এনামুল হক এনি
সুবিধাবঞ্চিত পরিবারের সন্তানদের অনেকেই আর্থিক অনটনের কারণে শিক্ষা কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে পারে না। অস্বচ্ছল পরিবারের অর্থ উপার্জনকারী সদস্য হতে হয় কিশোর বয়সেই। কিন্তু যারা এমন অবস্থায় পড়েও পরিবারের সদস্যদের দু’মুঠো অন্নের যোগান দেবার পাশাপাশি, বড় স্বপ্নের আশায় পড়াশুনা চালিয়ে যায় এমন শিক্ষার্থীও ছিল সকল কালেই। দৈনিক সুনামগঞ্জের খবরের বিভিন্ন উপজেলার স্টাফ রিপোর্টার ও প্রতিনিধিরা এমন কিছু শিক্ষার্থীদের খুঁজে বের করেছেন। যারা নিঃসন্দেহে শিক্ষা-সংগ্রামী। এরকম শিক্ষা সংগ্রামীরা আমাদের আশপাশেই হয়তো অনেকে আছে। আমরা তাদের কথা জা
নি না।
সায়মা জাহান ফনি
চার বোন এক ভাইয়ের মধ্যে সায়মা জাহান ফনি দ্বিতীয়। ধর্মপাশা উপজেলার সেলবরষ ইউনিয়নের কামিয়াম গ্রামের দিনমজুর মো. সাদেক জামানের মেয়ে সায়মা। সে এবার এসএসসি পরীক্ষায় উপজেলার বাদশাগঞ্জ পাবলিক হাই স্কুল থেকে বিজ্ঞান বিভাগে ৪.৬৪ পেয়ে উত্তীর্ণ হয়েছে। এসএসির চূড়ান্ত পরীক্ষা চলাকালে সায়মা বসন্ত রোগে আক্রান্ত হয়েছিল। তার শারীরিক অসুস্থতা জিপিএ-৫ পাওয়ার প্রত্যাশায় কিছুটা গতিরোধ করেছিল। তখন তাকে বিশেষ ব্যবস্থায় পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে হয়েছিল। নেত্রকোনা সরকারি মহিলা কলেজে বিজ্ঞান বিভাগে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি হয়েছে সে। কোনো রকমে শুভেচ্ছা ক্লাসে অংশগ্রহণ করতে পারলেও আর্থিক অভাবে স্থায়ীভাবে নেত্রকোনায় স্থানান্তর হতে না পারার কারণে কোনো ক্লাসে অংশগ্রহণ করতে পারছে না সায়মা। পড়াশোনার পাশাপাশি টিউশনি করছে অনেক আগে থেকেই। আর্থিক অস্বচ্ছলতার কারণে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তাকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করেছে। এখনো বাড়িতে থেকে টিউশনি করে পরিবারকে সহায়তা করছে সে। জায়গা জমি বলতে নিজেদের থাকার বসতভিটা ছাড়া কিছুই নেই তাদের। সায়মার বড় বোন ডিগ্রি শেষ বর্ষের শিক্ষার্থী, আর্থিক অনটনের কারণে ছোট বোনের পড়াশোনা অষ্টম শ্রেণিতে এসে বন্ধ হয়ে গেছে, আরেক ছোটবোন পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ছে। একমাত্র ছোট ভাই স্থানীয় প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিশু শ্রেণির শিক্ষার্থী। সায়মার ৭০ বছর বয়সী বাবাও আগের মতো কাজ করে রোজগার করতে পারেন না। ফলে দরিদ্র বাবার সামর্থ নেই সায়মাকে মেসে বা হোস্টেলে রেখে পড়াশোনা করানোর। সহযোগিতা পেলে পূরণ হতে পারে সায়মার ডাক্তার হওয়ার স্বপ্ন।
মাহবুব আলম
