স্টাফ রিপোর্টার, তাহিরপুর
জেলার তাহিরপুর উপজেলার বাদাঘাট বাজারে চোর সনাক্ত করতে কবিরাজের চাল পড়া খাওয়ানোর অপমান সইতে না পেরে বিষ খেয়ে মানিক মিয়া (২৫) নামের এক তরুণ আত্মহত্যা করেছে। বুধবার রাত সাড়ে ১১ টায় সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন ঐ তরুণ। উপজেলার বড়দল উত্তর ইউনিয়নের বারহাল গ্রামের ছাত্তার মিয়ার ছেলে মানিক মিয়া বাদাঘাট বাজারে ফুটপাতে বসে পান বিক্রি করে। বৃহস্পতিবার দুপুরে সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতাল মর্গে মানিক মিয়ার লাশের ময়না তদন্ত সম্পন্ন হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার রাতে উপজেলার বাদাঘাট বাজারের সুতা ও মসলা ব্যবসায়ী দিঘিরপাড় গ্রামের বাসিন্দা শফিকুল ইসলামের দোকানে চুরির ঘটনা ঘটে। চোরেরা দোকানের ক্যাশবাক্স ভেঙে ৭০ হাজার টাকা নিয়ে যায়। শফিকুল ইসলাম চোর সনাক্ত করতে এক নারী কবিরাজের নিকট থেকে চাল পড়া নিয়ে আসেন। বুধবার রাত ৯ টায় চোর সন্দেহে পান ব্যবসায়ী মানিক মিয়াকে শফিকুলের দোকানের ভেতরে ডেকে নিয়ে কবিরাজের চাল পড়া চিবিয়ে ভাঙতে দেয়া হয়। কিন্তু মানিক মিয়া ঐ চাল পড়া ভাঙতে পারেন নি। চাল পড়া ভাঙতে না পারায় শফিকুল ও জুবায়ের বাজারের ব্যবসায়ীদের উপস্থিতিতে মানিক মিয়াকে চোর বলে চিহ্নিত করেন। এরপর চুরির টাকা ফেরত দেয়ার জন্য চাপ দেয়া হয়। কিন্তু মানিক বার বারই চুরির সাথে জড়িত
নন বলে দাবি করছিলেন। কিন্তু শফিকুলসহ উপস্থিত লোকজন তার কথা শুনেন নি। এর কিছুক্ষণ পরই মানিক মিয়া বিষ খেয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করে। পরিবারের লোকজন তাকে প্রথমে তাহিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। পরে আশংকাজনক অবস্থায় সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। রাতেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন মানিক মিয়া।
মানিক মিয়ার পিতা ছাত্তার মিয়া বৃহস্পতিবার দুপুরে সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে উপস্থিত সাংবাদিকদের কাছে অভিযোগ করে বলেন,‘আমার ছেলে মানিক মিয়া নিরাপরাধ ছিল। কিন্তু শফিকুল প্রভাবশালী বড় ব্যবসায়ী হওয়ায় চালের সাথে বিষ মিশিয়ে মানিককে খেতে বলে। চাল মুখে দেয়ার পর পরই মানিক মিয়া অসুস্থ হয়ে পড়ে। চালের সাথা দেওয়া বিষেই মানিকের মৃত্যু হয়েছে। আমি এ ঘটনার ন্যায় বিচার চাই।’
মানিককে চুরির অপবাদ দেয়া অভিযুক্ত ব্যবসায়ী শফিকুল জানান, মানিককে একা চাল পড়া খাওয়ানো হয়নি। কয়েকজনকে চোর সন্দেহে চাল পড়া খাওয়ানো হয়েছে। মানিক চাল ভাঙতে না পারায় তাকে চোর হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। বাজারের বণিক সমিতির সেক্রেটারীসহ বেশ কয়েকজন চুরির টাকা উদ্ধারের জন্য মানিকের সাথে কথা বললে একদিন পর মানিক তা জানানোর কথা বলে বাড়ি চলে যায়।
বাদাঘাট বাজার বণিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মাসুক মিয়া জানান, টাকা চোর সনাক্ত করতে ব্যবসায়ী শফিকুল ইসলাম ও জুবায়ের পান দোকানদার মানিকসহ ৩-৪ জনকে চাল পড়া খাইয়েছে এবং মানিককে চোর সনাক্ত করে তারা দোকানে আটক করে রেখেছিল। বিষয়টি পরে দেখব বলে আমি মানিক মিয়াকে মুক্ত করে বাড়ি পাঠিয়ে দিয়েছি। পরে শুনেছি সে নাকি অপমানে বিষ খেয়েছে।
তাহিরপুর থানার ওসি নন্দন কান্তি ধর জানান, তিনি গণমাধ্যমকর্মীদের কাছ থেকে এই বিষয়টি শুনেছেন। বাদাঘাট বাজারের কোন ব্যবসায়ী ও এলাকার কেউ তাকে এই বিষয়টি সম্পর্কে কিছুই বলেন নি। ক্ষুদ্র পান ব্যবসায়ীকে চোর সনাক্ত করার পর, অপমানে বিষ খেয়ে আত্মহত্যা করেছে বলে শুনেছেন তিনি। এঘটনায় থানায় কোন অভিযোগ হয়নি। তবে মানিক মিয়ার অভিভাবকরা চাইলে আত্মহত্যার প্ররোচণার অভিযোগে মামলা নেওয়া হবে।


