মধ্যনগর প্রতিনিধি
কথায় আছে ‘সর্বাঙ্গে ব্যথা, ওষুধ দেব কোথা’ এমনই অবস্থা মধ্যনগর উপজেলার চাপাইতি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের। নানাবিধ সমস্যায় জর্জরিত বিদ্যালয়ে পাঠদানের উপযুক্ত পরিবেশ নেই। নেই বিদ্যুৎ সংযোগ, পানীয়জলের ন্যূনতম ব্যবস্থা। এছাড়াও শ্রেণিকক্ষের সংকট তো আছেই। বিদ্যালয়ের জরাজীর্ণ ভবনের ৩টি কক্ষে চলছে ৯টি শ্রেণির পাঠদান। এতে ব্যাহত হচ্ছে মানসম্মত শিক্ষা কার্যক্রম।
জানা যায়, ২০১০ সালে প্রণীত জাতীয় শিক্ষানীতির আলোকে প্রাথমিক শিক্ষার মেয়াদ ৫ বছর থেকে বাড়িয়ে ৮ বছর করা হয়। পরীক্ষামূলকভাবে ২০১৩-২০১৪ সালে সারাদেশে মোট ৬২৭টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ষষ্ঠ থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত প্রাথমিক পর্ব চালু করা হয়। এসময়ই চাপাইতি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত পাঠদান কার্যক্রম চালুর অনুমোদন পায়। সেই থেকেই নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের জন্য প্রয়োজনীয় জনবল, অবকাঠামো ও অর্থের সংস্থান কোনোটাই নেই এখানে। অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত পাঠদান করতে গিয়ে ‘ত্রাহি মধুসুদন’ অবস্থা এই বিদ্যালয়ের।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, একটি শ্রেণিকক্ষে তৃতীয় শ্রেণি ও ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থীরা গাদাগাদি করে বসেছে। শিক্ষক তৃতীয় শ্রেণির বাংলা বিষয়ে পাঠদান করছেন। ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থীরা বসে আছে।
বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মাসুদ রানা বলেন, বিদ্যালয়টিতে চারজন শিক্ষক কর্মরত রয়েছেন। মোট শিক্ষার্থীর সংখ্যা ১৫০ জন। নানাবিধ সংকটের কারণে কর্মরত শিক্ষকরা শিক্ষার্থীদের সুষ্ঠুভাবে পাঠদান করতে পারছেন না।
তিনি আরও বলেন, সম্প্রতি স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান বিদ্যালয় পরিদর্শনে এসে পানীয়জলের সংকট দূরীকরণে একটি নলকূপ স্থাপনের ব্যবস্থা করে দিয়েছেন।
শিক্ষার্থীর অভিভাবক ও এসএমসি’র সদস্য আবুল কাশেম বলেন, বিদ্যালয়টি মাত্র ৯ শতাংশ জমির ওপর স্থাপিত। বিদ্যালয়টিতে একটি বহুতল ভবন নির্মাণ ও প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগসহ সকল সমস্যার সমাধানে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে কর্তৃপক্ষের কাছে দাবি জানান তিনি।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মানবেন্দ্র দাস বলেন, বিদ্যালয়ের নানান সমস্যা সমাধানে করতে আমরা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। এ নিয়ে উচ্চ পর্যায়ের একটি টিম ইতিমধ্যেই সরেজমিনে পরিদর্শন করেছেন। আশাকরি অচিরেই সকল সমস্যার সমাধান হবে।


