স্টাফ রিপোর্টার
সকল কাজে আমরা তাঁর সাহস ও অনুপ্রেরণা পেয়েছি। পত্রিকা প্রকাশের পেছনে তাঁর অনুপ্রেরণা ও দিক নির্দেশনা আমাদের সাহস যুগিয়েছে। হাওর আন্দোলন সহ বিভিন্ন সামাজিক সাংস্কৃতিক আন্দোলনে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। ন্যায় ও সততার প্রশ্নে অপোষহীন ছিলেন বজলুল মজিদ চৌধুরী খসরু। একজন সুশৃঙ্খল, গোছানো ও পরিপাটি মানুষ ছিলেন তিনি। সারা দেশের মধ্যে সুনামগঞ্জ জেলাতেই প্রথম ব্যাংক একাউন্টের মাধ্যমে মুক্তিযোদ্ধাদের ভাতা প্রদান কার্যক্রম শুরু হয় তাঁরই হাত ধরে।
বক্তারা বলেন, প্রয়াত বজলুল মজিদ চৌধুরী খসরু যে আত্মজীবনী লিখে গেছেন তা প্রকাশের উদ্যোগ নেয়া হবে। সুনামগঞ্জের খবরেও ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হবে। এর মাধ্যমে তাঁর দৃঢ়তা, সৃজনশীলতা, বিভিন্ন ক্ষেত্রে সাহসী ভূমিকা নতুন প্রজন্ম জানতে পারবে। সর্বোপরি তাঁর আদর্শ আমাদের ধারণ করতে হবে। তাঁর পথচলার দৃষ্টিভঙ্গি আমাদের অনুসরণ করতে হবে, তাহলেই তিনি আমাদের মাঝে বেঁচে থাকবেন।
বৃহস্পতিবার রাতে দৈনিক সুনামগঞ্জের খবর কার্যালয়ে বীর মুক্তিযোদ্ধা সুনামগঞ্জের বিশিষ্ট আইনজীবী, কলামিস্ট, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক গবেষক, দৈনিক সুনামগঞ্জের খবর এর উপদেষ্টা সম্পাদক বজলুল মজিদ চৌধুরী খসরু স্মরণে আয়োজিত শোকসভায় বক্তারা এসব কথা বলেন। কবি কুমার সৌরভ এর সভাপতিত্বে শোকসভায় বক্তব্য রাখেন দৈনিক সুনামগঞ্জের খবর এর সম্পাদক ও প্রকাশক পঙ্কজ কান্তি দে, প্রথম আলো সিলেটের নিজস্ব প্রতিবেদক উজ্জ্বল মেহেদী, দৈনিক সুনামগঞ্জের খবর এর সহকারী সম্পাদক অ্যাড. এনাম আহমদ, অ্যাড. মাহবুবুল হাছার শাহীন, জাহাঙ্গীর আলম, প্রথমআলো সুনামগঞ্জের নিজস্ব প্রতিবেদক অ্যাড. খলিল রহমান, বিটিভি’র সিলেট প্রতিনিধি মুক্তাদির আহমদ মুক্তা, এনটিভি’র জেলা প্রতিনিধি দেওয়ান গিয়াস চৌধুরী, চ্যানেল ২৪ এর জেলা প্রতিনিধি অ্যাড. এ আর জুয়েল, দৈনিক সুনামগঞ্জের খবর এর বার্তা সম্পাদক সজীব দে, যুগ্ম বার্তা সম্পাদক আকরাম উদ্দিন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন দৈনিক সুনামগঞ্জের খবর এর স্টাফ রিপোর্টার আসাদ মনি।
বক্তারা বলেন, আমরা তিনজন উপদেষ্টা সম্পাদকের মধ্যে মঈনুদ্দিন আহমদ জালালকে হারিয়েছি দুই বছর আগে। বুধবার হারালাম আরেকজনকে। যিনি গত ২৫ বছর ধরে আমাদের মাথার উপর ছায়া হয়ে ছিলেন। যে কোন বিষয়ে তাঁর দক্ষতা ছিল প্রশ্নাতীত। যে কোন অনুষ্ঠানে বা কাজে তাঁর উপস্থিতি আমাদের সাহস যুগিয়েছে। সৃজনশীল এবং জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সংবাদের উপর আমরা তাঁর নামে পদক প্রবর্তন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। যা পত্রিকার বর্ষপূর্তি অনুষ্ঠানে দেয়া হবে। এসময় দ্রুততম সময়ে তাঁর নামে স্মরণিকা প্রকাশ এবং নাগরিক শোকসভা করার আহবান জানান বক্তারা।
বক্তারা বলেন, দেশে বিদেশে তাঁর অসংখ্য অনুরাগী আছেন। যে কোন ক্রাইসিস মুহূর্তে সকলেই তাঁর স্মরণাপন্ন হতো। সর্বমহলের কাছে একজন গ্রহণযোগ্য ব্যক্তি ছিলেন বজলুল মজিদ খসরু। তিনি নেই এটা ভাবাই যায় না।



