তলিয়ে গেল মুক্তারখলা হাওরের ধান

ধর্মপাশা প্রতিনিধি
মধ্যনগর উপজেলার বংশীকুন্ডা দক্ষিণ ইউনিয়নের মুক্তারখলা হাওরের পাওধোয়া বাঁধ ভেঙে বোরো ফসল তলিয়ে যেতে শুরু করেছে। শুক্রবার সকালে সাড়ে সাতটার দিকে এ বাঁধ ভেঙে যায়। স্থানীয় কৃষি অধিদপ্তরের তথ্য মতে, ওইদিন বিকেল পর্যন্ত অন্তত ৫০ হেক্টর জমির ফসল তলিয়ে গেছে। স্থানীয়রা বলছেন এ ক্ষতি আরো বাড়বে। এ নিয়ে ধর্মপাশা ও মধ্যনগরে ৯৬৫ হেক্টর জমির ফসল তলিয়ে গেছে।
মুক্তারখলা পাওধোয়া বাঁধসহ বংশীকুন্ডা দক্ষিণ ও বংশীকুন্ডা উত্তর ইউনিয়নের অন্তত দশটি বাঁধ পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রকল্পের আওতায় আসেনি। গত ২ এপ্রিল তাহিরপুর উপজেলার নজরখালী বাঁধ ভেঙ্গে যাওয়ার পর থেকেই দুটি ইউনিয়নের বাঁধগুলোর ঝুঁকি বেড়ে যায়। তখন থেকেই স্থানীয় কৃষকসহ নানা শ্রেণি পেশার মানুষ বাঁধ মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণের কাজ শুরু করে। কিন্তু শুক্রবার সকালে পানির তোড়ে বাঁধটি ভেঙে যায়।
রংচি গ্রামের কৃষক আব্দুস সালাম বলেন, ‘তাহিরপুর উপজেলার নজরখালী বাঁধটির প্রতি সরকারের সুদৃষ্টি থাকলে মধ্যনগর উপজেলার টাঙ্গুয়ার হাওর অংশের ফসল রক্ষা পেতো।
মুক্তারখলা হাওরের কৃষক তোফায়েল আহমেদ বলেন, ‘মুক্তারখলাসহ বংশীকুন্ডা দক্ষিণ ইউনিয়নের সকল বাঁধ পানি উন্নয়ন বোর্ডের অধীনে অন্তর্ভুক্ত করা উচিত। তাহলে আমাদেরকে আর এতো উদ্বিগ্ন হতে হবে না।’
বংশীকুন্ডা দক্ষিণ ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান রাসেল আহমদ বলেন, ‘বাঁধটি রক্ষায় অনেক চেষ্টা করা হয়েছে। কিন্তু বাঁধটি ভেঙে যাওয়ায় কৃষকের অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে।’
ধর্মপাশা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নাজমুল ইসলাম বলেন, ‘মুক্তারখলা বাঁধটি পাউবোর অন্তর্ভূক্ত নয়। এ বাঁধ ভাঙার ফলে ৫০ হেক্টর জমির ধানসহ এখন পর্যন্ত মোট ৯৬৫ হেক্টর জমির ফসল পানিতে নিমজ্জিত হয়েছে।’
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুনতাসির হাসান বলেন, ‘কৃষকের ফসল রক্ষায় ঝুঁকিপূর্ণ বাঁধগুলো রক্ষণাবেক্ষণে প্রশাসন সার্বক্ষণিক মাঠ পর্যায়ে কাজ করে যাচ্ছে। এতে স্থানীয়রাও সহযোগিতা করছে।’