আকবর হোসেন, জামালগঞ্জ
‘আইজকা সকাল থাইক্কা আমরারে দপ্তরী স্যারই পড়াইতাছইন, আমরার হেড ম্যাডামও আইছইননা, আমরার খালেদা ম্যাডামও আইছইননা। আমরার সবরে এক রুমের ভিতরে আইননা, সবরে পড়া দিছাইন আমরার দপ্তরী স্যার। দপ্তরী স্যারই ৩ টা ক্লাস আইজকা নিছ্ইন।’ এভাবেই কথাগুলো বলছিলো প্রত্যন্ত হাওর পাড়ের কামধরপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৫ম শ্রেণীর জনৈক শিক্ষার্থী । কথাগুলো শুধু তার একার নয়, কামধরপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সকল শিক্ষার্থীর। এভাবেই দপ্তরী দিয়েই চলছে হাওর পাড়ের প্রত্যন্ত কামধরপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়। এই ঘটনা শুধু একদিনের নয়, প্রতিদিনেরই ঘটনা বলে জানিয়েছেন স্থানীয় অভিভাবকরা। এই বিদ্যালয়টিতে মাত্র দুজন শিক্ষক। একজন প্রধান শিক্ষক আর অন্যজন সহকারী শিক্ষিকা। প্রধান শিক্ষিকা থাকেন উপজেলা সদরে আর সহকারী শিক্ষিকার বাসা সুনামগঞ্জ জেলা শহরে। উপজেলা সদর থেকে ৩০ কি.মি দুরত্ব। প্রতিদিন উপজেলা সদর থেকে কোন শিক্ষক শিক্ষিকার পক্ষে আসা যাওয়ায় দুস্কর। বাধ্য হয়েই বিদ্যালয় কামাই করেন তারা।
গত সোমবার দুপুর ২টায় সরেজমিনে জামালগঞ্জের হাওর পাড়ের ফেনারবাঁক ইউনিয়নের প্রত্যন্ত গ্রাম কামধরপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, বিদ্যালয়ের একটি কক্ষে তৃতীয়. চতুর্থ, পঞ্চম শ্রেণীর ছাত্রছাত্রীদেরকে ক্লাস নিচ্ছেন বিদ্যালয়ের দপ্তরী জাকারিয়া। দূরে কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে থেকে লক্ষ করেছি তৃতীয়, চুর্তুথ, ৫ম শ্রেণীর সকল ছাত্রদের একসাথে করে ক্লাস নিচ্ছেন দপ্তরী জাকারিয়া। আর বিদ্যালয়ের বাকী সব গুলি রুমই তালাবদ্ধ। অফিস রুমও ছিলো তালাবদ্ধ।
কামধরপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দপ্তরী জাকারিয়া প্রথমে অস্বীকার করলেও পরে ঠিকই সত্যতা স্বীকার করে বলেন প্রথমে খেলাধুলা করিয়েছি পরে আজ আমি একাই ৩য়. ৪র্থ, ৫ম শেণীর সবাইকে একত্রিত করে তিনটা ক্লাস নিয়েছি।
কামধরপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একজন ছাত্রের অভিভাবক রীনা বেগম বলেন, আমাদের বিদ্যালয়ে প্রায়ই ম্যাডামরা থাকইননা। পোলাপাইনের পড়ালেখা দিন দিন নষ্ট অইতাছে।
কামধরপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা খালেদা আক্তার বলেন, আপনি আমার সাথে কালকে বিদ্যালয়ে যাবেন, আমি বিদ্যালয়ে গিয়েছি। আজকের হাজিরা খাতায়ও আমার দস্তখত আছে।
কামধরপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নাসিমা আক্তার বলেন, আমি আজ (সোমবার) অফিসের দাপ্তরিক কাজে জামালগঞ্জ উপজেলা সদরে ছিলাম।
সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মীর আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, আমি যতদূর জানি পারিবারিক কারণে কামধরপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা ছুটিতে আছেন. তবে কি কারণে সহকারী শিক্ষিকা বিদ্যালয়ে নেই তার কারণ দর্শাতে বলা হবে।
জামালগঞ্জ উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. নূরুল আলম ভুইয়া বলেন, প্রধান শিক্ষিকা দাপ্তরিক কাজে উপজেলা সদরে ছিলেন, সহকারী শিক্ষিকা বিদ্যালয়ে কি কারণে নেই তাকে শোকজ করা হবে।
- দিরাইয়ে আ.লীগের যৌথ সভা অনুষ্ঠিত
- আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উদযাপন উপলক্ষে প্রদীপ প্রজ্জ্বলন ও কবিতা পাঠের আসর


