স্টাফ রিপোর্টার
অকাল বন্যায় ফসল তলিয়ে যাওয়া হাওরাঞ্চল সুনামগঞ্জকে দ্রুত দুর্গত এলাকা ঘোষণা করে পর্যাপ্ত সহযোগিতার দাবি জানিয়েছেন সচেতন সুনামগঞ্জবাসী। শনিবার রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে এক মানববন্ধন কর্মসূচিতে তারা এই দাবি জানান। এজন্য প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন তারা। সেইসঙ্গে হাওরে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের দাবি জানানো হয় মানববন্ধন থেকে।
চ্যানেল কিডস এর চেয়ারম্যান ফজলুল কবীর তুহিনের সভাপতিত্বে এবং জালালাবাদ এসোসিয়েশনের নির্বাহী সদস্য মোশতাক হোসেন চৌধুরীর পরিচালনায় কর্মসূচিতে বক্তব্য রাখেন সুনামগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সাবেক এমপি মতিউর রহমান, মুক্তিযোদ্ধা সাংবাদিক সালেহ চৌধুরী, আওয়ামী লীগ নেতা অ্যাড. শফিকুল আলম, জামালগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংস্কৃতিক সম্পাদক জামিল আহমদ জুয়েল ও সুনামগঞ্জ সচেতনবাসী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
বক্তারা বলেন, হাওরের একমাত্র ফসল বোরো ধান। আর প্রায় প্রতিবছরই অকাল বন্যায় ধান তলিয়ে যায়। ভেসে যায় কৃষকের স্বপ্ন। অনিশ্চিত এক গন্তব্যে লাখো মানুষের ভবিষ্যত। যে সুনামগঞ্জ সারা দেশের তিনমাসের খাদ্যের যোগানদার, সেই সুনামগঞ্জবাসী আজ কাঁদছে। তাই দ্রুত সুনামগঞ্জকে দুর্গত এলাকা ঘোষণা করা হোক।
বক্তারা বলেন, সুনামগঞ্জে এবার ৩৬ হাওরে ৩০০ কি.মি বাঁধের জন্য ৫৫ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছিল। কাজ শুরুর কথা ছিল ডিসেম্বরের ১৫ তারিখ। শেষ হবার কথা ২৯ ফেব্রুয়ারি। কিন্তু কাজ শুরু হয়েছে মার্চ মাসে। ফলে বাঁধ টেকসই না হওয়ায় পাহাড়ি ঢলের প্রথম চাপেই ভেঙ্গে ফসলহানি ঘটে। এ পর্যন্ত জেলার প্রায় ২০টি হাওরের ফসলহানি ঘটেছে। এবার ২লক্ষ ২১ হাজার হেক্টর জমিতে ধান চাষ হয়েছিল। যার মূল্য প্রায় ৩ হাজার ২শ কোটি টাকা। পাহাড়ি ঢলে বাঁধ ভেঙ্গে, বাঁধ উপচে, শিলাবৃষ্টিতে ৭০হাজার হেক্টর জমির ধান সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে গেছে। টাকার অংকে ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৮শ ৪০ কোটি টাকা। সদর উপজেলার ঝাউয়ার হাওরের প্রায় ১ হাজার হেক্টর, তাহিরপুরের শনির হাওরের ৬হাজার ৬৩৮ হেক্টর, জগন্নাথপুরের নলুয়ার হাওর ও মইয়ার হাওরের প্রায় ১০ হাজার হেক্টর, ধর্মপাশা উপজেলার সোনাডুবি, মারাদারিয়া ও ডুবাইল হাওরে প্রায় ৩হাজার হেক্টর, খরচার হাওর ও দেখার হাওরের প্রায় ৫ হাজার হেক্টর, দিরাই উপজেলার বরাম, চাপতির হাওরের প্রায় ৫হাজার হেক্টর, টাঙ্গুয়ার হাওরের প্রায় ১হাজার হেক্টর এবং দোয়ারাবাজার উপজেলার প্রায় ২হাজার হেক্টর জমির ধান তলিয়ে গেছে। এসময় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর ক্ষতির চিত্র নিয়ে লুকোচুরি করছে বলে অভিযোগ করেন বক্তারা। আর কোনো প্রতিশ্রুতি নয়, এবার হাওরে স্থায়ী বাঁধ চান তারা। আর এজন্য প্রধানমন্ত্রীর সুদৃষ্টি কামনা করছে হাওরপাড়ের মানুষেরা।


