তাহিরপুরের নিরীহ পরিবারের কিশোরীকে অপহরণ চেষ্টা-অপহরণকারীর দুই সহযোগি আটক

স্টাফ রিপোর্টার
তাহিরপুরের এক নিরীহ পরিবারের কিশোরীকে একবার অপহরণ করে আটকে রাখার পর পুনরায় অপহরণ চেষ্টার সময় দুই সহযোগিকে আটক করেছে পুলিশ। বুধবার দুপুরে সুনামগঞ্জ শহরতলির আব্দুজ জহুর সেতুর উপর এই ঘটনা ঘটে। এই ঘটনায় বুধবার রাত সাড়ে ১০ টায় অপহরণকারী লাকমা গ্রামের সমুজ আলীর ছেলে ইমরান মিয়াসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে সদর থানায় মামলা দায়ের করেছেন কিশোরীর বড় ভাই।
আটককৃতরা হলো তাহিরপুর উপজেলার টেকেরঘাট গ্রামের ইদ্রিস আলীর ছেলে মো. সাইফুল ইসলাম (২৩) ও সুনামগঞ্জ শহরের নবীনগরের বাবুল রায়ের ছেলে বাপ্পী রায়। সাইফুল ইসলাম মোটরসাইকেল চালক ও বাপ্পী রায় সিএনজি চালক। তাদের মোটরসাইকেল ও সিএনজি দিয়ে ঐ কিশোরীকে অপহরণের চেষ্টা হয়েছিল।
স্থানীয় লোকজন ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, তাহিরপুর উপজেলার উত্তর শ্রীপুর ইউনিয়নের বানিয়াগাঁও গ্রামের নিরীহ পরিবারের ওই কিশোরীকে দীর্ঘদিন ধরে উত্যক্ত করছিল এলাকার লাকমা গ্রামের সমুজ আলীর ছেলে ইমরান মিয়া (২৫)। এ ঘটনায় কিশোরীর পরিবার ইমরান মিয়ার পরিবারের কাছে নালিশ করে কোন সুবিচার পায় নি। গত ২০ ডিসেম্বর ইমরান মিয়া ওই কিশোরীকে জোর করে অপহরণ করে চারদিন আটকে রাখে। পরে ইমরানের দুই আত্মীয় ঐ কিশোরীকে উদ্ধার করে তার পরিবারের কাছে ফেরৎ দেয়। বখাটে ইমরান মিয়ার কবল থেকে ঐ কিশোরীকে রক্ষা করতে বুধবার সিলেটে পাঠিয়ে দিয়েছিল পরিবার। খবর পেয়ে বখাটে ইমরান মোটরসাইকেল নিয়ে সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার আব্দুর জহুর সেতুর উপর থেকে গাড়ি থেকে জোর করে নামিয়ে সিএনজি দিয়ে অপহরণ করার চেষ্টা করে। এসময় সঙ্গে থাকা  কিশোরীর বড় ভাইকে বেধরক মারপিঠও করে বখাটেরা। চিৎকার শুনে ট্রাফিক পুলিশ ও স্থানীয়রা এগিয়ে আসলে অপহরণকারীরা পালিয়ে যায়, তবে অপহরণকারীর ২ সহযোগিকে আটক করা হয়।
সুনামগঞ্জ সদর থানার ওসি মো. শহীদুল্লাহ জানান, বখাটে ইমরান মিয়া ঐ কিশোরীকে এর আগেও একবার অপহরণ করেছিল। সর্বশেষ তার কয়েক সহযোগিকে নিয়ে বুধবার কিশোরীকে অপহরণ করার চেষ্টা করে। এই ঘটনার সাথে জড়িত দুই জনকে মোটরসাইকেলসহ আটক করা হয়েছে। বখাটে ইমরান মিয়াকে আটক করার চেষ্টা চলছে। ইমরান মিয়াসহ আটককৃতদের বিরুদ্ধে  থানায় মামলা দায়ের হয়েছে।