দায় কার?

বিশেষ প্রতিনিধি
সুনামগঞ্জ-সিলেট মহাসড়কের জাউয়াবাজারে যানবাহনের শৃঙ্খলার চিন্তা না করে উন্নয়ন কাজ করায় এবং ট্রাফিক ব্যবস্থা দুর্বল থাকায় প্রায় দেড়ঘণ্টাব্যাপি কয়েকশ’ যানবাহন শনিবার আটকা পড়ে। প্রচ- গরমের মধ্যে বেলা এক টা থেকে আড়াইটা পর্যন্ত আটকে পড়া যানবাহনের যাত্রীরা এসময় হাঁপিয়ে ওঠেন। যাত্রীরা নেমে এসময় স্থানীয়দের জিজ্ঞেস করতে থাকেন, কেন এই অবস্থা। স্থানীয়দের অনেকেই এসময় বলেন, ট্রাফিক ব্যবস্থা না করেই সড়কের উন্নয়ন কাজ করায় ভোগান্তিতে পড়েছেন হাজারো পথযাত্রী। জাউয়াবাজারের পাশের খিদ্রাকাপন গ্রামের শিপন মিয়া বললেন, সড়কের পাকা অংশের দুই লেনের এক পাশে আরসিসি ঢালাইয়ের কাজ শুরু হয়েছে, দুই পাশের মাটির অংশে বসেছে ছাগলের হাট, এছাড়া সড়কের উপরে রাখা আছে এলোপাতাড়িভাবে নানা যানবাহন, এসব নিয়ন্ত্রণও কেউ করছে না, এ কারণেই দীর্ঘ এই যানঝট।
সড়ক ও জনপথ বিভাগের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী কাজী নজরুল ইসলামের মুঠোফোনে এই বিষয়ে জানতে চাইলে, তিনি বললেন, এর আগেও এভাবে একলেনে কাজ করা হয়েছে, কিন্তু এভাবে যানঝটের সৃষ্টি হয় নি। কিছুক্ষণ হয় ফোন করে যানঝটের বিষয়টি আমি জেনেছি, কাজ করার আগে আমরা স্থানীয় ট্রাফিক কর্মকর্তাকে জানিয়েছি, তারা দুজন ট্রাফিক পুলিশ দিলেই এই সমস্যা হতো না। ঠিকাদারের বা আমাদের লোকজন সড়কে থাকলেও কেউ কথা শুনে না, ভবিষ্যতে কাজ করার সময় সড়কের ট্রাফিক ব্যবস্থা নিশ্চিত করেই কাজ করা হবে।
ঘটনাস্থলে থাকা এই প্রতিবেদক স্থানীয় ট্রাফিক কর্মকর্তার কাছে এভাবে কেনো হলো, জানার জন্য ফোন দিলেও তাঁর মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
পরে বিষয়টি পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমানকে জানালে, তিনি দ্রুত বিষয়টি দেখছেন বলে জানান এবং এভাবে কাজ করার আগে চিঠি দিয়ে জানানো জরুরি ছিল বলে মন্তব্য করেন।
এর কিছুক্ষণ পরই বেলা সোয়া দুইটার দিকে জাউয়াবাজার ফাঁড়ির পুলিশ সদস্যরা সড়কে তৎপর হন এবং ১৫ মিনিটের মধ্যেই যানঝট নিরসন হয়।
সড়কে শৃঙ্খলার কাজে নিয়োজিত জাউয়াবাজার ফাঁড়ির এসআই আব্দুল মতিন জানালেন, বিশাল অংশ জুড়ে এক লেনে উন্নয়ন কাজ শুরু হয়েছে। অথচ. সড়কের শৃঙ্খলা রক্ষার জন্য ঠিকাদারের একজন মানুষও নেই। পুলিশকেই যানঝট নিরসনের কাজ করতে হচ্ছে।