টিউশনির টাকায় মা, বড় বোন ও ছোট ভাইয়ের খরচ চালানোর পাশাপাশি নিজের পড়াশোনার খরচ যোগাচ্ছে মাহবুব আলম। মাহবুব আলম দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলার উজানীগাঁও গ্রামের মৃত আব্দুল হান্নানের তৃতীয় ছেলে। এবারের এসএসসি পরীক্ষায় জয়কলস উজানীগাঁও রশিদিয়া উচ্চ বিদ্যালয় থেকে বিজ্ঞান বিভাগে জিপিএ ৪.৬৮ পেয়ে উত্তীর্ণ হয়েছে। নিজের প্রচেষ্টায় ভর্তি হয়েছে সিলেট পলিটেকনিক্যাল ইন্সস্টিটিউটে ইলেকট্রিকেল টেকনোলজি বিষয়ে। বাবার মৃত্যুর পর তার বড় ভাই মো. মোস্তাকিন আহমদ শিবলু পড়াশোনা ছেড়ে দিয়ে সংসারের হাল ধরতে ঢাকায় একটি ক্লিনিকে সিকিউরিটি গার্ডের কাজ নেন। ভাইয়ের বেতনে সংসার চলতেই যেখানে হিমশিম খেতে হয় সেখানে মাহবুবের পড়াশোনার খরচ চালানো বেশ কঠিন। তার বড় বোন ডিগ্রি শেষ বর্ষে ও ছোট ভাই দ্বিতীয় শ্রেণিতে পড়ছে। বড় ভাইয়ের টাকার পাশাপাশি মাহবুবের টিউশনির টাকায় চলছে সংসারের সব খরচ। নিজেদের কোনো জায়গা জমি না থাকায় জয়কলস ইউনিয়ন পরিষদের একটি পরিত্যক্ত কক্ষে পরিবারের লোকজনকে নিয়ে এক যুগেরও বেশি সময় ধরে বসবাস করছে তারা। মাহবুবের সামনে এখন এক বিরাট চ্যালেঞ্জ। একদিকে পরিবার অন্যদিকে সিলেট থেকে নিজের পড়াশোনা চালানো। কোন দিক সামলাবে সে?
প্রতিবেদক : জমিরুল ইসলাম মমতাজ
পিনু বৈষ্ণব
দিরাই পৌরসদরের শুকুর নগর গ্রামের হতদরিদ্র পরিবারের সন্তান পিনু বৈষ্ণব। জন্ম থেকেই দারিদ্র্যতার সাথে যুদ্ধ করে বেড়ে উঠা তার। বাবা পরিতোষ বৈষ্ণব ছিলেন হৃদরোগী। বাবার চিকিৎসা এবং একমাত্র বোনের বিয়েতে নিজেদের জমিজমা বিক্রি করতে হয় তাদের। বোনের বিয়ের কিছুদিন পরই পিনুর বাবার মৃত্যু হয়। তখন পিনু ৮ম শ্রেণির ছাত্র। বাবার মৃত্যুর পর পিনু ও তার বড় ভাই পলাশ বৈষ্ণবের লেখাপড়া বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়। তবুও আশা ছাড়েনি পিনু ও তার বড় ভাই। দুই ভাই মিলে সিদ্ধান্ত নেয় নিজেরাই টাকা রোজগার করে সংসার ও লেখাপড়ার খরচ চালানোর। শুরু হয় তাদের সংগ্রামী জীবন। পিনু নবম শ্রেণিতে ওঠেই টিউশনি শুরু করে। পাশাপাশি দিরাই সদরে একটি লাইব্রেরিতে পার্টটাইম কাজ নেয় সে। টিউশনি ও লাইব্রেরি থেকে প্রাপ্ত আয় দিয়ে চলে নিজের পড়াশোনা ও সংসারের খরচ। পিছিয়ে থাকে না বড় ভাই পলাশও। সেও যখন যেখানে কাজ পেয়েছে সেই কাজ করে সংসারে সহযোগিতা করেছে। পলাশ এখন দিরাই সেন মার্কেটে একটি টেইলার্সের দোকানে কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করছে। দারিদ্রতার কারণে পলাশের লেখাপড়া বন্ধ হয়ে গিয়েছিল, কিন্তু সে উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পড়াশুনা চালিয়ে যাচ্ছে। পিনু ২০১৪ সালে দিরাই উচ্চ বিদ্যালয়ে এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে বাণিজ্য বিভাগ থেকে জিপিএ ৪.৬৪ ও ২০১৬ সালে দিরাই ডিগ্রি কলেজে এইচএসসি পরীক্ষায় বাণিজ্য বিভাগে অংশগ্রহণ করে জিপিএ ৪.৮৩ পেয়ে উত্তীর্ণ হয়। পিনু এখন সিলেট মদন মোহন কলেজে হিসাব বিজ্ঞান বিভাগের প্রথম বর্ষের ছাত্র। এখনো তার পড়াশোনার খরচ চলছে টিউশনি করে। সিলেটে একটি প্রাইভেট ক্লিনিকেও সে কাজ করেছে কিছুদিন। নতুন কাজের সন্ধান চলছে প্রতিনিয়ত। টিউশনি করে পড়াশোনার খরচ চালিয়ে সংসারের খরচ বহন করতে গিয়ে তাকে রীতিমত হিমশিম খেতে হচ্ছে। 
