আবু হানিফ চৌধুরী, দিরাই
দিরাই উপজেলার তাড়ল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবদুল কুদ্দুছের বিরুদ্ধে অনিয়ম দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি ও স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগে অনাস্থা প্রস্তাব এনেছেন পরিষদের ৮ জন সদস্য। চেয়ারম্যানের উপর অনাস্থা প্রস্তাব এনে বুধবার দিরাই উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর তারা একটি লিখিত অভিযোগপত্র দাখিল করেছেন। অভিযোগের অনুলিপি স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের সচিব ও বিভাগীয় কমিশনার বরাবরে প্রেরণ করা হয়েছে।
অভিযোগকারী পরিষদের সদস্যরা হলেন, ১ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য গোলাম রব্বানী, ২ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য শফিকুর রহমান চৌধুরী, ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য লাল মিয়া, ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য মঞ্জুরুল হক মঞ্জু, ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য রাশেদ মিয়া, ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য শেখ ফরিদ, ৯ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য মিলন মিয়া ও সংরক্ষিত মহিলা(১,২) সদস্য জাহানারা বেগম।
অভিযোগের সত্যতা স্বীকার করে ইউএনও তৌহিদুজ্জামান পাবেল বলেন, তদন্তপুর্বক প্রতিবেদন তৈরী করে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিকট প্রেরণ করা হবে।
লিখিত অভিযোগ থেকে জানা গেছে, চেয়ারম্যান আবদুল কুদ্দুস নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে ২০১৫-১৬ অর্থ বছরের লোকাল গভর্ন্যান্স সাপোর্ট প্রজেক্ট (এলজিএসপি)-২ এর আওতায় প্রাপ্ত ৯ লাখ ৭৬ হাজার ৩০৫ টাকা বরাদ্দ ওয়ার্ড সভা ছাড়া নিজের ইচ্ছামত প্রকল্প দাখিল পূর্বক বিজিসিসি সভায় অনুমোদন করেন। ২০১৬-২০১৭ বছরে দু:স্থ মহিলা উন্নয়ন (ভালনারেবল
গ্রুপ ডেভোলাপমেন্ট- ভিজিডি কর্মসুচি চক্রের ২১০ জন উপকারভোগীর বাছাই এর জন্য ক্ষুদ্র/ওয়ার্ড কমিটির সভা ও অনুমোদন ছাড়া যথাযথ নীতিমালা অনুসরণ না করে নিজের ইচ্ছামত স্বজনপ্রীতির আশ্রয় নিয়ে তালিকা প্রণয়ন করেন। এমনকি ইউপি ভিজিডি বাছাই কমিটির মতামতও নেয়া হয়নি। দরিদ্র মায়েদের জন্য মাতৃত্ব ভাতার বরাদ্দকৃত ৭৮ জনের তালিকা পরিষদের মতামত ও পরিষদের সভা ছাড়াই স্বজনপ্রীতির মাধ্যমে তালিকা চূড়ান্ত করেন। এডিপি খাতের বরাদ্দের কোন প্রকল্প পরিষদের কাছ থেকে না নিয়ে চেয়ারম্যান মনগড়ামত প্রকল্প করছেন। পরিষদের ট্যাক্স জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন, ব্যবসায় অনুমতিপত্র, হোল্ডিং কর ইত্যাদি খাতের কোন হিসেব পরিষদকে অবগত করেন না। অতি দরিদ্রদের জন্য কর্মসংস্থান কর্মসূচীর আওতায় প্রাপ্ত ১৩৬ টি জবকার্ড পরিষদের মতামত ছাড়া নিজের ইচ্ছামত চালিয়ে যাচ্ছেন। গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন কর্মসূচী টিআর, কাবিখা, কাবিটা খাতের বরাদ্দ পরিষদের মতামত ছাড়া চেয়ারম্যান তার ইচ্ছামাফিক প্রকল্প প্রণয়ন করেন। বরাদ্দের অর্ধেক ৫০ভাগ টাকা পরিষদের সকল সদস্যদের সোলার প্যানেল খাতে দেয়ার সিদ্ধান্ত হলেও তার কোন হদিস নেই। পরিষদের আসবাবপত্র চেয়ারম্যান তার বাড়িতে ব্যাক্তিগতভাবে ব্যবহার করছেন। সার ও বীজ ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকের মধ্যে বিতরণ করার কথা থাকলেও পরিষদের মতামত ছাড়া চেয়ারম্যান তার নিজস্ব লোক ও সাধারণ ব্যাক্তিদের মধ্যে বিতরণ করেন। বয়স্ক ভাতা. বিধবা ভাতা ও প্রতিবন্ধী ভাতা বরাদ্দের ব্যাপারে এখনো কোন সিদ্ধান্ত হয় নাই। ফলে গরীব লোকজন ভাতা হতে বঞ্চিত হচ্ছে। পরিষদের বিভিন্ন স্থায়ী কমিটি ও উন্নয়ন কমিটির মাসিক সভা নিয়মিত হচ্ছে না। ফলে ইউনিয়নবাসী উন্নয়ন ও সঠিক তথ্য হতে বঞ্চিত হচ্ছে। পরিষদের মতামত না নিয়ে কম্বল বিতরণ ও রিলিফ সামগ্রীর বরাদ্দ তাহার ইচ্ছা মাফিক বিতরণ করেন।
এছাড়াও চেয়ারম্যান আবদুল কুদ্দুছ ফসল রক্ষা বাঁধের কাজে পাউবোর সাথে সখ্যতা গড়ে তুলে প্রভাব খাটিয়ে বরাম হাওর রক্ষা বাধের ৩ টি প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির(পিআইসি) সভাপতি নিজেই হয়ে যান। অভিযোগ রয়েছে, বরাম হাওর উপ প্রকল্পের এই ৩ টি প্রকল্পে নাম মাত্র কাজ করে বরাদ্দেও কয়েক লাখ টাকা পাউবোর সাথে ভাগ ভাটোয়ারা করে হাতিয়ে নেন।
জানা গেছে, সন্তোষপুর গ্রামের পাশে বরাম হাওর উপ-প্রকল্পের পিআইসির সেক্রেটারী ইয়াছিন মিয়ার স্বাক্ষর জোরপুর্বক আদায় করে বরাদ্দের ৮ লাখ ৭৮ হাজার টাকার মধ্যে সিংহভাগ টাকা তিনি হাতিয়ে নেন। এই প্রকল্পে পিআইসির সভাপতি ইউপি সদস্য মিলন মিয়াকে অবৈধভাবে সরিয়ে চেয়ারম্যান আবদুল কুদ্দুছ নিজেই প্রকল্প কমিটির সভাপতির পদে আসীন হন। বাঁধের কাজ সময়মত সঠিকভাবে কাজ না করায় জনরোষে পড়েন চেয়ারম্যান।
তাড়ল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবদুল কুদ্দুছ বলেন, আমাকে হেয় প্রতিপন্ন করতে এসব অভিযোগ আনা হচ্ছে। এর কোন ভিত্তি নেই। তবে আমার ওয়ার্ডে গরীব লোকের সংখ্যা বেশি হওয়ায় ভিজিডি কার্ড একটু বেশি দিয়েছি।
তিনি বলেন, বাঁধের একটি টাকাও আমি খাইনি, এতে আমার লস হয়েছে।
- বিশ্বম্ভরপুরে বাঁধে অনিয়ম দুর্নীতির বিরুদ্ধে বিএনপি’র মানববন্ধন
- প্রতিবাদ- সংস্কৃতিকর্মীরা এসেছিলেন ঝাড়–-জুতা হাতে নিয়ে


