তাহিরপুরের তিন শুল্ক বন্দর দিয়ে আবারও কয়লা আমদানী শুরু

স্টাফ রিপোর্টার
দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বৃহৎ কয়লা শুল্কস্টেশন তাহিরপুরের বড়ছড়া, চারাগাঁও ও বাগলী দিয়ে আজ (বুধবার) থেকে আবারও কয়লা আমদানী শুরু হবে। মঙ্গলবার রাতে মেঘালয় মাইন ওনার্স এক্সপোর্র্টার এসাসিয়েশনের দায়িত্বশীলরা তাহিরপুর কয়লা আমদানীকারক গ্রুপের কর্মকর্তাদের এই তথ্য জানিয়েছেন। কয়লা আমদানী আবারও শুরু হবার খবরে মঙ্গলবার সন্ধ্যা থেকেই সীমান্তের বড়ছড়া-চারাগাঁও ও বাগলী এলাকার আমদানীকারক, ছোট ছোট দোকানী ও স্থানীয় বাসিন্দারা ছিলেন উৎফুল্ল।
ভারতের মেঘালয়ের পরিবেশ আদালতের এক আদেশে গত ২ বছরে এই শুল্কস্টেশন দিয়ে কয়েকদফা আমদানী-রপ্তানী বন্ধ থাকায় দুর্ভোগে আছেন বাংলাদেশের প্রায় ৪০০ আমদানীকারক। অপেক্ষাকৃত ভাল মানের মেঘালয়ের  কয়লা আমদানী বন্ধ থাকায় দেশের বাজার দখল করে নিয়েছে কম দামের ইন্দোনেশিয়া, চীন ও আফ্রিকার কয়লা।
ভারতের মেঘালয়ের পরিবেশবাদী সংগঠন ডিমাহাসাও জেলা ছাত্র ইউনিয়নের আবেদনের ভিত্তিতে ২০১৪ ইংরেজির ১৭ এপ্রিল ন্যাশনাল গ্রীণ ট্রাইব্যুনাল (এনজিটি) মেঘালয় সরকারের অবৈধ কয়লা খনন ও পরিবহন বন্ধের নির্দেশ দেন। একই বছরের ৬ মে সংশ্লিষ্ট বিভাগের বিভাগীয় মূখ্যসচিব এ ব্যাপারে প্রতিটি জেলায় নির্দেশ জারি করেন। এই নির্দেশে গ্রীণ ট্রাইব্যুনালের নির্দেশ কার্যকর করতে বলা হয় মেঘালয়ের জেলা প্রশাসকদের। এ কারণে ২০১৪ ইংরেজির ১৩ মে থেকে মেঘালয়ের সীমান্ত জেলাগুলোয় ১৪৪ ধারা জারি করে কয়লা পরিবহনে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়।
এরপর থেকে বাংলাদেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সবচেয়ে বড় শুল্কবন্দর সুনামগঞ্জের তাহিরপুরের বড়ছড়া-চারাগাঁও ও বাগলী দিয়ে কয়লা আমদানী বন্ধ হয়ে যায়।
রপ্তানীকারকরা আইনী লড়াই করে প্রথমে উত্তোলিত কয়লার রাজস্ব জমা দিয়ে ৩ মাস (এপ্রিল, মে ও জুন’২০১৫) রপ্তানীর সুযোগ পান। পরে এই সময় ৩ দফায় বাড়িয়ে গত ১৫ মে পর্যন্ত (বিভিন্ন সময় মিলে ৯ মাস) রপ্তানী কার্যক্রম চালু রাখা হয়। এই সময়ের মধ্যে কেবল উত্তোলিত কয়লা রপ্তানী করেছেন মেঘালয়ের রপ্তানী কারকরা। কিন্তু মাইনিং করতে পারেননি। গত বছরের ১৬ মে কয়লা রপ্তানী বন্ধ হয়ে যায়। এপারের তিন শুল্কবন্দরের ৪০০ আমদানীকারক বেকায়দায় পড়েন। বেকার হয়ে পড়েন কমপক্ষে ৫০ হাজার শ্রমিক।
তাহিরপুর কয়লা আমদানীকারক গ্রুপের সচিব রাজেশ তালুকদার জানান, ন্যাশনাল গ্রীণ ট্রাইব্যুনালের রায়ের বিরুদ্ধে ভারতের কয়লা রপ্তানী কারকরা সুপ্রিম কোর্টে আপিল করলে আদালত উত্তোলিত কয়লা রপ্তানীর জন্য আরো ৮ মাস (পহেলা অক্টোবর থেকে ৩১ মে পর্যন্ত) সময় বাড়িয়েছেন। কিন্তু রপ্তানী কারকরা রয়েলিটি জমা দেওয়াসহ নানা আনুষ্ঠানিকতা শেষ করতে সময় লাগায় বুধবার থেকে রপ্তানী কার্যক্রম চালু হচ্ছে।
তাহিরপুর কয়লা আমদানী কারক গ্রুপের সভাপতি আলকাছ উদ্দিন খন্দকার বলেন,‘মেঘালয় মাইন ওনার্স এ- এক্সপোর্টার এসোসিয়েশনের সভাপতি জেসি ডিঙ্গাং আজ বুধবার থেকে রপ্তানী কার্যক্রম শুরু হবার কথা জানিয়েছেন। বিষয়টি আমদানী কারকদের জানিয়ে দিচ্ছি আমরা’।