দিরাইয়ে উৎকন্ঠায় আধাপাকা ধান কাটছেন কৃষক

দিরাই সংবাদদাতা
কথায় আছে ঘর পোড়া গরু, মেঘ দেখইলেই ভয় পায়। তেমনটিই হয়েছে হাওর অঞ্চলের কৃষকের বেলায়। আকাশে মেঘের ঘনঘটায় অশান্ত হয়ে উঠছে চিরশান্ত হাওরপাড়। আর মাত্র ১৫টি দিন ভালোভাবে কাটাতে পারলেই হাওর পাড়ে উৎসবের আমেজ থাকতো। কিন্তু আবহাওয়ার পূর্বাভাসে এখন চারদিকে উদ্বেগ উৎকন্ঠা বিরাজ করছে শুধু। অগ্রহায়ন মাসের শুরু থেকে বৈশাখ পর্যন্ত মাথার ঘাম পায়ে ফেলে কৃষক কৃষাণী মাঠের ফসল গোলায় তুলে। তা দিয়ে চলে সারাটা বছর, এ থেকেই আসছে বছরের আবাদের প্রস্তুতি। উজানের ঢলে যেন সবকিছু ফিকে করে দিয়ে হাওরপাড়ের প্রতিটি কৃষক পরিবারকে নিঃস্ব করে দিচ্ছিল। দিরাইয়ে নতুন করে কোন বাঁধ ভাঙ্গার খবর না পাওয়া গেলেও আবহাওয়ার পূর্বাভাসে ভারী থেকে মাঝারী বৃষ্টিপাতের আশংঙ্কা থাকায় কৃষক আধাপাকা ধান কাটতে শুরু করে দিয়েছে। তারা বলছেন, আগাম জাতে ব্লাস্ট রোগ হওয়াতে আমরা এমনিতেই ক্ষতিগ্রস্ত। এখন যদি আবার পানিতে সব তলিয়ে যায় তখন আমাদের আর কিছুই থাকবে না।
সরেজমিনে দিরাইয়ের অন্যতম বৃহত্তম হাওর বরাম ঘুরে দেখা গেছে হারভেস্টার মেশিনে ধান কাটছে কৃষকেরা। কোথাও কোথাও দল বেঁধে বেপারী লেগেছে কাস্তে নিয়ে। তবে ধান আধাপাকা হওয়াতেও কোন রকম পুষিয়ে নিতে পারবে এরকম আশাবাদ তাদের। এছাড়াও হুরামন্দিরা, কালিয়াকোটা, টাংনী হাওর, উদগল বিল হাওরগুলোতেও একই রকম ভাবে ধান কাটা শুরু হয়েছে।
কালিয়াকোটা হাওরপাড়ের মাছিমপুর গ্রামের কৃষক উসমান গনি বলেন, আমরা বান ভাঙ্গা ডরাই, বান ভাঙ্গলে সাগরের মতো পানি অয় হাওরে, পাথর পড়ারে (শিলাবৃষ্টি) আরো ডরাই। পাথর পড়লেও কোন্তা থাকে না জমিত। উসমান গনি বলেন, কাচা পাকনা যাই পাই তাই লাভ।
দিরাই কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, দিরাই উপজেলায় ১১টি ছোটবড় হাওরে মোট ২৮ হাজার হেক্টর জমিতে বোরো ফসল আবাদ করা হয়েছে। এর মধ্যে বৈশাখী ও চাপতির হাওরের সাড়ে চার হাজার হেক্টর জমি ইতিমধ্যেই তলিয়ে গেছে ঢলে পানিতে। আধাপাকা ধান কেটে নিলে ৪০% ক্ষতির সম্মুখীন হবে কৃষক।