দক্ষিণ সুনামগঞ্জে ৬ পিআইসি সভাপতি আটক, ৫ জনকে ২ দিনের জেল

দক্ষিণ সুনামগঞ্জ অফিস
কাবিটা নীতিমালা পরিপন্থী ভাবে কাজ করায় দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলার ৬ পিআইসি সভাপতিকে আটক হয়েছে। এদের মধ্যে ৫ জনকে ২ দিনের জেল এবং ১ জনকে মুচলেকার মাধ্যমে মুক্তি দেয়া হয়।
জানা যায়, কাবিটা নীতিমালা পরিপন্থী ভাবে কাজ করায় দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলার পূর্ব বীরগাঁও ইউনিয়নের খাই হাওরের ৩১, ৩২ ও পশ্চিম বীরগাঁও ইউনিয়নের খাই হাওরের ২৭, ২৮, ২৯, ৩০ নং পিআইসির সভাপতিকে আটক করা হয়। পরে ভ্রমামাণ আদালতের মাধ্যমে পশ্চিম বীরগাঁও ইউনিয়রে খাই হাওরের ২৭, ২৮, ২৯, ৩০ ও পূর্ব বীরগাঁও ইউনিয়নের ৩২ নং পিআইসির সভাপতিকে ২ দিন বিনাশ্রম কারাদ- প্রদান করেন উপজেলা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রের ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জেবুন নাহার শাম্মী। পূর্ব বীরগাঁও ইউনিয়নের খাই হাওরের ৩১ পিআইসির সভাপতিকে মুচলেকায় মুক্তি দেয়া হয়।
আটকৃতরা হলেন, পশ্চিম বীরগাঁও ইউনিয়রে খাই হাওরের ২৭ নং পিআইসর সভাপিত মো. হিরণ মিয়া, ২৮ নং পিআইসর সভাপতি এমরান হোসেন, ২৯ নং পিআইনর সভাপতি রুহুল আমীন, ৩০ নং পিআইসির সভাপতি মো. আমিরুল ইসলাম ও পূর্ব বীরগাঁও ইুনিয়নের খাই হাওরের ৩২ নং পিআইসির সভাপতি সয়েজ নুর। তাদের সবাইকে ২দিনের বিনাশ্রম কারাদ- প্রদান করা হয়। পূর্ব বীরগাঁও ইউনিয়নের খাই হাওরের ৩১ নং পিআইসির সভাপতি জুবায়েল আহমদকে মুচলেকায় মুক্তি দেওয়া হয়।
সোমবার সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জেবুন নাহার শাম্মী সহ উপজেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের মনিটরিং কমিটির সদস্যরা পশ্চিম বীরগাঁও ও পূর্ব বীরগাঁও ইউনিয়নে বাস্তবায়িত বিভিন্ন প্রকল্প পরিদর্শন করেন। পরিদর্শনে খাই হাওরের ঐ ৬ প্রকল্পের কাজে ত্রুটি থাকায় ও বার বার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ত্রুটি পূর্ণ বাঁধ দ্রুত সময়ে নীতিমালা অনুযায়ী সম্পন্ন করার কথা বলেও তারা কোন কাজ না করায় ঐ পিআইসর সভাপতিদেরকে আটক করেন।
পরে বিকাল সাড়ে ৫টায় উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তা ও উপজেলা নিবার্হী ম্যাজিস্ট্রেট জেবুন নাহার শাম্মী ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে ৫টি পিআইসির সভাপতিকে ২দিন করে বিনাশ্রম কারাদ- প্রদান করেন। ৩১ নং পিআইসির সভাপতিকে মুচলেকায় মুক্তিদেন।
এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জেবুন নাহার শাম্মী জানান, ঐ ৬টি প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতিদেরকে বার বার বলেছি নীতিমালা অনুযায়ী কাজ করার জন্য। কিন্তু তারা কোন কথা শুনেনি। তাদের কাজে অনেক ত্রুটি ছিলো। ৩১ নং পিআইসির কাজ মোটামোটি ভাবে ভাল হওয়ায় তাকে মুচলেকায় মু্িক্ত দেওয়া হয়েছে। বাকি ২৭, ২৮, ২৯, ৩০ ও ৩২ নং পিআইসর সভাপতিকে ২দিনের বিনাশ্রম কারাদ- দিয়েছি।
তিনি বলেন, বাঁধের কাজে কোন অনিয়ম সহ্য করা হবে না। যাদের কাজে অনিয়ম বা ত্রুটি থাকবে তাদেরকে আইনের আওতায় নিয়ে আসা হবে।
উল্লেখ্য, দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের অধীনে ৬টি হাওরে মোট ৫০টি প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির আওতায় ৫০টি ফসল রক্ষা বাঁধ নির্মাণ করা হচ্ছে।