তাহিরপুরে ‘গোলাপতলীর কাজল’ ছবির শুটিংয়ে ব্যস্ত মাহি-সায়মন

এমএ রাজ্জাক, তাহিরপুর
টাঙ্গুয়ার হাওরের পাড় তাহিরপুর সীমান্তবর্তী এলাকাসহ উপজেলার বিভিন্ন স্পটে সোমবার থেকে শামীমুল ইসলাম শামীম পরিচালিত ‘গোলাপতলীর কাজল’ ছবির শুটিং চলছে। সুটিংএ নায়ক-নায়িকার অভিনয় করছেন মাহি ও সায়মন।
তাহিরপুর সীমান্তবর্তী বারেক টিলা, টেকেরঘাট নিলাদ্রী লেক ও দেশের দ্বিতীয় রামসার সাইট খ্যাত টাঙ্গুয়া হাওরের পাড়ে সুটিং হবে। এইদিকে নায়িকা মাহি ও সায়মন আসার খবর শুনে টেকেরঘাট নিলাদ্রী লেকের আশপাশ এলাকায় নায়ক-নায়িকাকে এক নজর দেখার জন্য উৎসুক জনতা ভিড় জমে উঠেছে। উৎসুক জনতাকে সামাল    দিতে পুলিশ হিমসিম খাচ্ছে।
নায়িকা মাহি সিলেটের শ্বশুর বাড়ি থেকে এসে সরাসরি সুটিংয়ে অংশ নিয়েছেন। এই ছবিতে নায়িকার বিপরীতে আসিফ নূর নামেও একজন শুটিং করছেন। ‘গোলাপতলীর কাজল’ ছবির আগে শেষবার বান্দরবানে শুটিং করেছিলেন নায়িকা মাহিয়া মাহি ও সাইমন সাদিক। প্রায় তিন বছর পর আবার সিনে ক্যামেরার সামনে জুটি হয়েছেন তারা।
ছবির পরিচালক শামীমুল ইসলাম শামীম জানিয়েছেন, বর্তমানে সুটিং হওয়া এই সিনেমাটির প্রাথমিক নাম দেয়া হয়েছে ‘গোলাপতলীর কাজল’। শুটিংএ তাহিরপুর উপজেলার উল্লেখযোগ্য স্পটগুলো দৃশ্যায়ন করা হবে।
ছবির নায়ক সায়মন বলেন,‘এই প্রথম শুটিং করছি তাহিরপুর সীমান্তবর্তী এলাকার টেকেরঘাট নিলাদ্রী লেকের উপর উঁচু নিচু টিলাতে, নিলাদ্রী লেক খুবই সুন্দর। সোমবার সকাল থেকে নিলাদ্রি লেকের পাশাপাশি টাঙ্গুয়ার হাওরে শুটিং হবে।’tahirpur-pic-12
সিনেমার গল্প প্রসঙ্গে নির্মাতা পরিচালক শামীমুল ইসলাম বলেন,‘গোলাপতলীর কাজল ছবির মাহির চরিত্রের নাম দেয়া হয়েছে মায়া। তবে নায়ক সায়মন ও পার্শ্ব অভিনেতা আসিফ নূরের মূল নামই ছবিতে ব্যবহার করা হয়েছে। ছবিতে নায়ক সায়মনকে দেখা যাবে মানসিক সমস্যাগ্রস্ত তরুণের ভূমিকায়। অন্যদিকে আসিফ নূর বিদেশ ফেরত চিকিৎসক হিসেবে অভিনয় করছেন। গল্প সম্পর্কে পরিচালক বলেন,‘সায়মনের বাবা-মা এলাকার প্রভাবশালী ব্যক্তি। এক সড়ক দুর্ঘটনায় তারা মারা যান। মাথায় আঘাত লেগে মানসিক রোগীতে পরিণত হন সাইমন। মায়ার বাবা-মা থাকেন তাদের কেয়ারটেকার। তারাই সায়মনকে দেখাশোনা করেন। পরবর্তীতে আসিফ ডাক্তার হয়ে আসার পর সায়মনকে ভালো করার মিশনে নামেন। সেখানে শুরু মায়ার আসিফের ঘনিষ্টতা শুরু হয়।
নায়িকা মাহি বলেন,‘ সীমান্ত এলাকার স্পটগুলোসহ টাঙ্গুয়া হাওরের সৌন্দর্য্য অপূর্ব। এখানে আসতে কষ্ট হলেও এসব দৃশ্য দেখে মন ভরে গেছে। চলচিত্র সম্পর্কে তিনি বলেন, ২০১৩ সালে মুক্তি পায় আমাদের (মাহি-সায়মন) জুটির প্রথম ছবি ‘পোড়ামন’। জাকির হোসেন রাজুর সিনেমাটি ব্যবসা সফল হলেও আমাদের আর একসঙ্গে দেখা যায় নি। অন্যদিকে বছর খানেক আগে মালেক আফসারীর ‘ধামাকা’য় চুক্তিবদ্ধ হই আমি ও আসিফ নূর। কিন্তু প্রযোজনা সংক্রান্ত জটিলতায় সিনেমাটি সুটিং আর করা হয় নি।’