অমিত দাস
সিলেট এমসি কলেজের ইংরেজি বিভাগের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী অমিত দাস। ক’দিন পরই প্রথম বর্ষের চূড়ান্ত পরীক্ষা তার। অথচ এই সময়ে তাকে সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত ছুটতে হচ্ছে একটি কোম্পানির মার্কেটিংয়ের কাজে। সেখান থেকে ফিরে খেয়ে না খেয়ে টিউশনির জন্য ফের ছুটে চলা। সারাদিনের হাড়ভাঙ্গা পরিশ্রমের পর রাতের বেলায় যখন বিশ্রাম নেওয়ার কথা তখন তার সুযোগ হয় পড়তে বসার। এক বড় ভাইয়ের মেসে অতিথি হিসেবে থাকার ব্যবস্থা হয়েছে তার। খাবার খেতে যেতে হয় অন্য একটি মেসে। অমিতের বাড়ি দিরাই উপজেলার সরমঙ্গল ইউনিয়নের মাহতাবপুর গ্রামে। বাড়ি থেকে আসার সময় এক আত্মীয়ের কাছ থেকে ৮ হাজার টাকা ধার নিয়ে এসেছে। আসার সময় কথা দিয়ে এসেছে কাজ করে সেই টাকা পরিশোধ করতে হবে তাকে। অমিত পরিবারের বড় সন্তান। অমিত যখন ৭ম শ্রেণির ছাত্র তখন তার বাবা অসিত দাস পরলোকগমন করেন। বাবার মৃত্যুর পর যেটুকু জমি ছিল তা বন্ধক দিয়ে পরিবারের খরচ চলেছে। কিছু জমিতে অমিত তার ছোট ভাই সৈকতকে নিয়ে চাষাবাদ করে সংসারের ও তার পড়াশোনার খরচ বহন করেছে। টাকার বিনিময়ে কাজ করেছে অন্যের জমিতে। পাশাপাশি করেছে টিউশনি। অমিত ২০১৪ সালে হাছিমপুর এইচএমপি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পরীক্ষায় মানবিক বিভাগে জিপিএ ৪.৮৮ ও ২০১৬ সালে দিরাই ডিগ্রি কলেজ থেকে এইচএসসি পরীক্ষায় মানবিক বিভাগে ৪.৭৫ পেয়ে উত্তীর্ণ হয়। অমিতের এক ছোট ভাই ও দুই ছোট বোন শিক্ষার্থী। একদিকে ৮ হাজার টাকা ঋণের বোঝা অন্যদিকে মা ও ভাই বোনদের এবং নিজের পড়াশোনার খরচ যোগাতে দিগি¦দিক ছুটছে মেধাবী তরুণ অমিত।
প্রতিবেদক : আবু হানিফ চৌধুরী
নূর মোহাম্মদ
নূর মোহাম্মদ বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার বিশ্বম্ভরপুর গ্রামের কৃষক মো. আফতাব উদ্দিনের বড় ছেলে। এবারের এসএসসি পরীক্ষায় বিশ্বম্ভরপুর মডেল উচ্চ বিদ্যালয় থেকে বিজ্ঞান বিভাগে জিপিএ ৪.২৭ পেয়ে উত্তীর্ণ হয়েছে সে। একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি হয়েছে দিগেন্দ্র বর্মণ ডিগ্রি কলেজে বিজ্ঞান বিভাগে। নূর মোহাম্মদ জেএসসিতে ৪.১৭ ও পিএসসিতে জিপিএ ৫ পেয়েছিল। মা, বাবা, ভাই, বোন নিয়ে তাদের পরিবারের সদস্য সংখ্যা ৬ জন। বাবার সামান্য আয়ে তাদের চলতে হিমশিম খেতে হয়। পরিবারের ও নিজের পড়াশোনার খরচ যোগাতে মাঝে মাঝে নূর মোহাম্মদকে দিন মজুরের কাজ করতে হয়। অদম্য ইচ্ছা শক্তিকে কাজে লাগিয়ে নিজের পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে সে।
প্রতিবেদক : স্বপন কুমার বর্মণ
ঝলক দাস
