আমিনুল ইসলাম, তাহিরপুর
করোনা মহামারিতে সারাবিশ^ বিপর্যস্ত। উন্নত দেশগুলো এই পরিস্থিতি সামলে নিলেও উন্নয়নশীল বা দরিদ্র দেশগুলোর অবস্থা খুবই নাজুক। বাংলাদেশেও হঠাৎ সংক্রমণ এবং মৃত্যুর হার বেড়ে যাওয়ায় সবচেয়ে বড় সমস্যার সম্মূখীন হয়েছেন শ্রমজীবী মানুষ।
এদিকে লকডাউনের কারণে কর্মসংকট এবং অন্যদিকে পবিত্র রমজান মাস হওয়ার কারণে হতদরিদ্র পরিবারগুলো দিন কাটাচ্ছে চরম অনিশ্চয়তায়। সারাদেশের হাজার হাজার পরিবার এই দুর্দশার ভেতর দিয়ে যাচ্ছে। এই অবস্থায় অসহায় পরিবারগুলোর মূখে হাসি ফুটানোর জন্য সমকাল সুহৃদ সমাবেশ এবং আলখায়ের ফাউন্ডেশনের যৌথ আয়োজনে শুরু হয়েছে দেশব্যাপি খাদ্য সহায়তা কার্যক্রম। দেশব্যাপি চলমান লকডাউনে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সেহরী ও ইফতার নির্বিঘœ করতে মূলত এই উদ্যোগ গ্রহণ করা।
কর্মসূচীর অংশ হিসাবে রবিবার তাহিরপুর উপজেলার দুই’শ দরিদ্র পরিবারের মাঝে উপহার স্বরূপ খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে। দুপুর ১২টায় স্বাস্থ্যবিধি মেনে তাহিরপুর উপজেলার রাজধরপুর গ্রামে প্রতিটি পরিবারকে খাদ্যসামগ্রী প্রদান করা হয়।
প্রতিটি পরিবারের জন্য উপহার খাদ্যসামগ্রীর প্যাকেটে ছিল ১৫ কেজি চাল, ১ কেজি পেঁয়াজ, ২কেজি আলু, ১ কেজি চিনি, ২লিটার ভোজ্য তেল, ১ কেজি লবন, ১ কেজি আটা, ১ কেজি ছোলা, ৫০০ গ্রাম গুড়ো দুধ, ৫০০ গ্রাম খেজুর, ১ প্যাকেট সেমাই।
উপজেলার রাজধরপুর, মারালা, সাহেবনগর, রামজীবনপুর, ঠাকুরহাটি, ভাটি তাহিরপুর, মধ্য তাহিরপুর, উজান তাহিরপুর, পৈন্ডুপ, কামদেবপুর, জামালগড়, টাকাটুকিয়া ও উজ্জ্বলপুরে এই ত্রাণ সামগ্রী প্রদান করা হয়।
খাদ্য সামগ্রী পেয়ে আনন্দ প্রকাশ করতে দেখা যায়, রাজধরপুর গ্রামের বকুলজান বিবি (৭০) কে। তিনি এ খাদ্য সামগ্রী পেয়ে শুকরিয়া জানান। এ সময় তিনি বলেন, রাজধরপুর গ্রামটি হাওরের বিচ্ছিন্ন এলাকাতে অবস্থিত। সরকারি ত্রাণ ও সুযোগ সুবিধা কখনো এ গ্রামে এসে পৌঁছে না। ছেলেরা করোনার কারণে কাজ কামে যাইতে পারে না। সবাই ঘরে থাকে। খাইয়া না খাইয়া বেঁচে আছি। একসাথে এতকিছু ত্রাণ পাইমু কখনো আশা করি নাই। এখন রমজান মাস ও ঈদ উদযাপন করতে আমাদের আর কোন সমস্যা হবে না।
ভাটি তাহিরপুর গ্রামের ৭৫ বছরের বৃদ্ধা রাজবানু বিবি বলেন, সমকাল সুহৃদ সমাবেশের লোকজন আমার বাড়িতে এসে শনিবার ত্রানের টুকা দিয়ে গেছিল। রবিবার বেলা ১১টায় রাজধরপুর গ্রামে আসি ত্রাণ নিতে। একসাথে এতো ত্রাণ নিয়ে বাড়ী যাওয়া আমার পক্ষে কিছুতেই সম্ভব ছিল না। আমার এ অবস্থা দেখে সমকাল সুহৃদ সমাবেশের লোকজন আমার পাওয়া ত্রাণ সামগ্রীগুলো বাড়িতে পৌঁছে দিয়ে গেছে।
জামালগড় গ্রামের শফিক মিয়া বলেন, আমার পরিবারের কর্মক্ষম যারা সবাই গৃহবন্দি। কাজকর্ম না থাকায় রমজান মাসটা কীভাবে কাটবে ভেবে কূল পাচ্ছিলাম না। এতো ত্রাণ একসাথে পাওয়ার পর এখন আর রমজান ও পবিত্র ঈদ পালনে তাহার আর কোন সমস্যা হবে না। এ জন্য তিনি সমকাল সুহৃদ সমাবেশের সদস্য ও আল-খায়ের ফাউন্ডেশনের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।
ত্রান বিতরণকালে উপস্থিত ছিলেন আল-খায়ের ফাউন্ডেশনের কান্ট্রি ডিরেক্টর তারেক মাহমুদ সজীব, আল খায়ের ফাউন্ডেশনের পক্ষ হতে কমলজিৎ পাল শাওন, আবু তাহের মো. নাজিম, গোলাম সাঈদ, সমকাল তাহিরপুর উপজেলা প্রতিনিধি আমিনুল ইসলাম, সমকাল সুহৃদ সমাবেশ তাহিরপুর উপজেলা সভাপতি আহমেদুল হাসান, সাধারণ সম্পাদক মনিরাজ শাহ, সদস্য শওকত হাসান, সজিব চন্দ, শঙ্কর চন্দ, মোনায়েম শরীফ, শাখাওয়াত হোসেন শিপন, হৃদয় আচার্য, আজহারুল, সৌরভ প্রমুখ।


