তাহিরপুর উপজেলা পরিষদের পুকুরটি দূষণমুক্ত করুন

সুনামগঞ্জের বিভিন্ন উপজেলা পরিষদের মধ্যে তাহিরপুর উপজেলা পরিষদের পুকুরটি দৃষ্টিনন্দন। বিশাল এই পুকুরটির অবস্থান ৩২ শতক জায়গাজুড়ে। এই পুকুরের তিন পাশে গড়ে তোলা হয়েছে উপজেলা পরিষদের প্রশাসনিক ও আবাসিক স্থাপনাসমূহ। এক দিকে তাহিরপুর বাজার। পুকুরের একপাশে বিশাল শনির হাওর আর অন্যপাশে মাটিয়ান হাওরের বিশাল বিস্তৃতি আর সুন্দরের সমারোহ। উপজেলার এই পুকুরটি চাকুরীজীবীসহ তাহিরপুর বাজার এলাকার মানুষের জলের চাহিদা পূরণ করত। বহু বছর এই পুকুরের জলের উপর নির্ভরশীল ছিলেন বহু মানুষ। সম্প্রতি বিশাল এই পুকুরটি দূষিত হয়ে পড়েছে। এখন এই পুকুরের পানি হয়ে উঠেছে ব্যবহার অনুপযুক্ত। গতকাল দৈনিক সুনামগঞ্জের খবরে প্রকাশিত একটি সংবাদে পুকুরটির করুণ অবস্থা তোলে ধরা হয়েছে। প্রকাশিত সংবাদ থেকে জানা যায়, পুকুরের পানিতে এক ইঞ্চি পরিমাণ শ্যাওলার আস্তরণ জমেছে। পুকুরে ভাসমান দেখা যায় প্লাস্টিকের বোতল ও অন্যান্য আবর্জনা। পুকুরের পানি বিশুদ্ধ করতে সম্প্রতি উপজেলা মৎস্য অফিস থেকে কিছু রাসায়নিক প্রয়োগ করেও কোন ফল পাওয়া যায় নি। মৎস্য কর্মকর্তা অবশ্য বলেছেন, উপজেলা নির্বাহী অফিসারের সাথে আলোচনা করে পুকুরটির পানি বিশুদ্ধকরণের ব্যবস্থা নেয়া হবে। তিনি আরও জানিয়েছেন বিশাল এই পুকুরটি মাচ চাষের জন্য খুব উপযোগী। কিন্তু পানি দূষণের কারণে এখন মাছ চাষ করা যাচ্ছে না।
পুকুর, জলাশয় আমাদের প্রতিবেশের অন্যতম অঙ্গ। মানুষের বসবাসের চাহিদা মিটাতে এখন গণহারে পুকুর ভরাট করা হচ্ছে সর্বত্র। উচ্চ আদালতের নিষেধাজ্ঞাও মানা হচ্ছে না সরকারি পুকুর রক্ষণাবেক্ষণে। অথচ একটি পুকুর তথা জলাধার নানাভাবে মানুষের উপকার করে। এটি যেমন একদিকে মানুষের পানির চাহিদা পূরণ করে তেমনি অগ্নিকা-জনিত দুর্ঘটনায় এসব জলাধারের পানি সর্বোত্তম ভূমিকা পালন করে। অগ্নিকা-স্থলে পুকুর বা জলাশয় না থাকলে ক্ষয়ক্ষতি কত ভয়াবহ হয়ে উঠে তা আমরা বহু ঘটনা থেকে দেখতে পারি। অন্যদিকে পুকুরে মাছ চাষ করে অর্থনৈতিক ক্রিয়াকর্মও পরিচালনা করা যায়। তাহিরপুরের পুকুরে মাছ চাষ করা হত।  এখন পানি দূষণের কারণে মাছ চাষ করা যাচ্ছে না। হিসাব কষলে দেখা যাবে পানি বিশুদ্ধ করতে যে পরিমাণ অর্থ ব্যয় হবে মাছ চাষে তার চাইতে অনেক বেশি টাকা আয় করা সম্ভব এক বছরেই। শুধুমাত্র উদ্যোগহীনতার কারণে একটি ঐতিহাসিক ও বড় পুকুর আমাদের চোখের সামনে নষ্ট হয়ে পড়ছে। উপজেলা পরিষদের জন্য এই পুকুরটিকে ভালভাবে সংরক্ষণের ব্যবস্থা করা কঠিন কোন কাজ নয়। এডিবির বরাদ্দ থেকে এটি সহজেই করা সম্ভব। এই সহজ কাজটি না করে কেন উপজেলা পরিষদের পেটের ভিতরে অবস্থিত একটি পুকুরকে মেরে ফেলা হচ্ছে তা আমাদের মাথায় কিছুতেই ঢুকছে না।   
তাহিরপুরে থানা তথা উপজেলা গড়ে উঠার সময় যে পুকুরটি খনন করা হয়েছিল তা ওই থানা বা উপজেলার ইতিহাসের অঙ্গ। ঐতিহাসিক এই পুকুরটি সংরক্ষণ করে উপজেলা পরিষদের সৌন্দর্য বৃদ্ধি ও এর বহুবিধ ব্যবহারের পথ প্রশস্ত করার জন্য আমরা তাহিরপুর উপজেলা পরিষদ কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ করছি।