তাহিরপুরে সমলয় চাষাবাদ রোপন কর্মসূচীর উদ্বোধন

আমিনুল ইসলাম, তাহিরপুর
মুজিব শতবর্ষে কৃষি প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় তাহিরপুর উপজেলায় ১৫০ কিয়ার (৩০ শতকে এক কিয়ার) জমিতে সমলয়ে বোরো ধানের নতুন জাতের ঝনকরাজ হাইব্রিড ধানের চাষ পরীক্ষামূলকভাবে শুরু হচ্ছে। প্রকল্পের অধীন কৃষকগণকে চাষাবাদ থেকে শুরু করে আধুনিক যন্ত্রপাতির ব্যবহার, ট্রেতে চারা, সার-বীজ-কীটনাশকের সুষম ব্যবহার, হারভেস্টার মেশিনে মাড়াইসহ সব কিছু দিবে উপজেলা কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তর তাহিরপুর।
তাহিরপুর উপজেলা কৃষি সম্প্রাসারণ অধিদপ্তর তাহিরপুর সূত্রে জানা গেছে, তাহিরপুর উপজেলায় চলতি ২০২১-২২ বোরো মৌসুমে সরকারি প্রণোদনায় কৃষি পুনর্বাসন প্রকল্পের আওতায় এ কর্মসূচিটি এবারই প্রথম শুরু করা হয়েছে। এ প্রকল্পটিতে সুনামগঞ্জ জেলার দু’টি উপজেলাকে নির্বাচন করা হয়। সে মোতাবেক সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জ উপজেলা ও তাহিরপুর উপজেলাকে এর আওতায় আনা হয়েছে। প্রকল্পটি তাহিরপুর উপজেলার বাদাঘাট ইউনিয়নের উত্তর মোকসেদপুর গ্রামে বাস্তবায়িত হচ্ছে। বুধবার দুপুরে তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. রায়হান কবীর ও উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. হাসান-উদ-দৌলা প্রকল্পটি শুভ উদ্বোধন করেন।
এ প্রকল্পে ১০২ জন কৃষক সুবিধাভোগীর একই স্থানে অবস্থিত সমালয়ে নতুন জাতের এ ধান চাষাবাদ করতে সরকারের কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগ প্রণোদনা হিসেবে বরাদ্দ দিয়েছে। একর প্রতি ১০০ কেজি ইউরিয়া, ৪৫ কেজি ডিএপি, ৫০ কেজি এমওপি, প্রয়োগ করা হয়েছে। এ ছাড়াও সকল প্রকার প্রযুক্তি সহায়তা দিচ্ছে উপজেলা কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তর। একই সময় চারা রোপণ করায় নির্দিষ্ট এলাকায় সব ধান পাকেও একই সময়। মেশিন দিয়ে একই সঙ্গে সব ধান কাটা ও মাড়াই করা যাবে। এর জীবন কাল ১৪০-১৪৫ দিন। দেখতে সাধারণ বোরোর মতই।
উত্তর মোকসেদপুর গ্রামের কৃষক জহিরুল ইসলাম জানান, কোনোরকম খরচ ছাড়াই গড়ে একর প্রতি ৬ থেকে ৭ মেট্রিক টন নতুন এ জাতের ধানের ফলন পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
তাহিরপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. হাসান-উদ-দৌলা বলেন, সফলভাবে ফসল উৎপাদনের জন্য সমলয়ে চাষাবাদ পদ্ধতিকে জনপ্রিয় করার লক্ষ্যে বাংলাদেশ কৃষি মন্ত্রণালয় এ বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে। সমলয়ে চাষাবাদের মাধ্যমে আধুনিক প্রযুক্তির প্রসারসহ বোরো ধানের উৎপাদন খরচ কমানো, শ্রমিক সংকট নিরসন ও সময় সাশ্রয় সম্ভব। সুবিধাভোগীদের সকল ব্যয় প্রকল্প খাত থেকে প্রণোদনা হিসেবে সরকারের কৃষি বিভাগ প্রদান করবে। এছাড়া সমালয় পদ্ধতিতে এ অঞ্চলে বোরো আবাদে কৃষকের আগ্রহ আরও বেড়ে যাবে।