তাহিরপুরে খেটে খাওয়া মানুষ বিপাকে, সরকারি খাদ্য সামগ্রী কম

এম.এ রাজ্জাক, তাহিরপুর
তাহিরপুরে করোনা ভাইরাস সংক্রমনের আশঙ্কায় বিপাকে পড়েছেন খেটে খাওয়া মানুষজন। করোনা ভাইরাস সংক্রমনের ভয়ে উপজেলার তিনটি (বড়ছড়া, ছাড়াগাঁও, বাগলী) শুল্কষ্টেশন ও যাদুকাটা নদীতে কয়েক হাজার বালি ও কয়লা শ্রমিকরা এখন সম্পূর্ণ বেকার সময় পার করছেন। উপজেলার অতি দরিদ্র, দিনমজুর, কর্মহীন, অস্বচ্ছল ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা এখন খেয়ে না খেয়ে দিন যাপন করছেন। অসহায় পরিবারের তুলনায় সরকারি খাদ্য সামগ্রী একেবারেই কম ।
উপজেলার কিছু খেটে খাওয়া ও দিনমজুর মাঝে মধ্যে সরকারি কিংবা ব্যক্তিগত থেকে যে খাদ্য সামগ্রী পাচ্ছেন, তাতে তাদের দৈনন্দিন চাহিদা মিটছে না বলে আক্ষেপ করছেন। উপায় না পেয়ে পরিবারের খাবার জোগাতে অনেকেই লকডাউন অমান্য করে রাস্তায় বের হয়ে পড়ছেন। কর্মহীন ও দিনমজুরদের চোখে মুখে এখন চিন্তার ছাপ। আয়ের পদ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় অনেকেই খেয়ে না খেয়ে দিনপার করছেন এখন। বৃহস্পতিবার উপজেলার বিভিন্ন স্থানে ঘুরে এমন তথ্য পাওয়া গেছে।
দিনমজুর ও কর্মহীনরা জানান, ঘরে খাবার না থাকায় পরিবারের খাবারের জোগান দিতে বাধ্য হয়েই লকডাউন অমান্য করে রাস্তায় বের হচ্ছেন। ঘর থেকে বের হলেও কাজ পাচ্ছেন না তারা। হাওরে এখনও বোর ধান পুরোপুরি পাকেনি। আরো সপ্তাহখানেক সময় লাগবে হাওরের সব ধান পাকতে। যার ফলে রোজ হিসেবে ধানও কাটতে পারছেন না এসব শ্রমিকরা।
চারাগাঁও গ্রামের স্থানীয় ওয়ার্ড সদস্য হাসান মিয়া জানান, এলাকায় খাদ্যসামগ্রী বিতরণের সংবাদ পেলেই ১০ জনের স্থলে শতাধিক মানুষ হুমড়ি খেয়ে পড়ছেন। এতে বিতরণকৃত খাদ্যসামগ্রী কেউ পান আবার কেউ না পেয়ে খালি হাতে ফিরেন।
তাহিরপুর সদর গ্রামের মেহেদী হাসান উজ্জল বলেন, এলাকায় কাজকর্ম না থাকায় মহাবিপদে পড়েছেন মধ্যবিত্ত পরিবারের লোকজন। তারা না পারছেন কারও কাছে সাহায্য চাইতে, না পারছেন অভাব অনটন সহ্য করতে।
বাদাঘাট বাজারের রিকশা চালক সুমন মিয়া বলেন, তার পরিবারে মোট সদস্য সংখ্যা ৬ জন। দৈনিক তার সংসারে খরচ লাগে ৪শ থেকে ৫শ টাকা। এখন কাজকর্ম না থাকায় এক টাকাও রোজগার করতে পারছেন না। ফলে বর্তমান সময়ে খেয়ে না খেয়ে দিনপার করছেন তার পরিবার নিয়ে।
লাকমা গ্রামের কামরুল সহ অনেকেই জানান, এ পর্যন্ত তাদের মধ্যে অনেকে পরিবার সরকারি কিংবা বেসরকারি কোন খাদ্য সামগ্রী পাননি। আর যারা মাঝে মধ্যে পাচ্ছেন, তাতেও মিঠছে না তাদের পরিবারের চাহিদা।
তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার বিজেন ব্যানার্জী বলেন, ১৮ এপ্রিল পর্যন্ত তাহিরপুর উপজেলার ৭টি ইউনিয়নের ৯টি ওয়ার্ডে ৫০ জন করে মোট ৩১৫০টি পরিবারকে ৩১.৫০ মে: টন চাল ও আলু বিতরণ করা হয়েছে। প্রতি পরিবারকে ১০ কেজি চাল ও ২ কেজি আলু ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানগণের মাধ্যমে বিতরণ করা হয়। তিনি বলেন, নতুন করে আরও ৩১৫০টি পরিবারের মধ্যে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন আছে।