি। সুনামগঞ্জবাসী কৃতজ্ঞ তাঁদের কাছে। রোববার ডা. কান্তা নারায়ণ চক্রবর্ত্তী করোনা শনাক্ত হন। এই সংবাদে সহকর্মী, শুভানুধ্যায়ীসহ সকলেই ব্যতিত হোন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অসংখ্য মানুষ ডা. কান্তার সুস্থ্যতা কামনা করেছেন, শুভকামনা জানিয়েছেন।
করোনাযুদ্ধের শুর” থেকেই ডা. অতনু ও ডা. কান্তা’র ভূমিকা ছিল প্রশংসনীয়। গত ৭ এপ্রিল সকালে বাড়ি থেকে কর্মস্থলে যাবার সময় বাবা-মা ও তাদের সন্তানের বিদায় জানানোর ছবি নিজের ফেইসবুক আইডিতে আপলোড করে ডা. অতনু ভট্টাচার্য লিখেন, ‘প্রতিদিন সকালে এভাবেই বিদায় নিয়ে যাই পরিবার থেকে, এই আশা নিয়ে যে সবাই মিলেই এই যুদ্ধ জয়লাভ করবো। পরিবারসহ দেশের সবাইকে সুস্থ রাখবো। আপনারা ঘরে থাকুন, করোনা প্রতিরোধে আমাদের সাহায্য কর”ণ।’ তাঁর এই ফেইসবুক স্ট্যাটাসে শুভ কামনা জানিয়েছিলেন শত শত মানুষ।
আজ রোববার সকালে ডা. অতনু ভট্টাচার্য ফেইসবুক স্ট্যাটাসে লিখেন, আমার পরিবারে প্রথম করোনা সংক্রমণ হলো। আমার স্ত্রী ডা. কান্তা নারায়ণ চক্রবর্ত্তী’এর রিপোর্ট পজিটিভি এসেছে। উনি করোনাকালের শুর” থেকেই জেলা সদর হাসপাতালে’এ দায়িত্ব পালন করছিলেন। উনি এখন উপসর্গহীন। বাসায় আমার বৃদ্ধ পিতা. মাতা, শিশু সন্তান, এক ভাগনা ও একজন গৃহ সাহায্যকারী আছেন। আপনাদের আশীর্বাদ ও সহযোগিতা আমাদের এই বিপদ কাটিয়ে উঠতে শক্তি যোগাবে।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অসংখ্য মানুষ ডা. কান্তার সুস্থতা কামনা করেছেন। সাহসের সঙ্গে সংকট মোকাবেলা করার জন্য উৎসাহ যুগিয়েছেন।
ডা. অতনু ভট্টাচার্য এ প্রতিবেদককে বলেন, ‘আমাদের মনেবলের কমতি নেই। বয়স্ক বাবা-মা’র জন্য চিন্তা করছি। আশাকরি কান্তা দ্র”তই সেরে ওঠবে। তার কোন উপসর্গ নেই। গত বৃহস্পতিবার তার নমুনা পরীক্ষায় দেওয়া হয়েছিল। আজ রোববার চারদিন হলো। আরো ১০ দিন স্বাস্থ্যবিধি মেনে একা থাকতে হবে। এরপরই আবার মানুষের সেবায় নিশ্চয়ই নিয়োজিত হতে পারবে সে।’