তাহিরপুরে ৮টি ফসল রক্ষা বাঁধ অরক্ষিত

আমিনুল ইসলাম, তাহিরপুর
তাহিরপুর উপজেলার বোর ফসলি হাওরের ৮টি ফসল রক্ষা বাঁধের বরাদ্দ না দেয়ায় প্রতি বছর ৭ হাজার একর জমির ধান আগাম বন্যার পানিতে তলিয়ে যায়। হাওরগুলো হলো— গনিয়াকুড়ি, এরালিয়াকোনা, নান্দিয়া, লামারগুল, টানেরগুল, রাঙ্গামাটিয়া, ফলিয়ার বিল, সন্যাসি।
তাহিরপুর উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, তাহিরপুর উপজেলায় ছোট বড় ২৩টি হাওর রয়েছে। এর মধ্যে পানি উন্নয়ন বোর্ড ১৫টি হাওরে ফসল রক্ষা বাঁধের কাজ করলেও টাঙ্গুয়া হাওরপাড়ের ৮ টি হাওরে কোন বছরই ফসল রক্ষা বাঁধের কাজ করা হয় না। তবে পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা জানান, তারা উপজেলার ২৩টি হাওরের মধ্যে মধ্যে ৫টি হাওরের ফসল রক্ষা বাঁধের কাজ করেন। হাওরগুলো হলো—শনি, মাটিয়ান, মাটিয়ান বর্ধিতাংশ, মহালিয়া ও গুরমা বর্ধিতাংশ।
এ বিষয়ে টাঙ্গুয়া হাওর পাড়ের মন্দিয়াতা গ্রামের বাসিন্দা শ্রীপুর উত্তর ইউনিয়নের ইউপি সদস্য মো. সাজিনুর মিয়া বলেন, হাওরগুলো বাঁধের জন্য তারা বিভিন্ন সময়ে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের সাথে যোগাযোগ করেন কিন্তু পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্তৃপক্ষ এতে কোন সাড়া দেয়নি।
তাহিরপুর উপজেলা আওয়ামীলীগ সভাপতি হাজী আবুল হোসেন খান জানান, তিনি শ্রীপুর উত্তর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান থাকাকালীন সময়ে প্রতি বছর তিনি টিআর কাবিখা থেকে টাঙ্গুয়া হাওরের গুরুত্ত্বপূর্ণ বাঁধগুলোতে রাতদিন কাজ করে ফসল রক্ষা করেছেন। এ বছর এ ৮টি হাওরের ফসল রক্ষা করা নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছেন।
টাঙ্গুয়া হাওর পাড়ের গোলাবাড়ি গ্রামের বাসিন্দা খসরুল আলম বলেন, টাঙ্গুয়া হাওর রক্ষার জন্য মূল বাঁধ হলো নজরখালি ও নাওটানা বাঁধ। এ দুটি বাঁধ টাঙ্গুয়ার হাওরের সহ ব্যবস্থাপনা কমিটির নিজস্ব তহবিল থেকে প্রতি বছর বাঁধ নির্মাণ কাজ করে থাকে।
তিনি আরো জানান, টাঙ্গুয়া হাওর পাড়ের গনিয়াকুড়ি, এরালিয়াকোনা, নান্দিয়া, লামারগুল, টানেরগুল, রাঙ্গামাটিয়া, ফলিয়ার বিল, সন্যাসি হাওরগুলোর ধান কৃষকরা সঠিকভাবে তুলতে পারলে টাঙ্গুয়া হাওরপাড়ের কৃষকরা মাছ ধরা থেকে বিরত থাকবে। যে বছর তাদের হাওরের ধান পানিতে তলিয়ে যায় তখন তারা বাধ্য হয়ে বিকল্প কর্ম হিসাবে মাছ ধরাকে পেশা হিসাবে তারা বেছে নেয়।
সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ—সহকারী প্রকৌশলী মোহাম্মদ পার্থ বলেন, তাদের কাছে পানি উন্নয়ন বোর্ডের কোন সিদ্ধান্ত না থাকায় ৮টি হাওরের বাঁধে কোন কাজ করানো সম্ভব হয় না।
তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. রায়হান কবীর বলেন, টাঙ্গুয়ার হাওরের বাঁধগুলো নির্মাণের জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ড সুনামগঞ্জ এর কারিগরি কমিটির সাথে আলোচনাক্রমে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
তিনি আরো জানান, এ বছর সবগুলো বাঁধের কাজ প্রায় শেষের দিকে। তাই আমরা আগামীতে কাজ করার জন্য এবছর এ বাঁধগুলোর ডিজাইন ও প্রাক্কলন তৈরী করে রাখবো।