তাহিরপুরে সংঘর্ষে আহত ৫

স্টাফ রিপোর্টার, তাহিরপুর
তাহিরপুরে পূর্ব শত্রুতার জের ও প্রতিপক্ষের ছেলের সাথে মেয়ে পালিয়ে যাওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে রক্তক্ষয়ী দু’দফা সংঘর্ষে উভয় পক্ষে ৫ জন আহত হয়েছেন। গুরুতর আহত ৩ জনকে তাহিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। ভর্তিকৃতরা হলো খেলন মিয়া (৩৫), দুলুবা বেগম (৬৫), রাজন (২৭) ও রায়হান (২১)। শনিবার দুপুর বারটা ও বিকাল সাড়ে তিনটায় উপজেলার দক্ষিণ শ্রীপুর ইউনিয়নের নোয়ানগর গ্রামে এ ঘটনা ঘটেছে।
জানা যায়, নোয়ানগর গ্রামে আলী আজগর ও আলী আকবর পক্ষদ্বয়ের মধ্যে দীর্ঘদিনের শত্রুতার রেশ ধরে প্রতিবছরই ঝগড়াঝাটি হয়ে থাকে। ২০১৮ সালে আলী আজগরসহ তার স্বজনরা মিলে ৩০ পরিবার গ্রামছাড়া ছিল। পরে তৎকালীন ইউএনও ও থানার ওসির সহযোগিতায় তারা একদিন পর গ্রামে ফিরে আসে।
এছাড়াও উভয় পক্ষ বিভিন্ন সময়ে ঝগড়াঝাটি করে থাকে। গত ১২ ফেব্রুয়ারি বুধবার নোয়ানগর গ্রামে তাহিরপুর থানার ওসিসহ এলাকার বিশিষ্টজনদের উপস্থিতিতে কমিউনিটি পুলিশিং সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় উভয় পক্ষকে সালিশের মাধ্যমে সমঝোতা করে মিলমিশ করে দেয়া হয়। এরপর দু’পক্ষের মধ্যে স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা করতে দেখা গিয়াছিল।
শুক্রবার দিবাগত রাতে আজগর আলীর মেয়ে প্রতিপক্ষ আব্দুল করিমের ছেলের সাথে পালিয়ে যাওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে সকাল থেকেই গ্রামের মধ্যে উত্তেজনা দেখা গিয়েছিল।
আলী আজগর পক্ষের লোকজন সকাল থেকেই গ্রামের আশপাশ থেকে প্রকাশ্যে ঘোষণা দেয় শনিবার দুপুর ১২টার মধ্যে মেয়ে ফিরিয়ে না দিলে ছেলের পক্ষের বাড়িঘরে হামলা চালানো হবে। সে মোতাবেক প্রথমে বারটার দিতে ও দ্বিতীয় দফা সাড়ে তিনটার সময় এ সংঘর্ষ হয়।
দুপুর ১২ ঘটিকার পরই আজগর আলীর পক্ষ থেকে চালানো হয়েছে প্রতিপক্ষ নোয়ানগর গ্রামের আব্দুল করিম, খসরু মিয়া ও জিল্লুর রহমানের বাড়িঘরে অতর্কিত হামলা হয়। বিকাল সাড়ে তিনটার দ্বিতীয় ফা হামলায় উভয় পক্ষের ৫ জন আহত হয়।
তাহিরপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মুহাম্মদ আতিকুর রহমান বলেন, নোয়ানগর গ্রামে দু’পক্ষের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ হয়েছে। সংবাদ পেয়ে থানা পুলিশ পাঠানো হয়েছে। পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।