তাহিরপুরে ব্রি-২৮ ও ৮১ ধান ব্লাস্ট রোগে আক্রান্ত

আমিনুল ইসলাম, তাহিরপুর
তাহিরপুরে বিভিন্ন হাওরে ব্রি-২৮ ও ৮১ জাতের ধান ব্লাস্ট রোগে আক্রান্ত হয়েছে। উপজেলার বড়দল দক্ষিণ ইউনিয়নের জামলাবাজ গ্রামের নিলু দাস মাটিয়ান হাওরে ১১ কিয়ার জমিতে ধান চাষ করেছিলেন। এরমধ্যে তার ৩ কিয়ার জমির ব্রি-২৮ ধান ব্লাস্ট রোগে আক্রান্ত হয়েছে। ওই ৩ কিয়ার জমি থেকে কোন ধান পাওয়ার সম্ভাবনা নেই। একই হাওরে সূর্য্যরেগাঁও গ্রামের বর্গাচাষী কৃষক আবুল কাশেম ২০ কিয়ার জমিতে বিভিন্ন জাতে ধান চাষাবাদ করেছিলেন। এর মধ্যে ব্রি-৮১ জাতের ধান ৬ কিয়ার জমিতে চাষাবাদ করেছিলেন। তিনি জানান, তার রোপিত ব্রি-৮১ জাতের ধান ৬ কিয়ার একেবারেই নষ্ট হয়ে গেছে।
উপজেলা কৃষি অফিস সুত্রে জানা যায়, চলতি বছর উপজেলার ছোট বড় ২৩ টি হাওরে ১৮ হাজার ৬শ’ হেক্টর জমিতে বোর ধান চাষাবাদ করা হয়েছে। এরমধ্যে উচ্চ ফলনশীল ধান আবাদ হয়েছে বেশী।
কৃষি অফিস আরও জানায়, উপজেলার বেশ কয়েকটি হাওরের কিছু কিছু এলাকায় ব্রি-২৮ ধানে ব্লাস্ট রোগ দেখা দিয়েছে। দিনে গরম ও রাতে ঠান্ডা থাকার কারণে ২৮ জাতের ধান নেক ব্লাস্ট রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। তবে ছত্রাক নাশক স্প্রে করেও সুফল পাওয়া যাচ্ছে বলে জানায় উপজেলা কৃষি অফিস।
শনির হাওর পার উজান তাহিরপুর গ্রামের কৃষক মুক্তার আহমেদ বলেন, বর্তমানে হাওরে ধান পাকার মুহুর্তে আছে। এ সময় ধানের শীষ সাদা হয়ে যাচ্ছে। বিষয়টি তাদের ভবাচ্ছে। তিনি বলেন, শুধু ২৮ ধানেই নয় সুবর্ণ ধানেও এ রোগ দেখা দিয়েছে।
দক্ষিণ শ্রীপুর ইউনিয়নের শ্রীপুর গ্রামের কৃষক কলিন মিয়া বলেন, তার এলাকায় অনেক কৃষকের ২৮ ধান গাছ সাদা হয়ে মরে যাচ্ছে। কৃষি বিভাগের পরামর্শে তারা কীটনাশক দিয়েছেন, কিন্তু কোন কাজ হচ্ছে না। অনেক ক্ষেত্রে পরামর্শের জন্য এলাকার অনেক কৃষক বাজারের কীটনাশক বিক্রেতাদের কাছেও পরামর্শ চাইছেন।
পাঠাবুকা গ্রামের কৃষক রিপসান হাবিব বলেন, তার রোপিত ব্রি-২৮ ধানের জমিগুলো তিনদিন আগেও খুবই ভালো ছিল। সকালে গিয়ে দেখে তাহার রোপিত শতভাগ জমিগুলোতেই ব্লাষ্ট রোগে আক্রান্ত হয়েছে।
উপসহকারী উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা আসাদুজ্জামান বলেন, এলাকার অনেক কৃষক আমাদের কাছে পরামর্শের জন্য এসেছেন। আমরা তাদের পরামর্শ দিয়েছি। অনেকে উপকৃত হয়েছেন।
বালিজুড়ি ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মো. আজাদ হোসেন জানান, বালিজুড়ি ইউনিয়নে ব্রি-২৮ ধানের জমিতে ব্লাস্ট রোগের বিষয়টি তিনি সরজমিন ঘুরে দেখেছেন।
তাহিরপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা হাসান-উদ-দৌলা বলেন, ব্রি-২৮ ধান রোপণ না করার জন্য আমরা হাওরপাড়ের কৃষকদের পরামর্শ দিয়েছি। কিন্তু অনেক ক্ষেত্রে কৃষক তা মানছেন না। আমাদের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তাগণ সার্বক্ষণিক মাঠে রয়েছেন এবং কৃষকদের পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছেন।
তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার সুপ্রভাত চাকমা বলেন, তিনি হাওরগুলোর কিছু কৃষি জমিতে ব্লাস্ট রোগের আক্রমন দেখেছেন।