দিরাইয়ের কয়েকটি বাঁধে ফাটল

দিরাই সংবাদদাতা
দিরাইয়ের কালনী নদীতে পানি কমা অব্যাহত থাকার পরেও শঙ্কামুক্ত নয় কৃষক। উপজেলার বিভিন্ন ফসল রক্ষা বাঁধে ফাটল ও পানি চঁুয়ানোর সমস্যা দেখা দিচ্ছে নতুন করে। উদ্বেগ উৎকন্ঠায় দিন যাচ্ছে দিরাইয়ের হাজারো কৃষক পরিবারের। গত চব্বিশ ঘন্টায় কালনী নদীতে পানি কমেছে ৮ সে:মি:। বাঁধগুলোতে রাত জেগে পাহারা দিচ্ছে স্থানীয় কৃষকেরা।
শনিবার রাতে পিআইসির আওতার বাহিরে তাড়ল ইউনিয়নের সরালীতোপা বাঁধে ফাটল দেখা দিলে তাড়ল ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. আলী আহমদের নেতৃত্বে হাজারো কৃষক মিলে বাঁধ নিয়ন্ত্রণে আনে। রাতের বেলা বরাম হাওরের মৌরাপুর অংশে বাঁধে ফাটল দিলে সেখানে স্থানীয় কৃষকেরা উপস্থিত হয়ে বাঁশ ও বস্তা দিয়ে আটকানোর চেষ্টা করছেন। খবর পেয়ে শাল্লা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল—আমিন ও দিরাই উপজেলার তাড়ল ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. আলী আহমদ উপস্থিত হন। রাতভর প্রচেষ্টায় বাঁধকে আপাতত সুরক্ষিত করা হয়।
এদিকে দিরাই উপজেলার ৭৮ নং পিআইসির আওতায় কেজাউড়া পয়েন্টে বাঁধে ফাটল দেখা দিয়েছে। এছাড়াও ৮৩ নং পিআইসির আওতায় কাদিরপুর গ্রামের মধ্যবর্তী স্থানে ঝুিঁকতে থাকা বাঁধে আবারো ফাটল দেখা দেয়ায় বাঁশের পাইলিং করাসহ মাটি ভর্তি জিও বস্তা ফেলা হচ্ছে।
বাঁধে উপস্থিত কাদিরপুর গ্রামের কৃষকরা জানায়, প্রতিরাতেই মসজিদের মাইকে লোকজনদেরকে ডেকে বাঁধে একত্রিত করা হয়। মাইকে ঘোষণা দেয়ার সাথে সাথেই দিশেহারা হয়ে যায় মানুষজন। উড়া কোদাল, বাঁশ নিয়ে বাঁধে আসা শুরু হয়।
বরাম হাওরে অধিকাংশ ফসলী জমি তাড়ল ও দিরাই সরমঙ্গল ইউনিয়নবাসীর। এ প্রসঙ্গে তাড়ল ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. আলী আহমদ জানান, আমি প্রত্যেকটি বাঁধে নজরদারির জন্য লোকজন সেট করেছি। বাঁধের নিরাপত্তা প্রশ্নে আমরা বস্তা বাঁশ ও অন্যান্য সামগ্রী প্রস্তুত করে রেখেছি। বাঁধে কোন সমস্যা দেখা দিলে তাৎক্ষণিক মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিবে, যাতে করে সকলেই খবর পেয়ে বাঁধে আসতে পারে।
বাপাউবো দিরাই শাখা কর্মকর্তা এ.টি.এম. মোনায়েম হোসেন বলেন, আমরা উপজেলার প্রত্যেকটি বাঁধে নজরদারি বাড়িয়ে দিয়েছি। যে বাঁধ ঝুিঁকপূর্ণ বা পানি চোয়াচ্ছে সেগুলোতে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিচ্ছি। গত তিন দিনে ৩৫ সে:মি: পানি কমেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এখনো শঙ্কামুক্ত নই আমরা। তবে যে কোন পরিস্থিতিতে বাঁধগুলোকে টিকিয়ে রাখাতেই আমরা প্রতিজ্ঞ।