তাহিরপুর ২৭১ বস্তা সার আটক, অবৈধ পাচারকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিন

সার নিয়ে অসাধু ব্যবসা নতুন কিছু নয়। বাজারে সারের সংকট থাকায় এই অনৈতিক ব্যবসা আরও জোরদার হয়েছে। শুক্রবার জেলার তাহিরপুর উপজেলার বালিজুরি ইউনিয়নে পাচারকালে জনৈক সার ডিলারের ২৭১ বস্তা ডিএপি সার উদ্ধার এরকম অবৈধ কর্মকা-ের একটি উদাহরণ মাত্র। সংবাদসূত্রে জানা যায় বালিজুরি বাজারের সার ডিলার হাফিজুর রহমানের পাঠানো ২৭১ বস্তা সার উদ্ধার করেছে তাহিরপুর থানা পুলিশ। নৌকায় করে সারের বস্তাগুলো ভৈরব পাচার করা হচ্ছিল। সারের ডিলার হাফিজুর রহমান পাচারের বিষয়ে অজ্ঞতা প্রকাশ করে নিজের বড় ভাই আতাউর রহমান সবকিছু জানেন বলে গণমাধ্যমকে বলেছেন। পুলিশ নৌকার চালকসহ ৩ জনকে গ্রেফতার করেছে। আসল পাচারকারী সারের ডিলার বা ডিলারের ভাইকে পুলিশ ধরতে পারেনি। এরকম ক্ষেত্রে মূল ব্যক্তির পুলিশ কর্তৃক ধৃত হওয়ার খবর আমরা খুব কমই শুনতে পাই। নৌকা চালকের মতো কিছু ব্যক্তি ধরা পড়ে যারা আসলে অসাধু চক্রের অংশ হলেও মূল হোতা নন। মূল ব্যক্তিরা ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকায় এরকম অবৈধ কর্মকা- কিছুতেই বন্ধ করা যাচ্ছে না। নৌকা বা যেকোনো ধরনের পরিবহনে অবৈধ পণ্য পরিবহণ করা নিষিদ্ধ। এ বিবেচনায় পাচারের উদ্দেশ্যে সার বহন করা সংশ্লিষ্ট নৌকার মালিক ও মাঝিদের বেআইনি কর্মকা- নিঃসন্দেহে। বমাল ধরা পড়ায় এদের অবশ্যই আইনী প্রক্রিয়ার সম্মুখীন হতে হবে। কিন্তু একই সাথে মূল ডিলারকে আইনের আওতায় নিয়ে আসা জরুরি। যে সার ডিলারের সার পাচালকালে ধরা হয়েছে ভবিষ্যতে সেই ব্যক্তির সারের ডিলারশিপ বাতিল হয়ে যাওয়ার কথা। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা বিষয়টি অবগত হয়েছেন বলে সংবাদে উল্লেখ আছে। এখন দেখার বিষয় হলোÑ সরকারি সার ডিলারের বেআইনি কাজের জন্য তারা কী ব্যবস্থা গ্রহণ করেন।
সার ডিলারদের নানা কায়দাবাজির খবর সংবাদপত্রে মাঝেমধ্যে প্রকাশিত হয়। সরকার নির্ধারিত মূল্যের চাইতে বেশি দামে সার বিক্রি করার মতো নৈমিত্তিক ঘটনার পাশাপাশি ওজনে কম দেয়া, সারের কৃত্রিম সংকট তৈরি করা, কৃষকদের খোলাবাজার থেকে অধিক দামে সার কিনতে বাধ্য করার মতো নানা অভিযোগ রয়েছে এসব সার ডিলারদের বিরুদ্ধে। চাষাবাদে এখন সারের ব্যবহার একেবারে অপরিহার্য। উৎপাদন বাড়াতে সার ব্যবহারের কোনো বিকল্প নেই। তাই মৌসুমে কৃষকরা সারের জন্য হন্যে হয়ে উঠেন। সরকার কৃষকদের সারের চাহিদা মিটানোর জন্য যে সরবরাহ লাইন তৈরি করে রেখেছেন সেই ব্যবস্থাকে স্থানীয়ভাবে কলুষিত করে ফেলা হয়েছে। তাই কৃষকরা ন্যায্যমূল্যে সার কিনতে পারেন না বলে প্রায়শই অভিযোগ উঠে। কৃষি বিভাগ কর্তৃক সার ডিলারদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণে বেশ অনীহাভাব লক্ষ্য করা যায়। সরকারি ডিলারদের যখন সরকারি নিয়ম-কানুন মানতে বাধ্য করার মতো ব্যবস্থাপনার অভাব থাকে তখন এই সুযোগে অবৈধ পন্থাগুলো মাথাচাড়া দিয়ে উঠবে এতে আর আশ্চর্য কী। এরই প্রতিফলন হলো বালিজুরি বাজারে ২৭১ বস্তা সার আটকের ঘটনা।
তাহিরপুরে পাচারের উদ্দেশ্যে প্রেরিত সার আটক হওয়ায় অন্তত একটি ঘটনা আইনের চোখে স্পষ্ট হলো। অগোচরে আরও কী পরিমাণ সার অবৈধভাবে পাচার হয়ে গেছে কে জানে। তাই ধরা পড়া এই ঘটনাটির সুষ্ঠু বিচার হওয়া প্রয়োজন। বিচার হওয়া প্রয়োজন এ কারণে যে, অন্য সার ডিলাররা যাতে অনুরূপ ঘটনা ঘটাতে অন্তত দশবার চিন্তা করেন। তাহিরপুর থানা পুলিশ, উপজেলা কৃষি বিভাগ ও উপজেলা প্রশাসনের প্রতি আমাদের আহ্বান, ২৭১ বস্তা সার আটকের ঘটনাটিকে আপনারা ধামাচাপা পড়তে দিবেন না। এর উপযুক্ত বিচার করুন। তাহলে দেশের কৃষি উৎপাদনের অন্যতম উপকরণ সার নিয়ে নয়-ছয় করার দুর্বৃত্তপনা করা থেকে ভবিষ্যতে অন্যরা নিবৃত্ত হবে।