দিরাই প্রতিনিধি
দিরাই উপজেলার কালধর গ্রামে পূর্ব বিরোধের জের ধরে দুইপক্ষের সংঘর্ষের ঘটনায় বন্দুকের গুলিতে আমির উদ্দিন নামে একজন নিহত এবং গুলিবিদ্ধ হয়ে ১৩ জন আহতসহ উভয়পক্ষের কমপক্ষে ২০ জন আহত হয়েছে। নিহত আমির উদ্দিন কালধর গ্রামের সাইদ উল্লার ছেলে। রোববার সকালে গ্রামের মনু মিয়ার বাড়ির সামনে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পুলিশ হত্যাকা-ে জড়িত ফারুক মিয়াকে বন্দুকসহ আটক করেছে।
গ্রামবাসী ও পুলিশ জানায়, গ্রামের ফারুক মিয়া, মনু মিয়া ও আওয়াল মিয়ার কাছে গ্রামের উন্নয়ন ফান্ডে থাকা প্রায় ১০-১২ লাখ টাকা নিয়ে নিহত আমির উদ্দিনসহ গ্রামের অন্যদের বিরোধ চলে আসছে। স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানসহ এলাকাবাসী কয়েকবার এই নিয়ে সালিস বৈঠক করলেও মিমাংসা হয় নি। রোববার সকালে গ্রামের শফিক মিয়া, আইয়ুব মিয়া ও জুয়েল মিয়া মোটর সাইকেল যোগে দিরাই আসার পথে গ্রামের মনু মিয়া’র বাড়ির সামনে ফারুক মিয়া, মনু মিয়া, মিলিক মিয়াসহ তাদের লোকজন এদের পথ আটকায়। খবর পেয়ে আবুল হোসেনসহ গ্রামের অন্য লোকজন ঘটনাস্থলে গেলে দুই পক্ষে সংঘর্ষ বাধে। এসময় এলোপাথাড়ি গুলিও চালানো হয়। গুলিবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান আমির উদ্দিন।
এছাড়া গুলিবিদ্ধ দেলোয়ার হোসেন (৩০), রাজেল মিয়া (৩২), এলাইছ মিয়া (৫২), শহিদ মিয়া (৩৬), চন্দন মিয়া (৩০), মিলন মিয়া (৩০), করম আলী (৫২), বিল্লাল মিয়া (২৯), জাকারিয়া (২৫), ছাদ হোসেন (২৯), মাহবুব মিয়া (১৮), জুয়েল মিয়া (১৯), কুতুব মিয়া (৩০) কে সিলেটের ওসমানী হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে। অন্যরা স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা নিয়েছেন।
গ্রামের সাবাজ মিয়া জানান, তিন বছর ধরে গ্রামের উন্নয়ন ফান্ডের প্রায় ১০-১২ লাখ টাকা নিয়ে ফারুক মিয়া, মনু মিয়া ও আউয়াল মিয়ার সঙ্গে গ্রামবাসীর মন কষাকষি চলছে। এর জের ধরেই সংঘর্ষ হয়েছে।
স্থানীয় জগদল ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান শিবলী আহমেদ বেগ জানান, বিষয়টি সমাধানের জন্য একাধিকবার চেষ্টা করা হলেও কোন সমাধান হয় নি।
দিরাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কেএম নজরুল ইসলাম জানান, পুলিশ ঘটনাস্থলে রয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে ফারুক মিয়াকে বন্দুকসহ আটক করে থানা হেফাজতে রাখা হয়েছে। পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। নিহত আমির উদ্দিনের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে।


