তরমুজ চাষে আগ্রহ বেড়েছে তাহিরপুরের কৃষকদের

আমিনুল ইসলাম, তাহিরপুর
তাহিরপুরে কৃষকদের তরমুজ চাষে আগ্রহ বেড়েছে, ফলন ভাল হওয়ায় দিন দিন তরমুজ চাষের দিকে কৃষকরা ঝুকে পড়েছে।
জানা যায়,সুনামগঞ্জ জেলার তাহিরপুর উপজেলায় গত এক দশক পূর্বেও কোন কৃষক বাণিজ্যিক ভাবে তরমুজ চাষাবাদ করতেন না। সম্প্রতি বছর পাঁচেক ধরে তাহিরপুরের বাদাঘাট ইাউনিয়নের লামাশ্রম, বিন্নাকুলী, লাউড়েগড়, মোকশেদপুর, ঢালারপাড়সহ আশপাশের এলাকার হাতে গুনা কয়েক কৃষক তরমুজ চাষাবাদ করে ভাল ফলনে লাভবান হন। এ থেকেই বর্তমানে এখানকার অধিকাংশ কৃষক তরমুজ চাষে ঝুঁকে পড়েছে ।
তাহিরপুর উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, চলতি বছর উপজেলায় প্রায় ৪ শ হেক্টর জমিতে তরমুজ চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারন করা হয়েছে। সরজমিনে ঐ সমস্ত এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, অনেকেই তাদের ধানী জমিতে ধান চাষ না করে তরমুজ চাষাবাদ করছেন। এলাকার কৃষকরা জানান, বর্ষায় পাহাড়ী ঢলে জমিতে মাত্রাতিরিক্ত পলি-বালি পরে তাদের জমি ধান চাষের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। সে থেকে ঐ এলাকার কৃষকরা পলি-বালি পরা জমিতে তরমুজ চাষাবাদ করছেন এবং বর্তমানে অধিক ফলনও পাচ্ছেন তারা।
লামাশ্রম গ্রামের কৃষক আব্দুল রশিদ জানান, বীজ বপন থেকে শুরু করে ফলন পর্যন্ত প্রতি একর জমি তরমুজ চাষাবাদে খরচ পরে ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা আর তা থেকে লক্ষাধিক টাকার মত তরমুজ বিক্রি করা যায়। স্থানীয় হাট-বাজারে গিয়েও দেখা যায় প্রতিটি তরমুজ নি¤েœ ৫০ থেকে ১শ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এবং তা স্থানীয় বাজারের চাহিদা মিটিয়ে আশ-পাশের জেলা উপজেলায় বিক্রি হচ্ছে।বাদাঘাট ইউনিয়ন উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা আবুল হাসান বলেন, ফলন বিপর্যয়ের কথা চিন্তা করে প্রথম দিকে কৃষকরা তরমুজ চাষাবাদ করতে ভয় পেত,বর্তমানে ফলন ভাল হওয়ায় কৃষকরা কৃষকদের তরমুজ চাষে আগ্রহ বেড়েছে।
তাহিরপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো: হাসান-উদ-দৌলা বলেন, বছর তিনেক ধরে এ অঞ্চলে পাহাড়ি ঢলে পলি-বালি পরে এখানকার ধান চাষের জমিগুলো ধান চাষের অনুপযোগী হয়ে পরে। বর্তমানে এ মাটি তরমুজ চাষের উপযোগী হওয়ায় এখানকার কৃষকরা তরমুজ চাষে ঝুঁকে পড়েছে এবং ভাল ফলনও পাচ্ছে।