এমএ রাজ্জাক, তাহিরপুর
তাহিরপুর সীমান্ত এলাকা সহ পুরো উপজেলায় কিছুতেই থামছেনা ইন্টারনেট ভিত্তিক ভারতীয় শিলং তীর নামক জুয়া খেলা। স্থানীয় প্রশাসন মাঝে মধ্যে অভিযান চালিয়ে এক দুই জনকে আটক করে জেল হাজতে পাঠালেও তারা জামিনে বের হয়ে আবার এ খেলা চালিয়ে যাচ্ছে।
অভিযোগ উঠেছে, কিছু অসৎ পুলিশ ও সীমান্ত এলাকায় কিছু বিজিবি সদস্য এসব জুয়ারীর কাছ থেকে অবৈধ সুবিধা নেয়ায়ই এই শিলং নামে জুয়া খেলা কিছুতেই থামছেনা। যার ফলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাঝে মধ্যে তীর খেলা বন্ধে অভিযান চললেও কোন সুফল মিলছে না। সাম্প্রতিক সময়ে এ উপজেলায় শিলং তীরের উৎপাত দ্বিগুণ বেড়ে যাওয়ায় স্থানীয় সচেতন মহল উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। উপজেলার বাজার ও গ্রামের বিভিন্ন স্থানে প্রকাশ্যেই চলছে শিলং তীর খেলার টোকেন বিক্রি। নারী পুরুষ দল বেঁধে এই তীর নামক জুয়া খেলায় লাভের আসায় প্রতিনিয়ত যুক্ত হচ্ছে। লাভ তো দূরের কথা প্রতিনিয়ত এসব খেলে অনেকেই নিঃস্ব হচ্ছে। এমনও দেখা যাচ্ছে বাড়ি থেকে চাল মাছ নিতে এসে এই তীর খেলায় টাকা হেরে কাঁদতে কাদঁতে খালি হাতে বাড়ি ফিরছে অনেকে। এ নিয়ে প্রতিনিয়ত বাড়িতে স্মামী স্ত্রীর মধ্যে ঝগড়া হচ্ছে। এসব বিষয় নিয়ে কেউ প্রতিবাদ করলে তীর খেলার মূল এজেন্টের প্রভাবশালীরা প্রতিবাদকারীদের উল্টো ধমক দিচ্ছে।
এই শিলং তীর খেলাটির নিয়ম হচ্ছে এদেশের এজেন্টদের মাধ্যমে ০ – ৯৯ পর্যন্ত নাম্বার বিক্রয় করা হয় ১০ টাকা থেকে শুরু করে যে কোন মূল্যে। লটারিতে ০ থেকে ৯৯ পর্যন্ত কোনো সংখ্যা কিনে নেওয়া যায়। সর্বনিম্ন ১০ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত বাজি ধরা হয়। যত মূল্যে সংখ্যাটি বিক্রয় করা হয় তার ৭০ গুণ লাভ দেয়া হয় বিজয়ী নম্বরকে। অথাৎ ১০ টাকায় ৭০০ টাকা। একই নম্বর একাধিক লোকও কিনতে পারেন। সবাই কেনা দামের চেয়ে ৭০ গুণ বেশি টাকা পাওয়ার লোভে এই শিলং নামে জুয়ায় বাজি ধরছেন।
প্রতিদিন বিকাল সোয়া ৪টায় ও সাড়ে ৫টায় ও রাত সাড়ে ১০টায় এ লটারির ড্র হয়ে থাকে। খেলার ফলাফল দেওয়া হয় অনলাইনে। ভারতের শিলং থেকে ওয়েবসাইটের মাধ্যমে জুয়ার আসরটি পরিচালনা করা হয়। আর এ ওয়েব সাইটের মাধ্যমে এন্ড্রয়েট মোবাইল ফোনেও ফলাফল জানা যাচ্ছে।
জানা যায়, উপজেলার সদর, বাদাঘাট বাজার, বালিয়াঘাট নতুন বাজার, চানপুর বাজার, একতা বাজার, আনন্দ বাজার, বড়ছড়া বাজার, চারাগাও, কলাগাও,বাগলী, শ্রীপুর, লাকামা, লালঘাট, ড্রামের বাজারসহ প্রায়ই গ্রামের বিভিন্ন স্পটে ভারতীয় এ জুয়ার আসরটি টোকেন বিক্রি করে প্রকাশ্যে খেলা হচ্ছে।
তাহিরপুর থানার ওসি নন্দন কান্তি ধর জানান, এ খেলাটি বন্ধ করতে পুলিশ প্রশাসন থেকে যথেষ্ট চেষ্টা করা হচ্ছে। তিনি বলেন, খেলাটি মোবাইল ইন্টারনেট ভিত্তিক হওয়ায় সহজেই এজেন্ট বা টোকেন বিক্রিতাদের ধরা যাচ্ছে না। তবে পুলিশ এরই মধ্যে কয়েকজন কে ধরে জেল হাজতে পাঠিয়েছে। খেলাটি বন্ধ করতে পুলিশ যথেষ্ট তৎপর রয়েছে।


