আবু হানিফ চৌধুরী, দিরাই
দিরাই-শাল্লা উপজেলার হাওর ও নদীর মাছ মরে ভেসে উঠছে। তলিয়ে যাওয়া ধান পঁচে হাওরের পানি দূষণের ফলে মাছ মরা শুরু হয়েছে বলে মনে করছেন হাওর পাড়ের মানুষ। পোনা মাছ থেকে শুরু করে রুই, কাতলা, বোয়াল, গলদা চিংড়ি, পাবদাসহ দেশীয় সকল প্রজাতির মাছই মরে হাওরে ভাসতে দেখা গেছে। মরা মাছ ও পঁচা পানির দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ছে বাতাসে, হুমকির মুখে পড়ছে জনস্বাস্থ্য। ধান আর মৎস্যভান্ডার খ্যাত হাওর পাড়ে দুর্যোগ যেনো কিছুতেই পিছু ছাড়ছে না। অকাল বন্যায় একমাত্র বোরো ফসল হারিয়ে নিঃস্ব কৃষকরা মৎস্য আহরণের মাধ্যমে বেঁচে থাকার স্বপ্ন দেখছিলেন। কিন্তু হাওরে মরা মাছ ভাসতে দেখে তাদের স্বপ্ন ফিকে হয়ে গেছে। ফসলহানির পর এবার মাছ হারানোর আশংকায় হাওবাসীর কষ্টের যেন শেষ নেই।
দিরাই ও শাল্লা উপজেলার ছোটবড় ২৭টি হাওরের কাঁচা, আধা পাকা সোনালি ফসল সম্পূর্ণ পানিতে তলিয়ে গেছে। অসময়ে ফসলহানির ঘটনায় কৃষকরা চোখে শর্ষেফুল দেখছেন। এর মধ্যে গত দুই দিন ধরে কলনী নদী, টাংনী, চাপতি, বরাম শাল্লার ছায়ার হাওরসহ সব ক’টি হাওরে রুই, কাতলা, বোয়ালসহ ছোট বড় দেশীয় বিভিন্ন প্রজাতির মাছগুলো মরে পানিতে ভেসে উঠছে। কেউ কেউ মাছ ধরে বাড়ি নিয়ে যাচ্ছেন। আবার অনেকে বাজারে বিক্রি করেছেন। মৃত মাছ আর দূষিত পানির দুর্গন্ধ বাতাসে ছড়াচ্ছে। ফলে পরিবেশ দূষণের কবলে পড়ে জনস্বাস্থেও জন্য হুমকি হয়ে পড়েছে।
টাংনী হাওর পাড়ের বাসিন্দা সবুজ মিয়া চৌধুরী জানান, ফসল হারানোর পর বেঁচে থাকার কিছুটা আশা ছিল হাওরের মাছ। সোমবার টাংনি হাওরে অনেক বড় বড় মাছ মরে ভেসে উঠছে। পানিতে দুর্গন্ধ। বছরের ছয় মাস মাছ শিকার করে জীবন জীবিকা চলে হাওরবাসীর। কিন্তু এবার ধানও গেল মাছও গেল। কৃষক ও জেলেদের বেঁচে থাকার আর কোন অবলম্বন রইলো না।
এদিকে কালনী তীরবর্তী সাকিতপুর, আনোয়ারপুর, সুজানগর, চানপুর ও তাড়ল গ্রামের লোকজন সোমবার নদীতে মরা মাছ ভাসতে দেখে অনেকেই তা সংগ্রহ করছেন।
ভাটিবাংলা যুব সমবায় সমিতির সাধারণ সম্পাদক প্রশান্ত সাগর দাস বলেন, হাওরপাড়ের বাসিন্দার বোরো ফসল ও হাওরের মাছের ওপর নির্ভরশীল। এবারে কৃষকের ঘরে নেই ফসল। কৃষকদের জীবন জীবিকার একমাত্র অবলম্বন ছিল হাওরের মাছ। এবার মাছও গেল মরে। তার ওপর কাল বৈখাশী ঝড়ের তান্ডব। সব কিছু মিলে হাওরবাসীর মহাসংকটে পড়েছেন। এ সংকট মোকাবেলায় সরকারের প্রতি ন্যশনাল সার্ভিস কর্মসূচি চালুর দাবি জানান তিনি।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. হাসিবুর রহমান বলেন, নদ নদী ও হাওরের দূষিত পানি দৈনন্দিন কাজে ব্যবহার ও আক্রান্ত মরা মাছ জনস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।
এদিকে হাওর ও নদীতে মাছ মরে ভেসে যাওয়ার খবর জানে না দিরাই উপজেলা মৎস্য অধিদপ্তর। এ ব্যাপারে উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মাসুদ জামান খানের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি শুনেছি, আমি এখন এলাকায় নেই।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার তৌহিদুজ্জামান পাবেল বলেন, করণীয় কি তা ঠিক করতে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে আলাপ আলোচনা করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।


