তাহিরপুরে নিম্নাঞ্চলের প্রায় ৫০ গ্রামের মানুষ পানিবন্দি

আমিনুল ইসলাম, তাহিরপুর
তাহিরপুরে পাহাড়ি ঢলের পানিতে নিম্নাঞ্চলের প্রায় ৫০ গ্রামের মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। বসত বাড়িতে পানি উঠার কারণে শনিবার সকাল থেকেই তাদের ঘরের রান্নাবান্না হচ্ছে না। শুকনো খাবার সংগ্রহ করে তারা খাদ্যের চাহিদা মেটাচ্ছে। গত তিনদিন ধরে ভারী বর্ষনের ফলে পাহাড়ী নদী যাদুকাটা নদী ১৯৯ সেঃ মিঃ উপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে। ফলে গ্রামীণ অবকাঠামো ও রাস্তাঘাট পানির নীচে তলিয়ে ব্যাপক ক্ষতি সাধিত হয়েছে। পানিতে ডুবে ক্ষতিগ্রস্ত স্থান ও রাস্তাগুলো হলো উপজেলা সদরের তাহিরপুর বাজার হইতে ঠাকুর হাটি আখঞ্জি বাড়ি পর্যন্ত রাস্তা, তাহিরপুর বাদাঘাট সড়ক, তাহিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, আনোয়ারপুর বাজার। এছাড়াও যাদুকাটা নদীর তীরবর্তী গ্রামগুলোর বসতবাড়িগুলো ৩ থেকে ৪ ফুট পানির নীচে।
অপরদিকে তাহিরপুর-সুনামগঞ্জ সড়কের আনোয়ারপুর সেতুর পূর্বাংশের এপ্রোচ নির্মাণাধীন রাস্তাটি ৩ ফুট পানির নীচে। শুক্রবার সকাল থেকেই তাহিরপুর সুনামগঞ্জ সড়কে সকল প্রকার যানবাহন যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে।
ক্ষতিগ্রস্থ গ্রামগুলো হলো বালিজুড়ি ইউনিয়নের দক্ষিণকূল, আনোয়ারপুর, পাতারি, তিওর জালাল, লোহাচুরা, বড়খলা, মাহতাবপুর বাদাঘাট ইউনিয়নের ঘাগড়া, ঘাগটিয়া, পাঠানপাড়া, গড়কাটি উত্তর বড়দল ইউনিয়নের রজনীলাইন, রাজাই, শান্তিপুর, চানপুর, দক্ষিণ বড়দল ইউনিয়নের পুরান খালাস, সাদেরখলা, চতুর্ভজ, কাউকান্দি, জামলাবাজ তাহিরপুর সদর ইউনিয়নের জামালগড়, চিকসা, গোবিন্দশ্রী, গাজীপুর, টাকাটুকিয়া দক্ষিণ শ্রীপুর ইউনিয়নের মারালা, নোয়ানগর, রাজধরপুর, পৈন্ডপ, নোয়াগাঁও, সন্তোষপুর, ইকরামপুর, পাঠাবুকা, লামাগাঁও, দুমাল, ভবানীপুর, শ্রীপুর উত্তর ইউনিয়নের বাগলী, দুদের আউটা, ইন্দ্রপুর, মন্দিয়াতা সহ ৫০টি গ্রাম।
বালিজুড়ি ইউনিয়নের ইউপি সদস্য দক্ষিণকূল গ্রামের বাসিন্দা বাবুল মিয়া জানান, পাহাড়ী ঢলের পানির তোড়ে দক্ষিণকূল গ্রামের সকল রাস্তাঘাট ভেঙ্গে নিশ্চিন্ন হয়ে গেছে। গ্রামের সকল পরিবারেই শনিবার সকাল থেকে রান্নাবান্নার কাজ করতে পারছে না। বাধ্য হয়েই তারা শুকনো খাবার সংগ্রহ করে তাদের খাবারের চাহিদা মেটাচ্ছে।
দক্ষিণকূল গ্রামের বাসিন্দা স্মৃতি বর্মণ (৩৫) জানান, তার পরিবারের ৫ সদস্যকে নিয়ে সকাল ও দুপুরে চিরা আর গুড় খেয়ে খাবারের চাহিদা মিটিয়েছে।
আনোয়ারপুর বাজার বণিক সমিতির সভাপতি ফয়সল আহমদ জানান, শনিবার সকালে হঠাৎ যাদুকাটা নদী উপচে পানি বৃদ্ধি পেয়ে বাজারের গলিটি ৩ফুট পানির নীচে পড়েছে।
তাহিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্মরত চিকিৎসক মহিউদ্দিন বিপ্লব জানান, শনিবার সকাল থেকেই তাহিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আঙিনাটি এক ফুট পানির নীচে পড়েছে।
তাহিরপুর উপজেলা আওয়ামীলীগের সাবেক সভাপতি আলহাজ আব্দুছ ছোবাহান আখঞ্জি ও বিশিষ্ট ব্যবসায়ী সেলিম আখঞ্জি বলেন, তাহিরপুর বাজার হইতে ঠাকুর হাটি আখঞ্জি বাড়ি পর্যন্ত রাস্তাটি খুবই সদরের একটি গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা। ছাত্রছাত্রীদের তাহিরপুর সরকারী উচ্চ বিদ্যালয়ে যাতায়াতের একমাত্র রাস্তা এটি। রাস্তাটি মেরামতের জন্য তিনি স্থানীয় সংসদ সদস্যের হস্থক্ষেপ কামনা করেন।
তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার পদ্মাসন সিংহ বলেন, আমরা উপজেলা দুর্যোগ কমিটির জরুরী সভা করেছি। পাহাড়ি ঢলের পানিতে তাহিরপুরের গ্রামীণ অবকাঠামো অনেক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। মানুষের বাড়িঘরে পানি উঠছে। শুকনো খাবারের প্যাকেট প্রস্তুত চলছে। আমরা শুকনো খাবার নিয়ে তাদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে পৌছে দেবো।
সুনামগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মোয়াজ্জেম হোসেন রতন বলেন,ক্ষতিগ্রস্থ এলাকাগুলো পরিদর্শন করেছি। ক্ষতিগ্রস্তদের প্রয়োজনীয় সহযোগীতা করতে সরকারের তৎপরতা অব্যাহত থাকবে।