দাস পার্টির ইলিয়াস

হিরন্ময় রায়
কৈয়া গোপি বিলের কান্দা ধরে
উদভ্রান্তের মত ছুটে চলে-
সবুজ উর্দিধারী এক মধ্যবয়সী লোক।
বিলের পাড় ধরে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে
করে হাহাকার-
বুক চিরে বেরিয়ে আসে সুতীব্র আর্তনাদ-
” দাদা, আমার দাদারে…….।”
তেতাল্লিশ বছরের জমে থাকা কষ্ট-
নীল অশ্রু হয়ে ঝরে সিক্ত হয় সবুজ ঘাস।
পরম মমতায় নির্বাক আকাশ কালো মেঘের ছায়া ধরে
ইলিয়াসের মাথার পরে।
নাকি আমার মনের ভুল,
কমান্ডার হারানো এই গেরিলা ইলিয়াসের মাথার পরে-
সেদিন কি পরম মমতার অদৃশ্য হাত বুলোয়-
বাংলার সকল শহীদ।
ভেড়া মোহনার অতল থেকে ঘুম ভেঙ্গে
উজান পাড়ি দিয়ে –
কৈয়া গোপির কাঁদা ভেঙ্গে
সেদিন কি উঠে এসেছিলেন তিনি!
রণাঙ্গনের প্রিয় কমরেডের বুকে জমে থাকা হাহাকার
আর বঞ্চনার কষ্ট ভুলাতে-
এসেছিলেন কি তিনি!
তাহিরপুরের টেকেরঘাট থেকে হবিগঞ্জের আজমিরী
সদরপুর হতে দিরাই –
নাপাকি খানসেনা আর রাজাকার
মুহূর্তে ছিন্নবিচ্ছিন্ন হত যার এসএমজির গুলিতে।
যার মর্টারে উড়েছে সদরপুরের পুল-পাকিস্তানি বার্জ
জামালগঞ্জের শত্রু বাংকার কিংবা
দিরাই শাল্লার অবরুদ্ধ থানা।
বানিয়াচুং, পাহাড়পুর, কালনী নদী থেকে সুরমা
তাঁর দুর্র্ধর্ষ আক্রমণে উড়েছে বাংলার বিজয় ডংকা
সেই গণযোদ্ধা গেরিলা অধিপতি জগৎজ্যোতি
ইতিহাসের দায় মেটাতে সেদিন এসেছিলেন কি?
শেষ সহযোদ্ধা ইলিয়াসের ক্ষতে –
ভালবাসার পরত জুরতে।
যুদ্ধে পিছুটান দেয়া কাপুরুষেরা আজ সমাজপতি।
এই বাংলার ত্রিশ লক্ষ সন্তান হত্যাকারী
তিন লক্ষ বোনের সম্ভ্রম লুণ্ঠনকারী
সেই সকল খান সেনা আর রাজাকারদের-
প্রতিশোধের আগুনে পুড়ানো
মুক্তিযোদ্ধা ইলিয়াসদের দিকে নি:বীর্য নপুংসুকের
দল আঙ্গুল তোলে-
“যুদ্ধে মেলা মানুষ মাইরা মাথা আউলা হইয়া গেছে
কাজটা খারাপ করছে ইলিয়াস।”
মেডেল দূরে থাক, মামলায় মামলায় পর্যদুস্থ হয় ইলিয়াস
জয় বাংলার নেতা হয় কাপুরুষের দল।
দিগন্তে অস্তমান সূর্যকে জগৎজ্যোতি ভ্রমে
কৈয়া গুপি বিলের কান্দা ধরে –
ক্ষ্যাপা ইলিয়াস ছুটে চলে।
” দাদা, আমার দাদারে…………..।”