দিরাইয়ে দুইপক্ষের সংঘর্ষে নিহত ১ , আহত ৩০, আটক ১২ জন

স্টাফ রিপোর্টার
দিরাই উপজেলার ভাটিপাড়া ইউনিয়নের মধুরাপুর গ্রামে দুই পক্ষের সংঘর্ষে একজন নিহত এবং উভয়পক্ষের কমপক্ষে ৩০ জন আহত হয়েছে। মঙ্গলবার সকাল ৭ টা থেকে সাড়ে ১০ টা পর্যন্ত তিন ঘণ্টাব্যাপি সংঘর্ষে এই হতাহতের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় জড়িত ১২ জনকে আটক করেছে পুলিশ।
সংঘর্ষের খবর পেয়ে আশপাশের গ্রামের লোকজন ও পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। ফের সংঘর্ষের আশংকায় মধুরাপুর বাজার ও গ্রামে এএসপি জয়নাল আবেদীনের নেতৃত্বে পুলিশ মোতায়ের করা হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মধুরাপুর গ্রামের নুর জালাল ও দিল হকের লোকজনের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে আধিপত্য ও জমিজমা নিয়ে বিরোধ চলছে। এনিয়ে উভয়পক্ষের মধ্যে অন্তত ১০ টি মামলা রয়েছে। গ্রামের আমেরিকা প্রবাসী জিয়াউল করিম চৌধুরী ও জাহেদুল ইসলাম চৌধুরী প্রবাস থেকেই দুই পক্ষের নেতৃত্ব দেন। দীর্ঘদিনের এই বিরোধের জের ধরে উভয় পক্ষের লোকজন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে মঙ্গলবার সকাল ৭ টায় প্রথমে মধুরাপুর বাজারে এবং পরে সকালে গ্রামে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে। সংঘর্ষের প্রতিপক্ষের আঘাতে নূর মোহাম্মদ (৪৫) নামের একজনের মৃত্যু ঘটে। সংঘর্ষে উভয় পক্ষের কমপক্ষে ৩০ জন আহত হয়েছে। আহতদের দিরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
মধুরাপুর গ্রামের বাসিন্দা সাবেক ইউপি সদস্য আইয়ুব খান জানান, দুই পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে মামলা- মোকদ্দমা চলছে। পূর্ব বিরোধের জের ধরেই দুইপক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে।’
নূর জালালের পক্ষের আব্দুল খালেক বললেন, দুইপক্ষে বিরোধ থাকলেও মঙ্গলবার বাজারে যাবার পর কোন কারণ ছাড়াই আমাদের লোকজনকে মারধর করেছে প্রতিপক্ষের লোকজন। আমার ভাই নূর মোহাম্মদ মারা গেছে। আমি গুরুতর আহত অবস্থায় ফারুক আহমদ (৫০), রেজু মিয়া (১৯) ও শফিক নূরকে (৩৫) নিয়ে সিলেটে যাচ্ছি।
দিল হকের পক্ষের এক তরুণের দাবি (নাম প্রকাশ করতে চান নি) দুই পক্ষের মধ্যে পূর্ব বিরোধ থাকলেও সোমবার গ্রামের পাশের শাহ্জালাল বাজারে প্রতিপক্ষের লোকজন প্রাক্তন চেয়ারম্যান প্রয়াত লিটন চৌধুরী ব্যক্তিগত অফিসের তালা ভেঙে ফেলে। নূর জালালের পক্ষের সুজন, শহীদসহ কিছু তরুণ এই কাজ করে। এই নিয়ে আমাদের লোকজন উত্তেজিত হলে গ্রামের বয়োজ্যেষ্টরা সমঝোতা করে দেন। আজ সকালে আবার গ্রামে সুজন, শহীদসহ তাদের লোকজন দিল হক, রুম ও জব্বারকে ডাকাডাকি করতে থাকে। এই নিয়ে সংঘর্ষ বাধে এবং দুই পক্ষের লোকজনই আহত হয়।
দিরাই থানার ওসি আশরাফুল ইসলাম জানান, দুই পক্ষের মধ্যে জমি, জলমহালসহ নানা বিরোধ রয়েছে। সেই বিরোধের জের ধরেই মঙ্গলবার সংঘর্ষ হয়েছে। সংঘর্ষে একজন নিহত ও কয়েকজন আহত হয়েছে। গ্রামে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হায়াতুন নবী মঙ্গলবার বিকালে জানান, এ ঘটনায় ১২ জনকে আটক করা হয়েছে।