দিরাইর শয়তানখালি জলমহালে চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে কঠোর হোন

দিরাইয়ে সরকারি জলমহালে কিছু প্রভাবশালীর টোকেন দিয়ে চাঁদাবাজি প্রকারান্তরে সরকারের আইনের শাসনের প্রতি বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখানো এবং সরকারের বাইরে আরেকটি শাসন ব্যবস্থা চালুর নামান্তর মাত্র। গতকাল দৈনিক সুনামগঞ্জের খবরে প্রকাশিত একটি সংবাদ থেকে জানা যায়, দিরাই উপজেলার শয়তানখালির ২য় খন্ড নামের জলমহালে একজন ইউপি সদস্যসহ কয়েকজন ব্যক্তি সাধারণ জেলে-কৃষকদেরদের নিকট থেকে এমন চাঁদাবাজি করছেন। ওই জলমহালটি ১৪২৩ বাংলা সনে খাস কালেকশনে দেয়া হলেও ১৪২৪ বাংলা সনের জন্য কাউকে ইজারা বা খাস কালেকশনের অনুমতি দেওয়া হয় নি। ফলে জলমহালটি বর্তমানে উন্মুক্ত অবস্থায় রয়েছে। বোরো ফসল হারানোয় ক্ষতিগ্রস্ত জেলে কৃষকরা এই জলমহালে মৎস্য আহরণ করে বাঁচার একটি সুযোগ তৈরি করেছিলেন। কিন্তু ১৪২৩ বাংলা সনে খাস কালেকশন নেয়া ব্যক্তিগণ এবার মাছ ধরতে নিয়োজিত জেলে কৃষকদের নিকট থেকে বেপরোয়া চাঁদাবাজিতে লিপ্ত হয়েছেন। বিষয়টি স্পর্শকাতর ও ফসলহারা জেলে কৃষকদের জীবন জীবিকার সাথে সম্পর্কিত একটি বিষয়, তাই আমরা উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে এই জলমহালে অবৈধ চাঁদাবাজি বন্ধ করার জোর দাবি জানাচ্ছি।
আইনত ইজারাবিহীন জলমহাল যদি খাস কালেকশনে দেয়া না হয় তাহলে সেখানে সাধারণ মানুষের মাছ ধরতে কোন বাধা থাকার কথা নয়। যদি আইনত বাধা থেকেও থাকে তাহলে সেটি প্রয়োগ করবে সরকারি প্রশাসন। কিন্তু দিরাইয়ে যা ঘটেছে সেখানে সরকারি প্রশাসনের কোন অংশগ্রহণ নেই। কিছু ব্যক্তি ‘গত দুই বছর খাস কালেকশনের দায়িত্ব পেয়েছিলেন এবং এবারও পাবেন’ এমন একটি অজুহাতকে সামনে রেখে মৎস্য আহরণকারীদের নিকট থেকে নৌকাপ্রতি মাসিক ২ থেকে ৬০ হাজার টাকা করে চাঁদা আদায় করছেন যার কানাকড়িও সরকারি কোষাগারে যাচ্ছে না। স্বয়ং দিরাই উপজেলার উপজেলা নির্বাহী অফিসার গণমাধ্যমকে বলেছেন, ইজারাবিহীন জলমহাল থেকে এ ধরনের টাকা নেয়ার কোন সুযোগ কারও নেই। তারপরও যারা প্রকাশ্যে টোকেন দিয়ে মাসিক চাঁদা নিচ্ছেন তারা নিজেরাই নিজেদের মতো করে শাসন ব্যবস্থা চালু করছেন। এ ধরনের বেপরোয়াত্বকে প্রশ্রয় দেয়ার কোন সুযোগ নেই। সরকারের বাইরে কেউ যদি সরকারি নিয়মকানুনকে কেয়ার না করে নিজস্ব নীতি বাস্তবায়ন করে চলে তাহলে রাষ্ট্রের দায়িত্ব হলো ওই সব অপশক্তিকে দমন করা। আমরা আশা করব দিরাইয়ের শয়তানখানি ২য় খ- জলমহালে অবৈধ চাঁদাবাজির সাথে জড়িতদের দ্রুততম সময়ে আইনের আওতায় এনে শাস্তি নিশ্চিত করা হবে। এরা এ পর্যন্ত এরকম চাাঁদার নামে যে টাকা নিরীহ জেলে-কৃষকদের নিকট থেকে আদায় করেছে সেই টাকা তাদের নিকট থেকে উদ্ধার করে ভূক্তভোগীদের ফেরৎ দেয়ার ব্যবস্থাও নিতে হবে।
শতভাগ ফসল হারানোর বছরে সাধারণ জেলে কৃষকদের বেঁচে থাকার অবলম্বনগুলোকে কোন কোটারি স্বার্থের নিকট কখনও দিয়ে দেওয়া চলবে না। সরকার যখন জলমহালটি ইজারা বা খাস কালেকশনে দিবেন তখন বৈধ ব্যক্তিবর্গ এর স্বত্ববান হবেন। এর আগে পর্যন্ত যাতে এখানে সাধারণ মানুষ কোন বাধাবিপত্তি ছাড়া মাছ ধরতে পারেন সেই ব্যবস্থা নিশ্চিত করার জন্য আমরা প্রশাসনের প্রতি অনুরোধ জানাই।