দিরাই সংবাদদাতা
নদীর পানি কমতে শুরু করলেও ঝঁুকিমুক্ত হয়নি হাওরের ফসল রক্ষা বাঁধগুলো, ফলে কাটেনি শঙ্কা। আবারো উজানে ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা থাকায় কৃষকের কপালে নতুন করে চিন্তার রেখা দেখা দিয়েছে। বাঁধের পাড়ে রাত জেগে পাহারা দিচ্ছে কৃষক। কোন কোন বাঁধে জেনারেটর দিয়ে আলোর ব্যবস্থা করা হয়েছে।
দিরাই উপজেলার ১১টি ঝঁুকিপূর্ণ ক্লোজারের মধ্যে গত বুধবার বৈশাখী কেস্নাজার ভেঙ্গে বৈশাখী ও চাপতি হাওরের সাড়ে চার হাজার হেক্টর জমি তলিয়েছে। বাকি ১০টি ঝঁুকিপূর্ণ ক্লোজারের মধ্যে টাঙ্গুয়ার (টাংনী) হাওর উপ—প্রকল্পের আওতায় পিআইসি নং—২৮ ও হুরামন্দিরা হাওর উপ—প্রকল্পের আওতায় ৫০ ও ৫১ নং বােঁধ ফাটল দেখা দিলে স্থানীয় কৃষকরা দিনেরাতে ফাটল মেরামতের কাজ করছেন। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত ফাটল ধরা বাঁধগুলোতে বড় ধরনের কোন ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।
এদিকে দিরাইয়ের অধিক ঝুঁকিতে থাকা বরাম হাওরের তুফানখালী বাঁধ পরিদর্শন করেছেন দিরাই শাল্লার সাংসদ ড. জয়া সেনগুপ্তা। শনিবার দুপুর ১২টায় তিনি বাঁধ পরিদর্শনে যান এবং বাঁধের সার্বিক নিরাপত্তাসহ অন্যান্য বাঁধের বিষয়ে খেঁাজ খবর নেন।
পরির্দশনকালীন সময়ে তিনি বলেন, বাঁধের পাশে থাকা বড় গর্তগুলো (কুরুং) ভরাট করা ও নদী খননের জন্য আমি ব্যক্তিগতভাবে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সাথে সাক্ষাৎ করবো। হাওর রক্ষা বাঁধের বিষয়ে আরো বেশি গুরুত্ব দিয়ে কৃষকের ফসল নিশ্চিন্তে যাতে ঘরে তুলতে পারে সে ব্যাপারে অতি দ্রুততার সাথে পদক্ষেপ নেবো। সবাইকে মিলেমিশে ধৈয্যের্র সাথে দুর্যোগকালীন সময় অতিক্রম করার জন্য আহ্বান জানিয়ে বলেন, বর্তমান সরকার কৃষকদের স্বার্থে সবসময় নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্তদের আশ্বাস দিয়ে বলেন, সরকার তথা বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ আপনাদের পাশে রয়েছে। আপনারা নিরাশ হবেন না।
পরিদর্শনকালীন উপস্থিত ছিলেন দিরাই উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ—সভাপতি সিরাজউদ্দোলা তালুকদার, অ্যাড. সোহেল আহমদ ছইল মিয়া, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক প্রদীপ রায়, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা হাফিজুর রহমান তালুকদার, উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাহমুদুর রহমান মামুন, তাড়ল ইউনিয়ন চেয়ারম্যান মো. আলী আহমদ, দিরাইবাজার মহাজন সমিতির সভাপতি কামাল উদ্দিনসহ স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও অংগসংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
শুক্রবার দুপুর থেকে শনিবার বেলা ১২টা পর্যন্ত কালনী নদীর পানি ৪ সেঃমিঃ কমেছে বলে জানিয়েছেন বাপাউবো দিরাই শাখা কর্মকর্তা এটিএম মোনায়েম হোসেন। তিনি বলেন, আমরা ঝুঁকিপূর্ণ বাঁধগুলো সার্বক্ষণিক মনিটরিং করছি। দিরাইতে এই মুহূর্তে ৩/৪টি বাঁধ অধিক ঝুঁকিতে রয়েছে। স্থানীয় কৃষক ও পিআইসিদের নিয়ে ফাটল ধরা বাঁধগুলোকে দ্রুত মেরামত করার ব্যবস্থা করছি।
- প্রখ্যাত সাংবাদিক হাসান শাহরিয়ারের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী আজ
- মাটিয়াপুর বাঁধে ফাটল/ রাতভর চেষ্টায় রক্ষা করলেন এলাকাবাসী


