তদন্ত কমিটির সঙ্গে কথা বলতে চান উজির মিয়ার সাথে গ্রেপ্তারকৃতরা

বিশেষ প্রতিনিধি
শান্তিগঞ্জে পুলিশের ‘মারপিটে’ উজির মিয়া নামের এক ব্যক্তির মৃত্যুর অভিযোগের ঘটনায় জেলা প্রশাসনের করা ৩ সদস্যের তদন্ত কমিটি বৃহস্পতিবার রিপোর্ট জমা দেন নি। তবে দ্রুতই রিপোর্ট জমা দেবেন বলে জানিয়েছেন তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক। এদিকে, ৯ ফেব্রুয়ারি রাতে উজির মিয়ার সঙ্গে গ্রেপ্তার হওয়া অন্য আসামীরাও তদন্ত কমিটির সঙ্গে কথা বলতে আগ্রহী।
নিহত উজির মিয়ার সঙ্গে একই রাতে একই মামলায় গ্রেপ্তার হয়েছিলেন শত্রুমর্দন গ্রামের আক্তার মিয়া (২৬) ও শহিদ মিয়া (৩৫)। বৃহস্পতিবার এই দুইজন ওই রাতের গ্রেপ্তার ও পরবর্তী সময়ে থানায় নেবার ঘটনা জানিয়ে বললেন, তদন্ত কমিটি আমাদের কাছ থেকে ওই রাতের ঘটনা জানতে চাইলে আমরা তাদের সবকিছুই বলবো।
সহিদ মিয়া জানালেন, ১৫ জনের মতো পুলিশ সদস্য ৯ ফেব্রুয়ারি গভীর রাতে তাদের গ্রেপ্তার করে তিন বারে পাঁচাট সিএনজিতে আলাদা আলাদা করে নিয়ে যান। ওখানে নিয়ে রসুলপুরের চোর শামীম আহমদকে এক কক্ষে এবং তাদের তিনজনকে আলাদা আলাদা কক্ষে রাখেন। তাদের অভিযোগ বেধড়ক মারপিট করা হয় তাদেরও। রাত সাড়ে তিনটায় মারপিটে অসুস্থ উজির মিয়াসহ তিনজনকেই সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে ওখানে চিকিৎসা দিয়ে সকালে থানায় আনা হয়। শেষে আদালতে সোপর্দ করা হয় তাদের। গ্রেপ্তারকৃত অপর চোর শামীমকে মারপিট করা হয় নি, দাবি সহিদ মিয়ার। অপর গ্রেপ্তার হওয়া আসামী আক্তার মিয়াও একই ধরণের মন্তব্য করেন। আক্তার মিয়া জানিয়েছেন, তার মুঠোফোনটি এখনো থানায়ই আছে।
দক্ষিণ সুনামগঞ্জ থানার ওসি কাজী মুক্তাদীর হোসেন জানিয়েছেন, এই অভিযোগে পুলিশ কর্মকর্তাদের দিয়ে করা তদন্ত কমিটির সদস্যগণ বৃহস্পতিবার তাদের মত করে তদন্ত কাজ করেছেন।
জেলা প্রশাসনের করা ৩ সদস্যের তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আনোয়ার—উল—হালিম জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবার এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত (বিকাল ৬ টা) তাঁদের করা তদন্ত রিপোর্ট জমা দেওয়া সম্ভব হয় নি। তবে দ্রুতই রিপোর্ট জমা দেবেন তারা।
পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান বৃহস্পতিবার বলেছেন, উজির মিয়ার পরিবারের অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করার জন্য ৩ সদস্যের কমিটি কাজ করছেন। তিনি গণমাধ্যম কর্মীসহ সংশ্লিষ্ট সকলকে এই বিষয়ে সহযোগিতার আহ্বান করেন।
প্রসঙ্গত. গত ৯ ফেব্রুয়ারি রাতে পুলিশ শত্রুমর্দন গ্রামের উজির মিয়াসহ ৩ জনকে গরু চুরির অভিযোগে গ্রেপ্তার করে শান্তিগঞ্জ থানা পুলিশ। অসুস্থ্য উজির মিয়াকে সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে চিকিৎসা দিয়ে ১০ ফেব্রুয়ারি আদালতে হাজির করা হয়। আদালত থেকে জামিন নিয়ে, ওইদিনই সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নেন উজির মিয়া। কয়েকদিন পর বাড়ি ফিরেন তিনি। সোমবার আবার অসুস্থতা বোধ করলে সকালে তাকে কৈতক হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। ওখানেই কর্তব্যরত ডাক্তাররা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এরপর তার মরদেহ সড়কে রেখে অবরোধে নামেন স্বজনসহ হাজারো মানুষ। সোমবার তিনঘণ্টারও বেশি সময় সুনামগঞ্জ—সিলেট সড়ক অবরোধ করে রাখেন তারা। এ ঘটনায় শান্তিগঞ্জ থানার সাবইন্সপেক্টর দেবাশীষ সুত্রধর, এসআই পার্ডন কুমার সিংহ ও এএস আই আক্তারুজ্জামানকে দায়ী করছে উজির মিয়ার পরিবার।
পুলিশ সুপারের নির্দেশে বুধবার এসআই দেবাশীষকে শান্তিগঞ্জ থেকে দিরাই থনায় বদলি করা হয়েছে।