আকরাম উদ্দিন
করোনা সক্রমনের ভয়ে দীর্ঘদিন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় স্কুল ভবনের ভেতরে ও বাইরে যততত্র আগাছা ও পরগাছা জন্মেচে। পোকায় ধরেছে আসবাবপত্রে। প্রতিষ্ঠানগুলোর অবকাঠামোর বড় ক্ষতি হয়েছে। শিক্ষা-দীক্ষার ক্ষতির পাশপাশি স্কুল ভবনগুলোর শিক্ষার পরিবেশ বিপন্ন হয়েছে। এসব রক্ষায় যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি সংশ্লিষ্ঠদের।
শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের খেলার মাঠে জন্ম নিয়েছে আগাছা, নষ্ট হচ্ছে আসবাবপত্র, বৃষ্টির দিনে দেওয়ালে পড়ছে পাঙাস, ডেমেজ হচ্ছে রঙিন দেওয়াল। জন্ম নিয়েছে দেওয়ালে পরগাছা। দেয়াল থেকে খসে পড়ছে আস্তর। ছাদের উপর শেওলা জমে পানি ছুঁয়ে মেঝেতে পড়ছে। স্যানিটেশন ব্যবস্থার অবনতি হয়েছে, ডিজিটাল ল্যাবের ক্ষতি হচ্ছে। সর্বত্র পোকা-মাকড় ও ইঁদুরে বাসা বেঁধেছে।
একাধিক শিক্ষক জানান, করোনাকালের প্রায় দেড় বছর অতিক্রান্ত হচ্ছে। করোনার শুরু থেকে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সরকার বন্ধ ঘোষনা করেন। বন্ধ থাকার কারণে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের আঙিনায় ভুতুরে পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। সারা মাঠজুড়ে আগাছা জন্ম নিয়েছে। প্রতিষ্ঠানের আঙিনায় গড়ে তোলা ফুলের বাগান ও গাছের চারা গরু-ছাগলে খেয়ে নষ্ট করেছে। অযতেœ বাঁশের বেড়া নষ্ট হয়েছে। সুনসান নিরব পরিবেশে সাপ-বিচ্ছু, ইঁদুরে বাসা বেঁধেছে। ভবনের ভেতরে করেছে মাকড়সায় বাসা। এসব রক্ষায় সংশ্লিষ্ট দপ্তরের জরুরি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি আমাদের।
এছাড়া বৃষ্টির দিনে দেওয়ালে পড়েছে পাঙাস, ডেমেজ হচ্ছে রঙিন পাকা দেওয়াল, নষ্ট হচ্ছে উপরের ছাদ। স্যানিটেশন ব্যবস্থার অবনতি হচ্ছে, ব্যবহার না করায় ওয়াস ব্লক, ডীপ কল নষ্ট হচ্ছে। ডিজিটাল ল্যাবের কম্পিউটারসহ নানা যন্ত্রপাতি নষ্ট হচ্ছে। আসবাবপত্র, চেয়ার, টেবিল, আলমিরা, ব্রেঞ্চ, দরজা, জানালা, পোকায় খেয়ে জর্জরিত করছে। ইঁদুরের উপদ্রব বেড়েছে। মাটি খুঁড়ে ফ্লোর নষ্ট করে চলেছে।
৯ম শ্রেণীর শিক্ষার্থী আলমগীর হোসেন বলেন, দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ। এভাবে বন্ধ থাকায় প্রতিষ্ঠানের দিকে তাকালে মন খারাপ হয়ে যায়। এমন বেহাল চেহারা হয়েছে, মাঠের ও ভবনের, চেনাই যায় না যে এই প্রতিষ্ঠানে আমরা লেখাপড়া করেছি।
১০ম শ্রেণীর শিক্ষার্থী মুজাহিদুল ইসলাম ও কবিতা আক্তার বলেন, করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে সরকার ঘোষিত বন্ধের কারণে মূল্যবান কম্পিউটার ল্যাবও নষ্ট হতে চলেছে। দীর্ঘদিন ধরে এগুলো কোনো যতœ নেই। আমরা যা শিখেছি, তাও ভুলে যাচ্ছি। প্রতিষ্ঠান খুলে না দিলে এভাবে আরও ক্ষতি হবে।
সৈয়দপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের কে.এম,শামসুল আলম রাসেল বলেন, কারোনা ভাইরাস প্রতিরোধে বেশি দিন প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় দেখাশোনা করা যাচ্ছে না। প্রতিষ্ঠানের আঙিনায় আগাছা জন্ম নেওয়ায় শিক্ষার পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে। ওয়াস ব্লকসহ স্যানিটেশন ব্যবস্থার মারাত্মক অবনতি হচ্ছে। এছাড়া শেখ রাসেল ডিজিটাল ল্যাব নষ্ট হচ্ছে। গ্রামীণ এলাকায় সবচেয়ে ছোট ল্যাবে অন্তত ১০টি কম্পিউটার থাকে। এগুলো চালু না রাখলে সমস্যা হয়। এসব সম্পদ রক্ষায় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি আমাদের।
জেলা প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক সমিতির সভাপতি হারুন রশিদ বলেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় আসবাবপত্রে মারাত্মক ক্ষতি হচ্ছে। সাধারণ ছুটিতে প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকলেই দেখা যায়, পোকা, মাকড়, ইঁদুরে বাসা বেঁধেছে। অনেক আসবাবপত্র পোকায় ধরে নষ্ট হয়ে যায়। করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে দীর্ঘ মেয়াদি বন্ধ থাকার কারণে কী পরিমাণে ক্ষতি হচ্ছে প্রতিষ্ঠানের, সরাসরি না দেখে তা বলা যাচ্ছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সবকিছু বিবেচনা করে জাতীয় সম্পদ রক্ষায় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি আমাদের।
- নদী ভাঙ্গনের কবলে বাগেরকোনা-সলফ সড়ক, যানচলাচল বন্ধ, জনদুর্ভোগ চরমে
- বিদ্যুতের খুঁটি না সরানোয় কাজে লাগছে না সড়ক


