তাহিরপুরে নিম্নাঞ্চলের প্রায় ৬০টি গ্রামের মানুষ পানিবন্দি

আমিনুল ইসলাম, তাহিরপুর
তাহিরপুরে দ্বিতীয় দফা বন্যার পানিতে নিম্নাঞ্চলের প্রায় ৬০টি গ্রামের মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। বসত বাড়িতে পানি ওঠার কারণে শনিবার সকাল থেকেই তাদের ঘরের রান্নাবান্নার কাজ হচ্ছে না। শুকনো খাবার সংগ্রহ করে তারা খদ্যের চাহিদা মেটাচ্ছেন। গত তিনদিন ধরে ভারী বর্ষণের ফলে পাহাড়ী নদী যাদুকাটা নদী ১৯৯ সে.মি. উপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে। ফলে গ্রামীণ অবকাঠামো ও রাস্তাঘাট পানির নীচে তলিয়ে ব্যাপক ক্ষতি সাধিত হয়েছে।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিস সূত্রে জানা যায়, উপজেলার ৭ টি ইউনিয়নের ১৮ হাজার ২শ’ ৭০টি পরিবার বন্যায় আক্রান্ত হয়েছে। ৯৮টি পরিবারকে বন্যাশ্রয় কেন্দ্রে আশ্রয় নেয়া হয়েছে। পানিতে ডুবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তাহিরপুর বাদাঘাট সড়ক, তাহিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, আনোয়ারপুর বাজার, উপজেলা সদরের তাহিরপুর বাজার হতে ঠাকুর হাটি আখঞ্জি বাড়ি পর্যন্ত রাস্তা, তাহিরপুর থানা সম্মূখ হতে রায়পাড়া রাস্তা। এছাড়াও যাদুকাটা নদীর তীরবর্তী গ্রামগুলোর বসতবাড়িগুলো ৩ থেকে ৪ ফুট পানির নীচে তলিয়ে গেছে। তাহিরপুর লামা বাজার, শ্রীপুর উত্তর ইউনিয়নের নতুনজাজার ও শ্রীপুর বাজার ৩ ফুট পানির নীচে রয়েছে।
অপরদিকে তাহিরপুর-সুনামগঞ্জ সড়কের আনোয়ারপুর সেতুর পূর্বাংশের এপ্রোচ নির্মাণাধীন রাস্তাটি ৪ ফুট পানির নীচে। শনিবার সকাল থেকেই তাহিরপুর সুনামগঞ্জ সড়কে সকল প্রকার যানবাহন যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে।
বন্যায় বালিজুড়ি ইউনিয়নের দক্ষিণকূল, আনোয়ারপুর, পাতারি, তিওর জালাল, লোহাচুরা, বড়খলা, মাহতাবপুর বাদাঘাট ইউনিয়নের ঘাগড়া, ঘাগটিয়া,পাঠানপাড়া, গড়কাটি উত্তর বড়দল ইউনিয়নের রজনীলাইন, রাজাই, শান্তিপুর, চানপুর, দক্ষিণ বড়দল ইউনিয়নের পুরান খালাস, সাদেরখলা, চতুর্ভজ, কাউকান্দি, জামলাবাজ তাহিরপুর সদর ইউনিয়নের জামালগড়, চিকসা, গোবিন্দশ্রী, গাজীপুর, টাকাটুকিয়া দক্ষিণ শ্রীপুর ইউনিয়নের মারালা, সুলেমানপুর, নায়ানগর, রাজধরপুর, পৈন্ডপ, নোয়াগাঁও, সন্তোষপুর, ভবানীপুর, ইকরামপুর, পাঠাবুকা, লামাগাঁও, দুমাল, ভবানীপুর, শ্রীপুর উত্তর ইউনিয়নের, বাগলী, দুদের আউটা, ইন্দ্রপুর, মন্দিয়াতা ৬০টি গ্রাম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
বালিজুড়ি ইউনিয়নের ইউপি সদস্য দক্ষিণকূল গ্রামের বাসিন্দা বাবুল মিয়া জানান, পাহাড়ী ঢলের পানির তোড়ে দক্ষিণকূল গ্রামের সকল রাস্তাঘাট ভেঙ্গে নিশ্চিন্ন হয়ে গেছে। গ্রামের সকল পরিবারেই শনিবার সকাল থেকে রান্নাবান্নার কাজ করতে পারছে না। বাধ্য হয়েই তারা শুকনো খাবার সংগ্রহ করে তাদের খাবারের চাহিদা মেটাচ্ছে।
দক্ষিণকূল গ্রামের বাসিন্দা স্মৃতি বর্মণ (৩৫) জানান, তার পরিবারের ৫ সদস্যকে নিয়ে সকাল ও দুপুরে চিরা আর গুড় খেয়ে খাবারের চাহিদা মিটিয়েছেন।
আনোয়ারপুর বাজারের ব্যবসায়ী মিলন তালুকদার জানান, শনিবার সকালে হঠাৎ যাদুকাটা নদী উপচে পানি বৃদ্ধি পেয়ে বাজারের গলিটি ২ ফুট পানির নীচে পড়েছে।
তাহিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ইউএইচএফপিও ডা. ইকবাল হোসেন জানান, শনিবার সকাল থেকেই তাহিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আঙিনাটি দুই ফুট পানির নীচে পড়েছে।
তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার পদ্মাসন সিংহ বলেন, আমরা উপজেলা দুর্যোগ কমিটির জরুরী সভা করেছি। পাহাড়ি ঢলের পানিতে তাহিরপুরের গ্রামীণ অবকাঠামো অনেক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। মানুষের বাড়িঘরে পানি উঠছে। শুকনো খাবারের প্যাকেট প্রস্তুত চলছে। আমরা শুকনো খাবার নিয়ে তাদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে পৌঁছে দেয়ার প্রস্তুতি চলছে। উপজেলায় ৩১টি বন্যাশ্রয় কেন্দ্র খোলা হয়েছে। প্রয়োজনে উপজেলার সকল প্রাথমিক বিদ্যালয় বন্যাশ্রয় কেন্দ্র হিসাবে খুলে দেয়া হবে। সকল ধরনের দুর্যোগ মোকাবেলায় প্রস্তুত রয়েছে উপজেলা প্রশাসন।
সুনামগঞ্জ ১ আসনের সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মোয়াজ্জেম হোসেন রতন বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলো পরিদর্শনে আছেন। ক্ষতিগ্রস্তদের প্রয়োজনীয় সহযোগীতা করতে সরকারের তৎপরতা অব্যাহত থাকবে।