ড্রাইভার্স ইউনিয়নের সংবাদ সম্মেলন

স্টাফ রিপোর্টার
সংগঠনের শ্রমিক ভোটারদের নতুন তালিকা প্রণয়নের দাবি জানিয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছে সুনামগঞ্জ জেলা সিএনজি চালিত অটোরিক্সা, মিশুক ও ট্যাক্সীকার ড্রাইভার্স ইউনিয়ন। মঙ্গলবার রাতে শহরের পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় হোটেল রয়েল ইন মিলনায়তনে এই সংবাদ সম্মেলন করেন সংগঠনের নেতৃবৃন্দরা।
সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের কোষাধ্যক্ষ শাহ সুমন আল ফারুক জানান, দেশে বিরাজমান করোনা পরিস্থিতির কারণে নির্বাচন স্থগিত ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন। তখন পুরাতন কমিটিকে অতিরিক্তভাবে আরও ৭ মাস দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেয়া হয়। কিন্তু আমাদের সংগঠনের একটি গ্রুপ উপ-পরিচালকের নির্দেশ অমান্য করে বর্তমানেও দায়িত্ব পালন করে আসছে। বিভিন্ন দপ্তরে নানা অভিযোগ দায়ের করার কারণে ওই কমিটির সদস্যদের অত্যাচারে সারা জেলার যানবাহন চালকেরা নানা প্রতিবন্ধকতার শিকার হয়ে আসছে। কমিটির আদেশ না মানায় মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে এবং প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে চলেছে প্রতিনিয়ত। ইতোমধ্যে সংগঠনের তহবিল থেকে ৪৭ লাখ টাকা আত্মসাত করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, ০১.১০.২০২০ তারিখে আঞ্চলিক শ্রম দপ্তরের উপ-পরিচালক কাজী শহীদুল ইসলাম স্বাক্ষরিত পত্রে এই সংগঠনকে দ্বৈত সদস্যপদ বাতিল করে স্বচ্ছ ভোটার তালিকা সরবরাহের অনুরোধ জানানো হয়। পরবর্তীতে ২৮.১০.২০২০ তারিখে নির্বাচন স্থগিত করে একটি আদেশ জারী করে শ্রম ও আপিল ট্রাইবুন্যাল। সংবাদ সম্মেলনে নতুন ভোটার তালিকা প্রণয়ন করে বিধি মোতাবেক সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানের দাবি জানান নেতৃবৃন্দরা।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সভাপতি আবুল খায়ের, সহ-সভাপতি জহিরুল ইসলাম, সাধারণ কামাল হোসেন, কার্যকরী পরিষদের সদস্য মোসাদ্দেক হোসেন ও আব্দুল হেকিম।
এ প্রসঙ্গে ড্রাইভার্স ইউনিয়নের একাধিক সদস্য জানান, সকল জটঝামেলা এড়িয়ে এক মাস আগে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই নির্বাচনে যারা পরাজিত হয়েছে, মূলত তারাই নানা ঝামেলা ও টাকা আত্মসাতের মিথ্যা অপবাদ রটনা করে চলেছে।
সদ্য নির্বাচিত সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক হারুন মিয়া বলেন, আমাদের সংগঠনের ব্যানারে যারা সংবাদ সম্মেলন করেছে, তারা আসলে ভুয়া। চলতি বছরের গত ১০ জানুয়ারি জান্নাত কমিউনিটি সেন্টারে সুষ্ঠু, অবাধ, নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনারের দায়িত্ব পালন করেন মো. রওনক বখত। নির্বাচন চলাকালীন সময়ে জেলার বিশিষ্টজনেরা পরিদর্শন করেছেন। এই নির্বাচনে সারা জেলার ৩৮০৯ জন শ্রমিক ভোটার অংশ নেন। আমাদের নির্বাচিত কমিটি একটি বৈধ কমিটি। কমিটির তহবিলের টাকা কেউ আত্মসাত করেননি।