ঝলক দাসের বাড়ি দোয়ারাবাজার উপজেলার সদর ইউনিয়নের মংলারগাঁও গ্রামে। দিনমজুর বাবা গোপাল দাসের পাশাপাশি স্থানীয় একটি হার্ডওয়্যারের দোকানে চাকরি করে সে সংসার ও নিজের লেখাপড়ার খরচ চালিয়ে যাচ্ছে। তিন ভাই এক বোনের মধ্যে ঝলক সবার বড়। এবারের এসএসএসি পরীক্ষায় দোয়ারাবাজার মডেল উচ্চ বিদ্যালয় থেকে মানবিক বিভাগে ৩.৯৫ পেয়ে উত্তীর্ণ হয়েছে। একাদশ শ্রেণিতে মানবিক বিভাগে ভর্তি হয়েছে দোয়ারাবাজার ডিগ্রি কলেজে। কলেজে ভর্তির ৩ হাজার ২ শত টাকা যোগাড় করতে তাকে হিমশিম খেতে হয়েছে। নিজেদের কোনো জমি নেই। একটি ছোট্ট ঘরে গাদাগাদি করে পরিবারের লোকজনকে নিয়ে বসবাস করছে ঝলক দাস।
প্রতিবেদক : আসিক মিয়া
প্রণব দাস
জগন্নাথপুর উপজেলার কলকলিয়া ইউনিয়নের কলকলিয়া এলাকায় ছোট একটি খুপরিতে অন্যের বাড়িতে মায়ের সঙ্গে থাকে প্রণব দাস। বাবা মারা যাওয়ার পর দুই ভাই এক বোনকে নিয়ে অসহায় মাকে নিয়ে কাকা নিরঞ্জন দাসের বাড়িতে একটি খুপরিতে সবাইকে নিয়ে থাকছে তারা। বাড়ি বাড়ি ঝিয়ের কাজ করে ছেলে মেয়েদের ভরণপোষণ ও পড়ালেখার খরচ জোগানোর চেষ্টা করেন মা। মাকে সহযোগিতা ও নিজের পড়ালেখার খরচ জোগাতে মাছ ধরে তা বাজারে বিক্রি করে প্রণব। কলকলিয়া ইউনিয়নের আটপাড়া উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এবার বিজ্ঞান বিভাগে ৪.৭৭ পেয়ে শাহজালাল মহাবিদ্যালয়ে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি হয়েছে সে। শাহজালাল মহাবিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ এমএ মতিন জানান, আর্থিক অসঙ্গতির কথা জানতে পেরে আমরা প্রণবকে কলেজে বিনা ফি’তে ভর্তির ব্যবস্থা করেছি।
জীবন সংগ্রামে হার না মানা অদম্য মেধাবী প্রণব দাসের মা প্রভাষী রানী দাস বলেন, ‘অভাবের সংসার ছেলেটি অনেক দিন না খেয়ে স্কুলে গেছে। পরিবারের খরচ জোগাতে মাছ ধরা ও বিক্রির কাজ করেছে। পড়ালেখার প্রতি বিশেষ টান থাকায় গ্রামের লিকন দাসের বাড়িতে গিয়ে বাংলাঘরে থেকে পড়ালেখা করেছে। পড়াশোনার ফাঁকে ফাঁকে সকালে ও সন্ধ্যায় টিউশনি করছে। কলেজে অধ্যক্ষের সহযোগিতায় ভর্তি হয়েছে। ঝিয়ের কাজ করে বই কেনা, সংসার চালানো ও কীভাবে পড়ালেখার খরচ চালাব চিন্তায় আছি।’
তিনি জানান, দুই ভাই এক বোনের মধ্যে দ্বিতীয় প্রণব। বড় ছেলে বিয়ে করে সবাইকে ছেড়ে অন্যত্র চলে গেছে, ছোট মেয়ে ব্র্যাক স্কুলে চতুর্থ শ্রেণিতে পড়ে।
আর্থিক অসঙ্গতির কারণে এখনো প্রণবের বই কেনা হয়নি।
শাহজালাল মহাবিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা অধ্যক্ষ এম এ মতিন সুনামগঞ্জের খবর কে বলেন,‘জীবনসংগ্রামে হার না মানা প্রণবের মতো শিক্ষাসংগ্রামী প্রণবদের সহযোগিতায় সকলেরই এগিয়ে আসা প্রয়োজন।’
প্রতিবেদক : অমিত দেব
অনীক পাল
