বিশেষ প্রতিনিধি, সিলেট থেকে
সিলেটের আদালতে গ্রেপ্তারি পরোয়ানার পর পালিয়ে ভারত চলে যাওয়া শিল্পপতি রাগীব আলী ও ছেলে আবদুল হাইয়ের বিরুদ্ধে মন্ত্রণালয়ের স্বাক্ষর জালিয়াতি মামলায় আদালতে অভিযোগ গঠন হয়েছে। সোমবার দুপুরে সিলেটের মহানগর ম্খ্যু বিচারিক হাকিম মো. সাইফুজ্জামান হিরোর আদালতে অভিযোগ গঠন হয়। পরে আগামী ১৩ অক্টোবর থেকে সাক্ষ্য গ্রহণের তারিখ ধার্য করা হয়েছে।
অপর মামলায় পলাতক রাগীব আলীর মেয়ে রোজিনা কাদির ও মেয়ের জামাই আবদুল কাদিরের মালামাল ক্রোকের আদেশ দিয়েছেন আদালত। এ মামলায় আসামি তারাপুর চা বাগানের দেবোত্তর সম্পত্তির সেবায়েত পংকজ কুমার গুপ্তকে স্থায়ী জামিন দিয়েছেন আদালত।
আদালতের অতিরিক্ত সরকারি কৌঁসুলি (অতিরিক্ত পিপি) মাহফুজুর রহমান এ তথ্য নিশ্চিত করে জানান, ভূমি মন্ত্রণালয়ের স্বাক্ষর জালিয়াতির মামলায় রাগীব আলী ও ছেলে আবদুল হাইয়ের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে সাক্ষ্য গ্রহণের তারিখ ধার্য্য করা হয়েছে। ভুয়া আমমোক্তারনামার মাধ্যমে হাজার কোটি টাকা আত্মসাৎ ও প্রতারণার অভিযোগে অপর মামলার পলাতক রাগীব আলীর মেয়ে ও জামাতার মালামাল ক্রোক করে আগামী ১৩ অক্টোবরের মধ্যে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করতে সিলেট কোতোয়ালি থানাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ মামলার অভিযুক্ত ছয় আসামির একজন সেবায়েত পংকজ কুমার গুপ্ত আদালতে নিয়মিত হাজির হওয়ায় স্থায়ী জামিন দিয়েছেন।
আদালত সূত্র জানায়, দেবোত্তর সম্পত্তির তারাপুর চা-বাগানের জায়গায় বিধি বহির্ভূতভাবে স্থাপনা নির্মাণ করায় ১৯৯৯ সালের ২৫ আগস্ট ভূমি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত তৎকালীন সংসদীয় স্থায়ী কমিটি তদন্ত করে সত্যতা পায়। পরবর্তীতে সংসদীয় উপকমিটি চা-বাগানে অবৈধ দখলদারদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থার নেওয়ার সুপারিশ করে। ২০০৫ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর তৎকালীন সিলেট সদর ভূমি কমিশনার এসএম আবদুল কাদের বাদী হয়ে সিলেট কোতোয়ালি থানায় দুটো মামলা করেন। পরবর্তীতে এ মামলা উচ্চ আদালত থেকে স্থগিত করা হয় এবং পুলিশ তদন্ত করে আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দিয়েছিল।
গত ১৯ জানুয়ারি প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের একটি পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ দেবোত্তর সম্পত্তির তারাপুর চা-বাগান পুনরুদ্ধারে রায় দেন। এতে ওই দুটো মামলা সক্রিয় করার নির্দেশনাও দেওয়া হয়। ১৬ মার্চ সরকারি কৌঁসুলির (পিপি) আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সিলেটের মুখ্য মহানগর হাকিম তদন্তের নির্দেশ দেন। ১০ জুলাই পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) তদন্ত করে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করে।
পৃথক দুটো অভিযোগপত্রে ভুমি মন্ত্রণালয়ের স্মারক (চিঠি) জালিয়াতির মামলায় রাগীব আলী (৭৫) ও তাঁর একমাত্র ছেলে আবদুল হাইকে (৪৫), প্রচারণার মামলায় রাগীব আলী, ছেলে আবদুল হাই, মেয়ের জামাই আবদুল কাদির (৫৫), মেয়ে রুজিনা কাদির (৪৮), রাগীবের আত্মীয় মৌলভীবাজারের রাজনগরের বাসিন্দা দেওয়ান মোস্তাক মজিদ (৫৫) ও তারাপুর চা-বাগানের সেবায়েত পংকজ কুমার গুপ্ত।
১০ আগষ্ট অভিযোগপত্র আদালত গ্রহণ করে ছয় আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন। পরোয়ানা পেয়েই ওই দিন সন্ধ্যায় রাগীব আলী ছেলেকে নিয়ে জকিগঞ্জ হয়ে ভারতের করিমগঞ্জ পালিয়ে যান। রাগীব আলীর সঙ্গে অভিযুক্ত হওয়া দেবোত্তর সম্পত্তির সেবায়েত পঙ্কজ কুমার গুপ্ত আদালতে হাজির হলে তাঁকে জামিন দেওয়া হয়।
স্থায়ী জামিন হওয়ার প্রতিক্রিয়ায় পঙ্কজ কুমার গুপ্ত গতকাল বলেন,‘আমাকে জিম্মি করে চা বাগানের দখল নেওয়া হয়েছিল। আমি রাগীব আলীর প্রভাবের কারণে দেশছাড়া ছিলাম। উচ্চ আদালত দেবোত্তর সম্পত্তি পুনরুদ্ধারে রায় দিলে সেবায়েত হিসেবে আমি দায়িত্ব গ্রহণ করি। আগেও আমি এ সম্পত্তির একজন সেবায়েত ছিলাম। আমাকে রাগীব আলীর প্রভাবেই দূরভিসন্ধিমূলকভাবে অভিযুক্ত করা হয়েছে। এখন আশা করছি, আমি ন্যায়বিচার পাব।’


