তৈরি পোশাক শিল্প রক্ষায় সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন

শ্যামল রায়
সম্প্রতি পোশাক শিল্পে অস্থিরতার কারণে আশুলিয়ায় অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ হয়ে যাওয়া ৫৫টি কারখানা ২৭ ডিসেম্বর থেকে খুলে দিয়েছে তৈরি পোশাক শিল্প মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ। আশুলিয়ার বন্ধ হয়ে যাওয়া কারখানা মালিকদের সঙ্গে বিজিএমইএ সভাপতি ও পরিচালকদের জরুরি বৈঠক শেষে বন্ধ সব গার্মেন্টস খুলে দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। উল্লেখ্য, আশুলিয়ার এ ঘটনার কারণে প্রতিদিন গড়ে ৮০ কোটি টাকা ক্ষতির সম্মুখীন হন মালিকপক্ষ। এ হিসাবে গত ১৫ দিনে প্রায় দেড় হাজার কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে এ শিল্পে।
শ্রমিকদের আন্দোলনের কারণে রফতানি বাজার হারানোর আশংকা করছে বিজিএমইএ। মালিকপক্ষ শ্রমিকদের এ আন্দোলনকে স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্র আখ্যা দিয়ে ষড়যন্ত্রকারীদের শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
সংগঠনের সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান বলেছেন, বিভিন্ন সময়ে শ্রমিকদের উস্কানি দিয়ে পোশাক শিল্পকে ধ্বংসাত্মক পরিস্থিতির দিকে ঠেলে দেয়া হয়েছে। এ শিল্প নিয়ে বড় ধরনের চক্রান্ত শুরু হয়েছে। তিনি বলেছেন, চক্রান্তকারীরা জানে, পোশাক খাত ধ্বংস করা গেলে বাংলাদেশের অর্থনীতির মেরুদ- ভেঙে দেয়া সম্ভব হবে। সংগঠনের একজন সহসভাপতি তাৎক্ষণিক হিসাব করে জানিয়েছেন, কারখানাগুলোয় দিনে কমপক্ষে এক কোটি মার্কিন ডলারের পোশাক উৎপাদন করা হয়।
ঘটনার বেশ ক’দিন আগেই আশুলিয়া এলাকায় গার্মেন্টসে ন্যূনতম মজুরি বর্তমানের চেয়ে তিনগুণ বাড়ানোর দাবি সংবলিত লিফলেট ছড়িয়ে দেয়া হয়। বেনামে ছড়িয়ে দেয়া ওই লিফলেটের জের ধরে একটি-দুটি করে কারখানায় শ্রমিকরা কর্মবিরতি শুরু করে। কিছু শ্রমিক ওই এলাকায় একটি সমাবেশও করেছে। দেখা গেছে, শ্রমিকরা কর্মস্থলে হাজির হলেও কাজ না করে বসে থাকে। তবে লক্ষণীয় বিষয় হচ্ছে, কোনো পক্ষই কঠোর অবস্থানে যায়নি। মালিকরা কারখানা বন্ধ করলেও শ্রমিক ছাঁটাই বা কঠিন কোনো পরিস্থিতি তৈরি করেনি। যাই হোক, আলোচনার পথ বন্ধ হয়ে গেছে- এমন মনে করার কোনো কারণ নেই। ইতিমধ্যে শ্রমিকদের দাবির কিছু কিছু অংশ মেনে নেয়া হয়েছে। মজুরি বৃদ্ধির যে বিষয়টি উঠে এসেছে, সেটিও আলোচনার ভিত্তিতে মীমাংসা হতে পারে বলে আমরা মনে করি।
বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্প নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে চক্রান্ত চলছে। এ চক্রান্তের গতি-প্রকৃতি কী, তা অবশ্যই খতিয়ে দেখা দরকার। মূলত বাংলাদেশের অর্থনীতি যারা ধ্বংস করতে চায়, তারাই এদেশে তৈরি পোশাক শিল্পের বিকাশ সহ্য করতে পারছে না। এটি বেতন-ভাতার আন্দোলনের সঙ্গে কতটা সম্পৃক্ত, তা অবশ্যই দেখার বিষয়। শ্রমিকদের অনুভব করতে হবে, কোনো পোশাক কারখানা বন্ধ রেখে ফায়দা আদায় সম্ভব নয়। শ্রমিক-মালিক আন্তরিক ও উদ্যোগী হলে যে কোনো সংকট মোকাবেলা করা কঠিন কিছু নয়। একটি কথা অবশ্যই মনে রাখতে হবে, তৈরি পোশাক শিল্প দেশের রফতানি বাণিজ্যের প্রাণ। এ খাতকে সচল রাখতে হলে মালিক-শ্রমিক ঐক্যের কোনো বিকল্প নেই। একটি পত্রিকায় বিজিএমইএ-র সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান ও বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের সভাপতি ডা. ওয়াজেদ উল ইসলাম খানের সাক্ষাৎকারে যে বিষয়টি ফুটে উঠেছে তা হল, দেশের তৈরি পোশাক শিল্পকে রক্ষা করতে যে কোনো ধরনের ষড়যন্ত্র ও চক্রান্ত্রের বিরুদ্ধে সম্মিলিতভাবে রুখে দাঁড়াতে হবে। মালিক-শ্রমিক সম্পর্কের অবনতি ঘটিয়ে কোনো অপশক্তি যাতে ফায়দা লুটতে না পারে, এ ব্যাপারে সজাগ থাকতে হবে। রাখতে হবে সতর্ক দৃষ্টি।
লেখক: কবি ও ব্যবসায়ী, উত্তরা, ঢাকা