তাহিরপুরে কুস্তি খেলা পণ্ড

স্টাফ রিপোর্টার
মাঠের চেয়ে অতিরিক্ত দর্শক ও হার-জিতকে কেন্দ্র করে মাঠে দর্শক ঢুকে পড়ায় তাহিরপুরের আনোয়ারপুরে আন্তঃউপজেলা কুস্তি খেলা পণ্ড হয়েছে। বুধবার দুপুরে আনোয়ারপুর বাজারের দক্ষিণ দিকের মাঠে এই ঘটনা ঘটে। ঘটনার সময় মাঠে ঢিল, কাঁদা ও জুতা ছুড়াছুড়ির ঘটনা ঘটেছে।
তবে খেলার আয়োজক তাহিরপুর সদর ইউপি চেয়ারম্যান বুরহান উদ্দিন ও প্রধান অতিথি তাহিরপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান কামরুল দাবি করেছেন, অতিরিক্ত দর্শক হওয়ায় খেলা সমাপ্ত করা যায়নি।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী একাধিক লোক জানান, বুধবারের আয়োজিত কুস্তি খেলায় সুনামগঞ্জ সদর, দক্ষিণ সুনামগঞ্জ, জামালগঞ্জ ও বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা অংশগ্রহণ করে। প্রথমে জামালগঞ্জ ও বিশ্বম্ভরপুর, দ্বিতীয় খেলায় সুনামগঞ্জ সদর ও দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলা ও তৃতীয় খেলায় জামালগঞ্জ ও বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার মালগণ (কুস্তিগির) অংশগ্রহণ করে। এই তিনটি খেলায় পর পর সমান ফলাফল ঘোষণা করেন বিচারকগণ। তৃতীয় খেলার সময় জামালগঞ্জ ও বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার মাল ও সাথের লোকজন বিষয়টি মেনে নিতে পারেন নি। প্রথমে কথা কাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে দর্শকরা মাঠে ঢুকে মাঠ দখল করে নেয়। এসময় মাঠে উপস্থিত জনপ্রতিনিধি ও পুলিশ প্রশাসন মাঠ থেকে দর্শকদের সড়াতে ব্যর্থ হলে খেলা বন্ধ করতে বাধ্য হন আয়োজকরা।
আনোয়ারপুরের বাসিন্দা মিলন তালুকদার বলেন, ‘ব্যবস্থাপনায় ত্রুটির কারণে দর্শকরা মাঠে ঢুকে পড়েছিল। এরপর বাধ্য হয়েই খেলা বন্ধ করেছেন তারা।’
তাহিরপুর সদর ইউপি চেয়ারম্যান বুরহার উদ্দিন বলেন, ‘খেলার ব্যবস্থাপনায় আমাদের কোন ত্রুটি ছিল না। খেলোয়ারদের বসার জন্য পৃথক মঞ্চ ছিল। দর্শকদের জন্য ১ হাজার চেয়ার ছিল। খেলা ঠিকঠাকমত চলছিল। পরে দর্শক বেশী হওয়ায় বাধ্য হয়ে খেলা বন্ধ করতে হয়েছে।’
তাহিরপুর থানার ওসি নন্দন কান্তি ধর বলেন, ‘মাঠের তুলনায় দর্শক খুব বেশী হয়েছিল তবে খেলা ও মাঠের ব্যবস্থাপনা সঠিক ছিল না। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ায় আয়োজকরা খেলা বন্ধ করেছেন। মাঠে কিছু উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছিল। এসময় ধাক্কাধাক্কিতে কয়েকজন আহত হয়েছেন।’
তাহিরপুর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান কামরুল বলেন, ‘মাত্র তিনটি খেলা হয়েছিল। এরপরই আস্তে আস্তে মাঠ ছোট হয়ে যায়। অন্তত দুই লাখ দর্শক হয়েছিল। দর্শক মাঠে ঢুকে যাওয়ায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে খেলা বন্ধ করেছেন আয়োজকরা।’