Deprecated: Required parameter $month follows optional parameter $hour in /home/sites/30a/d/d0e954554d/archive/wp-content/plugins/bangla-date-display/uCal.php on line 146

Deprecated: Required parameter $day follows optional parameter $hour in /home/sites/30a/d/d0e954554d/archive/wp-content/plugins/bangla-date-display/uCal.php on line 146

Deprecated: Required parameter $year follows optional parameter $hour in /home/sites/30a/d/d0e954554d/archive/wp-content/plugins/bangla-date-display/uCal.php on line 146

Deprecated: Required parameter $display_count follows optional parameter $sharing_type in /home/sites/30a/d/d0e954554d/archive/wp-content/plugins/sassy-social-share/public/class-sassy-social-share-public.php on line 292

Deprecated: Required parameter $total_shares follows optional parameter $sharing_type in /home/sites/30a/d/d0e954554d/archive/wp-content/plugins/sassy-social-share/public/class-sassy-social-share-public.php on line 292
‘ঢলে জমিও গেছে, বাড়ি-ঘরও ভাসাইয়া নিছে’ – সুনামগঞ্জের খবর » আঁধারচেরা আলোর ঝলক

‘ঢলে জমিও গেছে, বাড়ি-ঘরও ভাসাইয়া নিছে’

বিশেষ প্রতিনিধি
সুনামগঞ্জের করচার হাওরের উঁচু এলাকার ২৬ গ্রামের কৃষকের পাকা ধান ঢলের পানিতে ডুবেছে। বানের তোড়ে ১৫ টি বসত বাড়ি ভেসে গেছে। শুক্রবার বিকালে গজারিয়া রাবারড্যামের পাশের সড়কের দুটি অংশ ভেঙে এই বিপর্যয় দেখা দেয়। শনিবার বেলা ১১ টায় বিশ^ম্ভরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বসতভিটা হারানো পরিবারসহ ৫০ পরিবারকে সরকারের পক্ষ থেকে খাদ্য সহায়তা দিয়েছেন।
সুনামগঞ্জ সদর ও বিশ^ম্ভরপুর উপজেলার পাঁচ ইউনিয়নের কৃষকের প্রায় আট হাজার হেক্টর জমি রয়েছে করচার হাওরে। হাওরের প্রায় সাত হাজার হেক্টর জমির ধান কাটা শেষ হয়েছে সপ্তাহখানেক আগেই। কিন্তু উঁচু এলাকার জমির ধান এখনো রয়েই গেছে। এসব জমিতে বিআর ২৯ জাতের ধানের আবাদ বেশি হয়েছে। ফলনও বাম্পার হয়েছে। প্রবল বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে সুরমা ও চলতি নদীর পানি বাড়ায় গজারিয়া রাবারড্যামের পাশের সড়কের দুটি অংশ শুক্রবার বিকালে হঠাৎ করে ভেঙে প্রবল বেগে ঢুকা ঢলের পানিতে ভাদেরটেক গ্রামের আব্দুস ছাত্তার, আবুল হোসেন, ফয়জুর রহমান, আলম মিয়া, দয়াল মিয়া, তৈয়বুর মিয়া, মোহন মিয়া, শওকত আলী. মতি মিয়া, মঞ্জুর আলী, নুরুল ইসলাম, জয়নাল আবেদীন, মুজারা খাতুন, জরিনা খাতুন ও হিবজুর রহমানের বসতভিটা ভেসে গেছে।
দ্রুত বেগে পানি ঢুকে করচার হাওরের উঁচু এলাকার ফসলি জমির বেশিরভাগই ডুবে গেছে। হাওরপাড়ের সলুকাবাদ, পলাশ ও গৌররং ইউনিয়নের লালপুর, সাকতারপাড়, সোনাপুর, ভাদরপুর, ভাতেরটেক, রসুলপুর, সালামপুর, সীলপুর, চালবন্দ, গুল্লিকিতা, লামাপাড়া, জগন্নাথপুর, আলীপুর, তালেরতল, রংপুর, রণবিদ্যা, পলাশ, মাঝাইর, লালারগাঁও, পিয়ারিনগর, মাঝেরটেক, বাঘবেড়, ধরেরপাড়, ঝিনারপুর ও রামপুর গ্রামের কৃষকদের জমির পাকা ধানের জমি ডুবেছে।
ভাদেরটেকের কৃষক জয়নাল আবেদীন বললেন,‘সড়ক ভাইঙ্গা পানি যেভাবে আইছে, ধরার ছোঁয়ার মত আছিল না অবস্থা, ঘর কই নিছে খেঁাজ ঠিকানা নাই, তিন কেয়ার জমির ধানও ডুবাইয়া লাইছে।’
ষাট বছর বয়সি মুজারা খাতুন বললেন, ‘সাগরের পানি যেলাখানই আয়, ইলাখান পানি আইয়া ঘর ভাসাইয়া নিয়া গেছে, আমি অহন কিয়ানে থাকমু।’
ভাদেরটেক গ্রামের কৃষক আলামিন বললেন, করচার হাওরের উঁচু এলাকার আমল্য দাগ, ৫২ ও ৫৪ দাগ, হিঙ্গের দাইড় ও দশের দাগের বেশির ভাগ পাকা ধান পানিতে নিমজ্জিত হয়েছে। হাওরে পাকা ধান কেটে আনতে মেশিন নামানো যাচ্ছে না। শ্রমিকও পাওয়া যাচ্ছে না। বিপদে পড়েছি আমরা।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের উপ—পরিচালক বিমল চন্দ্র সোম বললেন, পাহাড়িঢলের পানি দীর্ঘস্থায়ী হয় নি। বাড়িঘরের ক্ষতি হয়েছে। কিছু ধানের জমিতে পানি ওঠেছে। উঁচু এলাকার এসব পাকা ধান কৃষকরা কেটে আনতে পারবেন। আমরা তাদের সহযোগিতা করছি।
বিশ^ম্ভরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাদি—উর—রহিম জাদিদ বললেন, গজারিয়া রাবারড্যামের পাশের দুটি অংশ পানির চাপ সামলাতে না পেরে ভেঙেছে। কিছু পরিবারের বসতভিটা ভেসে গেছে। সরকারের পক্ষ থেকে আমরা তাদের সহযোগিতা করেছি। করচার হাওরের উঁচু এলাকার কৃষকদের জমি নিমজ্জিত হয়েছে। তাদের পাকা ধান কেটে আনতেও কৃষি অফিস সহযোগিতা করছে।