তাহিরপুরে নদী ভাঙন ও বালুর আগ্রাসন- ভাঙছে বসতি ভরছে জমি

এমএ রাজ্জাক, তাহিরপুর
তাহিরপুরে বিভিন্ন নদী আর পাহাড়ী ছড়ার ভাঙন বর্ষার শুরু থেকেই ব্যাপক আকার ধারণ করছে। স্বাভাবিকের তুলনায় অতি বৃষ্টিপাত আর পাহাড়ী ছড়া দিয়ে উজান থেকে পানি এসে নদীর পানি কয়েক গুণ বেড়ে যাওয়ায় নদী আর বিভিন্ন ছড়ার পাড় ভাঙন আগের যে কোন সময়ের তুলনায়     এখন বেশী হচ্ছে। অন্য দিকে পাহাড়ী ছড়া দিয়ে উপর থেকে বালি এসে ফসলি জমি ভরাট করে ফেলছে।
জানা যায়, তাহিরপুর উপজেলা যাদুকাটা, পাটলাই, রক্তি ও বৌলাই নদী দ্বারা বেষ্টিত। এসব নদীর অব্যাহত ভাঙনে প্রতিনিয়ত বিলীন হচ্ছে বসত বাড়ী ও ফসলী জমি। হারিয়ে যাচ্ছে বাড়িঘর, ফসলী জমি, পুকুর, বাজার, স্কুল, রাস্তাঘাট, সরকারি স্থাপনা। অন্যদিকে তাহিরপুর সীমান্তবর্তী এলাকার লাউড়েরগড় থেকে বিরেন্দ্রনগর পর্যন্ত প্রায় ২৩টি পাহাড়ী ছড়া দিয়ে উজান থেকে পানির সঙ্গে বালু এসে সীমান্তবর্তী কয়েক হাজার হেক্টর ফসলী জমি বালির নিচে চাপা পরে এলাকার দৃশ্যপট পাল্টে যাওয়ার উপক্রম হচ্ছে।
লাউড়েরগড় গ্রামের আবুবক্কর সিদ্দিকসহ অনেকেই জানান, ‘এ উপজেলার নদী ভাঙ্গনে ইতিমধ্যে বিলীন হয়ে গেছে, লাউড়ের গড়ের বিশাল গোচারণ ভূমি, কবরস্থান ও রাস্তাঘাট। নদী ভাঙনের ফলে হুমকির মুখে রয়েছে ঘাগটিয়া, গড়কাটি, বিন্নাকুলি, রাজারগাঁও, লাউড়েরগড় বিজিবি ক্যাম্প, আনোয়ারপুর বাজারসহ প্রায় অর্ধশতাধিক গ্রাম। ক্রমাগত নদী ভাঙনে এ উপজেলার শত শত পরিবার ফসলি জমি, বাগান, পুকুর হারিয়ে এখন সহায়-সম্বলহীন ভাবে দিনযাপন করছেন।
তাহিরপুরপুর সীমান্তবর্তী জঙ্গলবাড়ী গ্রামের আইনাল হক ও তোতা মিয়া জানান, ‘গত কয়েক বছরে এ উপজেলার ৭টি  ইউনিয়নের মধ্যে ৪ টি ইউনিয়নের মানুষ সবচেয়ে বেশি নদী ভাঙন ও আর ওপার থেকে ভেসে আসা বালুর আগ্রাসনে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। ইউনিয়নগুলো হচ্ছে বালিজুড়ি, বাদাঘাট, উত্তর বড়দল ও উত্তর শ্রীপুর ইউনিয়ন। ’
কলাগাঁও গ্রামের আনিস ও ইদ্রিস আলী ফকির জানান, গত কয়েকদিনের অতিবৃষ্টিপাতের কারণে তাহিরপুর সীমান্তবর্তী এলাকার চাঁনপুর, রাজাই, বুরঙ্গচড়া, বড়ছড়া, লাকমা, লালঘাট, চারাগাও, কলাগাও, জঙ্গলবাড়ী বেড়ী বাধঁ, লামাকাটা, সুন্দরবন্ধ, রন্ধুছড়া ও বাগলী ছড়া দিয়ে পাহাড়ী পানির ¯্রােত আর বালু এসে বেড়ী বাধঁ ভেঙ্গে ফসলী জমি আর বসত ঘরের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।’
 উপজেলার উত্তর শ্রীপুর ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ড সদস্য হাসান মিয়া জানান, ‘নদী ভাঙন আর পাহাড়ী ছড়া দিয়ে বালু আসা রোধে এলাকাবাসী বিভিন্ন সময়ে সরকারের কাছে বহু আবেদন করলেও এ সমস্যা সমাধানে আজ পর্যন্ত কোন উদ্যোগ নেয়া হয়নি।’
সুনামগঞ্জ জেলা পরিষদ প্যানেল চেয়ারম্যান, উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি আবুল হোসেন খান জানান, ‘নদী ভাঙ্গন আর সীমান্ত এলাকায় ওপার থেকে বালু এসে ফসলী জমি আর বাড়ীঘরের ব্যাপক ক্ষতি করছে। অচিরেই এসব রোধ করা জরুরী প্রয়োজন, না হয় সীমান্তবর্তী এলাকা বালু আগ্রাসনে বিরান ভূমিতে রূপ নিবে।’