তথ্য নিয়ে লুকোচুরি তোপের মুখে পাউবো কর্মকর্তারা

বিন্দু তালুকদার
হাওর ডুবে ফসল তলিয়ে যাওয়ায় রোববার বিশেষ উন্নয়ন সভা আহ্বান করেন সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক শেখ রফিকুল ইসলাম। সভায় অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী এম. এ মান্নান পাউবো’র প্রধান প্রকৌশলী আব্দুল হাই’র কাছে জানতে চান,‘পিআইসি’র বরাদ্দ কত এবং ঠিকাদারের বরাদ্দ কত? এসময় পাউবো’র সিলেট অঞ্চলের আঞ্চলিক প্রধান প্রকৌশলী আব্দুল হাই বলেন,‘পিআইসি’র বরাদ্দ ২০ কোটি ৮০ লাখ এবং ঠিকাদারদের বরাদ্দ ৪৮ কোটি টাকা।’
প্রধান প্রকৌশলী মো. আব্দুল হাই নিজের পক্ষে সাফাই গেয়ে বলেন, ‘জেলায় গড়ে ৭০ ভাগ বাঁধ নির্মাণের কাজ করেছেন পিআইসি ও ঠিকাদারগণ। কিন্তু টানা বৃষ্টি ও নদীর পানি অতিরিক্তভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় বিভিন্ন হাওরের বাঁধ ভেঙেছে’।
সভায় উপস্থিত সুনামগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মোয়াজ্জেম হোসেন রতন এসময় বলেন,‘পিআইসিদের টাকা প্রদানের সময় হয়রানি করা হয়েছে। টাকা নিতে এসে পিআইসিদের ২-৩ দিন শহরে হোটেলে থাকতে হয়েছে, আগে ১০ পার্সেন্ট টাকা গুণে ঘুষ দিতে হয়েছে, এজন্য পিআইসি’রাও ঠিকভাবে কাজ করাতে পারেননি।’
সংসদ সদস্য মোয়াজ্জেম হোসেন রতনের এই বক্তব্যের পর প্রকৌশলী আব্দুল হাই উত্তেজিত হয়ে ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ করেন।
এসময় প্রতিমন্ত্রী এম. এ মান্নানসহ সংসদ সদস্যগণ ক্ষুদ্ধ হন। এছাড়া উপস্থিত অনেকেই তাকে আটক, শাস্তি ও অপসারণের  দাবি তুলেন। কেউ কেউ এসময় চিৎকার দিয়ে বলেন,‘আব্দুল হাই ও আফসর উদ্দিনকে (পাউবো’র সুনামগঞ্জের নির্বাহী প্রকৌশলী) গ্রেপ্তার করা হোক’। পরে প্রতিমন্ত্রী এম এ মান্নানের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি শান্ত হয়।
এক পর্যায়ে গণমাধ্যম কর্মীদের পক্ষে সাংবাদিক পঙ্কজ দে বাঁধ নির্মাণে অনিয়ম, দুর্নীতি এবং লুকোচুরির কিছু তথ্য তুলে ধরে বলেন, ‘অখ্যাত ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানকে ৮-১০ টি করে বাঁধের কাজ দেওয়া হয়েছে। ২৩ টি বাঁধের কাজ যখন ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান শুরুই করেনি, তখন তথ্য গোপন করে চিঠি দিয়ে উর্ধ্বতনদের জানানো হয় ১২ টির কাজ শুরু হয়নি। প্রভাবশালী ঠিকাদারদের নাম চিঠিতে উল্লেখ করা হয় নাই। পিআইসি’র বরাদ্দের ১০ কোটি ১০ লাখ টাকার তথ্যও শনিবার পর্যন্ত গোপন রাখা হয়েছে বলে সকলকে জানান সাংবাদিক পঙ্কজ দে। এই তথ্য শুনে অনেকেই পাউবো কর্মকর্তাদের উপর ক্ষুব্ধ হন। আবারও সভায় উপস্থিত অনেকেই পাউবো’র কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবার দাবি তুলেন, হৈ-চৈও শুরু করেন।
জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মতিউর রহমান এসময় পাউবো’র আঞ্চলিক প্রধান প্রকৌশলীকে উদ্দেশ্য করে বলেন,‘গণমাধ্যম কর্মীদের পক্ষ থেকে যে তথ্য তুলে ধরা হলো, এটি সঠিক না মিথ্যা ? পাউবো’র আঞ্চলিক প্রধান প্রকৌশলী আব্দুল হাই এসময় হ্যাঁ সূচক জবাব দেন। মতিউর রহমান বলেন,‘তাহলে এই অনিয়মের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।’