অনীক পাল। সুনামগঞ্জ শহরের একটি কুরিয়ার সার্ভিসের (সুন্দরবন কুরিয়ার সার্ভিস) ‘বদলি ম্যাসেঞ্জার’। অর্থাৎ ম্যাসেঞ্জার কেউ না থাকলে অনীকের চাকুরি। সুনামগঞ্জ সরকারি জুবিলী উচ্চ বিদ্যালয়ের বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী ছিল সে।
অনিকের বাবা অজিত পাল সুনামগঞ্জ শহরে অটোরিক্সা চালন। তাহিরপুরের নোয়াবন্দ গ্রামের দরিদ্র এই অটো রিক্সা চালক শহরের নবীনগর এলাকায় ছোট্ট একটি বাসা ভাড়া নিয়ে ২ ছেলে ও স্ত্রী অর্পণা পালসহ বসবাস করছেন।
অজিত পাল জানালেন, অনীক নিজের চেষ্টায়ই পড়াশুনা করছে। অর্থের অভাবে এখনো একাদশ শ্রেণির বই কেনা হয়নি অমিতের।
প্রতিবেদক : লিপসন আহমদ
মো. কবির হোসেন
মো. কবির হোসেন। সদর উপজেলার পৈন্দা গ্রামের মো. শুকুর আলী ও মা মোছামৎ রেহেনা বেগমের তিন সন্তানের মধ্যে দ্বিতীয়। বড় ভাই বিয়ে করে আলাদা সংসার করছে। বাবা ১ বছর ধরে অসুস্থ। মা সুনামগঞ্জ শহরতলির ওয়েজখালি মৎস্য প্রক্রিয়াজাত করণ কেন্দ্রে কাজ করেন। কবিরও ওয়েজখালিতে বালু শ্রমিকের কাজ করে। মা- ছেলে মিলে গত মৌসুমে ১০ কেয়ার বোরো জমি বর্গাচাষ করলেও সবই পানিতে ডুবেছে। জয়নগর বাজার হাজী গণিবক্স উচ্চ বিদ্যালয় থেকে গত এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে জিপিএ-৪.৪৫ পেয়েছে কবির। সুনামগঞ্জ সরকারি কলেজে ভর্তি হবার সময় ইউপি চেয়ারম্যানসহ স্থানীয় গণ্যমান্যরা কবিরকে সহায়তা করেছেন। টাকার ব্যবস্থা না হওয়ায় এখনো বই কিনতে পারেনি কবির।
প্রতিবেদক : এনামুল হক জুবের
কামরান আহমদ
কামরান আহমদ। একজন বিপণন কর্মী। গত চার বছর হয় দৈনিক সুনামগঞ্জের খবর পাঠকের হাতে পৌঁছে তার হাত দিয়ে। একই সঙ্গে সে শহরের এইচএমপি উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীও ছিল। সুনামগঞ্জ শহরতলির হাছনবাহার গ্রামের আব্দুল খালেক ও আফলাতুন নেছা’র প্রথম সন্তান সে।
বাবা আব্দুল খালেক এক সময় রাজমিস্ত্রি’র কাজ করতেন। অসুস্থতার কারণে এখন কাজে যেতে পারেন না। ৩ ভাই ও ১ বোনের সংসার চালানোর দায়িত্ব পড়েছে কামরান ও ভাই ইমরানের উপর। ইমরান কয়েকদিন হয় পড়াশুনা ছেড়ে বিদ্যুৎ শ্রমিকদের সহকারী হিসাবে কাজ নিয়েছে। গত বোরো মৌসুমে ২ ভাই-মাসহ সকলে মিলে ৩ একর জমি বর্গা করলেও সবটুকু জমিই পানির নীচে ডুবেছে।
কামরান গত এসএসসি পরীক্ষায় ৩.৩৯ পেয়ে সুনামগঞ্জ পৌর কলেজে ভর্তি হয়েছে। পরীক্ষার আগে বিনা ফি’তে পড়িয়েছেন এইচএমপি উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক বিজয় কৃষ্ণ দাস। প্রতি মাসেই মাস শেষের আগেই সামান্য বেতনের টাকা সংসারের জন্য ব্যয় হয়ে যায় কামরানের। ভর্তি ফি’র টাকাও শুভানুধ্যায়ীরাই দিয়েছেন তাকে।
কামরান ও ইমরান কেবল সংসার চালানো নয়। ছোট ভাই রায়হান এবং তানিয়াকে পড়াশুনা করাচ্ছে। রায়হান শহরতলির হাছননগর মাহমুদিয়া মাদানিয়া মাদ্রাসা এবং তানিয়া হাছননগর আব্দুল আহাদ সাহিদা চৌধুরী উচ্চ বিদ্যালয়ে নবম শ্রেণিতে পড়াশুনা করছে।
প্রতিবেদক ঃ আশিক পীর


