ত্রাণ তৎপরতা জোরদারের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

সু.খবর ডেস্ক
হাওর এলাকায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের মধ্যে ত্রাণ তৎপরতা জোরদার করার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। একই সঙ্গে এ পর্যন্ত যেসব পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, সেগুলো আরও বেশি প্রচারের ব্যবস্থা করার জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। সোমবার সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে মন্ত্রিপরিষদের বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ সচিবের সংবাদ ব্রিফিং এবং একাধিক মন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলে বিষয়টি জানা গেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন মন্ত্রী বলেন, সবাই যেন ত্রাণ পায়, সে জন্য ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনামন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরীকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।
সংবাদ ব্রিফিংয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম বলেন, হাওর এলাকায় পর্যাপ্ত ত্রাণ পৌঁছানো গেছে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট চারটি মন্ত্রণালয় সঙ্গে সঙ্গে পদক্ষেপ নিয়েছে। এটাকে আরও একটু প্রচারে আনার জন্য নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।
তিনি জানান, বন্যা উপদ্রুত হাওর অঞ্চলে ক্ষতিগ্রস্তদের ত্রাণ বিতরণে কোনো ধরনের গাফিলতি তা ভুলভ্রান্তি হলে কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।
সরকারি হিসাবে বন্যায় প্রায় দুই লাখ হেক্টর জমির বোরো ধান সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া এক হাজার ৭৬ টন মাছ মারা গেছে, হাঁস মারা গেছে তিন হাজার ৮৪৪টি।
গত প্রায় এক মাস ধরে হাওর অধ্যুষিত সুনামগঞ্জ, কিশোরগঞ্জ, নেত্রকোণা, হবিগঞ্জ, মৌলভীবাজারে ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।   ধানের পাশাপাশি মড়ক ধরে মাছেও। এই অবস্থায় সহায়তা না পেলে এই অঞ্চলের মানুষদের পক্ষে ঘুরে দাঁড়ানো কঠিন হবে।
সরকার অবশ্য আগে থেকেই ওই এলাকায় সহায়তা দিয়ে যাচ্ছে। এই সহায়তা পর্যাপ্ত নয় বলে বিভিন্ন সংগঠন ও ব্যক্তি দাবি করে আসছে।
হাওরে বাঁধ নির্মাণে গাফিলতি ও দুর্নীতির অভিযোগ নিয়েও কথা হচ্ছে বেশ কিছুদিন ধরে। এ নিয়ে কোনো আলোচনা হয়েছে কি না- জানতে চাইলে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, ‘বাঁধ নিয়ে আলোচনা হয়নি। অন্য ইস্যুগুলো নিয়ে আলোচনা হয়েছে যে মানুষ ঠিকভাবে রিলিফ পাচ্ছে কি না।’
এদিকে আজকের মন্ত্রিসভায় ‘মৎস্য সঙ্গ নিরোধ আইন-২০১৭’-এর খসড়ার নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। প্রস্তাবিত এই আইন অনুযায়ী মৎস্য, মৎস্যপণ্য বা মৎস্যের উপকারী বা ক্ষতিকারক জীবাণু আমদানির জন্য সরকারের অনুমোদন লাগবে। কেউ যদি আইন অমান্য করে এই কাজ করেন, তাহলে অনূর্ধ্ব দুই বছরের কারাদন্ড বা পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা বা উভয় দন্ডে দন্ডিত করা যাবে।
মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, এটি নতুন আইন। বিভিন্ন দেশ থেকে মৎস্য বা মৎস্যজাত পণ্য, যেমন: পোনা, রেণু ইত্যাদি আমদানির সময় যাতে রোগ-জীবাণু না থাকে, এই আইনে সেই সুরক্ষা দেওয়া হয়েছে।