মো: ওয়ালী উল্লাহ সরকার, জামালগঞ্জ
জমিতে উৎপাদিত মরিচ বাজারে এনে এখন আর দাম হাকান না কৃষকরা। জমিতে রেখেই স্মার্টফোনে আড়ৎদারকে দেখান মরিচের আকার। আড়ৎদার কিছু ভিডিও ফুটেজ পাঠান রাজধানীর কাওরানবাজার সহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের আড়তে। এরপর দাম সাব্যস্ত হয়। শেষে মরিচ ক্ষেত থেকে তুলে এনে আড়তে দেন কৃষক। আড়তদার ওইদিনই ট্রাকের ট্রাক মরিচ পাঠিয়ে দিচ্ছেন বিভিন্ন আড়তে। তাতে কৃষক ন্যায্য দাম পাচ্ছেন, এতে আড়ৎদারও খুশী। সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জ থেকে এই মৌসুমে প্রতিদিন সাত আট ট্রাক মরিচ যাচ্ছে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে। এই এক সপ্তাহে তিনবার মরিচের দাম বেড়েছে। আড়তে দাম বাড়ার সঙ্গে সঙ্গেই জেনে যাচ্ছেন কৃষক।
জামালগঞ্জ সদর ইউনিয়নের মান্নানঘাট বাজারের হারুন মার্কেটে সবচেয়ে বড় সবজির আড়ৎদার জাহাঙ্গীর হোসেন।
তিনি জানান, সকাল ৯টা থেকে দুপুর পর্যন্ত প্রায় তিন থেকে চারশ মন মরিচ কেনা-বেচা করেন তিনি। এসব মরিচ রাত ৮টার মধ্যে ট্রাকে চলে যাচ্ছে দেশের বড় বড় আড়তে।
জাহাঙ্গীর জানালেন, সকালেই আড়তের দাম জেনে নেন তারা। কৃষকদেরও এটি জানিয়ে দেওয়া হয়। বৃহস্পতিবার প্রতিমন মরিচ ১৭ শ টাকায় বিক্রি হয়েছে।
ঢাকার ব্যবসায়ীদের কাছে ভিডিও কলের মাধ্যমে মরিচের কোয়ালিটি দেখানোর পর তারা পরিমাণ মতো অর্ডার করেন। কৃষকদেরও তারা সেভাবে জানিয়ে অর্ডার দেন। এখন আর ক্ষেত থেকে মরিচ তুলে কেউ বসে থাকতে হয় না। বিড়ম্বনারও স্বীকার হন না। একসময় ক্ষেত থেকে মরিচ তুলে ২০-২৫ কিলোমিটার দূরে নৌকায় কিংবা ঠেলায় নিয়ে আসা হত মরিচ। এরপর আড়ৎদার ইচ্ছে মত দাম বলতো, ইজারাদার-জমাদারের অত্যাচার ছিল। কৃষকের মরিচ প্রায়ই বাজারেই পঁচেও নষ্ট হয়েছে। প্রযুক্তির বদৌলতে দিন বদলে গেছে।

মন্নানঘাট বাজারের হারুন মার্কেট, মমিনপুর, সাচনা বাজার ও গজারিয়া বাজারে প্রতিদিন আড়ৎ বসিয়ে ৪-৫ লাখ টাকার মরিচ কেনা বেচা হচ্ছে।
স্থানীয় কামিনীপুর গ্রামের রমজান আলী বললেন, ক্ষেত থেকে সবজি তুলেই ন্যায্য মূল্যে সরাসরি বিক্রয় করে নগদ টাকা নিয়ে ঘরে ফিরতে পারছি। অন্যদিকে ব্যবসায়ীরা টাটকা মরিচ কিনে ঢাকা, সিলেটও ময়মনসিংহের ব্যবসায়ীদের কাছে গাড়ীতে পাঠিয়ে দিচ্ছেন, এতে মধ্যস্বত্ব ভোগীদের কাছে জিম্মি হতে হচ্ছে না কৃষকদের।
কৃষক সুলেমান মিয়া, আব্দুল জব্বার, তাজুল ইসলাম বললেন, বড় থেকে ছোট কৃষক সকলেরই এখন স্মার্ট ফোন আছে। এই ফোনই স্বপ্ন বড় করিয়ে দিয়েছে আমাদের। জামালগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো: আলা উদ্দিন বললেন, হাওর এলাকার কৃষকেরা এখন প্রযুক্তি নির্ভর কৃষিতে অভ্যস্ত হয়ে ওঠেছে। প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে তারা ফসলের বিভিন্ন সমস্যা ভিডিও কলের মাধ্যমে আমাদের দপ্তরের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের সাথে ছবি দেখিয়ে পরামর্শ করতে পারছে, আবার সমস্যা সমাধানের বিষয়টিও জেনে নিচ্ছেন। একইভাবে পণ্য দেখিয়ে প্রতিদিন ঢাকাসহ বিভিন্ন অঞ্চলের বাজারদরও জানতে পারছেন তারা। ডিজিটাল প্রযুক্তির বদৌলতে বদলে গেছে এখন ভাটির জীবন। বিশেষ করে জামালগঞ্জের ভাটির চরের মরিচ ব্যবসায়ীরা এর সুফল পাচ্ছেন গ্রামে বসেই।


