আকরাম উদ্দিন
৩ ইউনিয়নের লক্ষাধিক মানুষকে প্রতিদিন লেখাপড়া, চাকুরি, চিকিৎসা সেবা, অফিস ও ব্যবসার কাজে সুরমা নদী পার হয়ে আসা যাওয়া করতে হয় দোয়ারা উপজেলায়। তেমনি দোয়ারা উপজেলা থেকেও লক্ষাধিক মানুষকে আসা যাওয়া করতে হয় সুনামগঞ্জ জেলা শহরে। উপজেলার কমপক্ষে দুই লাখ মানুষের চলাচলের জন্য আছে দুই স্থানে দুইটি খেয়াঘাট। আজমপুর ঘাট হতে দোয়ারাবাজার নৌকাঘাট, অপরটি জঙ্গলশ্রী হতে দোয়ারা উপজেলা নৌকাঘাট। এসব খেয়া ঘাটে যাত্রী ছাউনি এবং উঠানামার সিঁড়ি না থাকায় চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন যাত্রীরা।
দোয়ারা উপজেলার বিভিন্ন স্থানের মানুষ প্রতিদিন আজমপুর এবং জঙ্গলশ্রী খেয়া পার হয়ে সুনামগঞ্জ শহরে আসা যাওয়া করে থাকেন। এসব খেয়া নৌকা দিয়ে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যসহ কৃষকের উৎপাদিত পণ্য আনা নেওয়া করেন যাত্রীরা। খেয়া নৌকায় প্রতিদিন তিন শ’এর বেশি মটরবাইক পারাপার হয়।
দেশ স্বাধীনের পর থেকে প্রতিবছর খেয়া ঘাট ইজারা দিয়ে লাখ লাখ টাকা রাজস্ব পেয়ে আসছে সরকার। কিন্তু যাত্রী ভোগান্তি কমিয়ে আনতে কোনো উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে না। যাত্রী ছাউনি এবং খেয়া নৌকা পাড়ে ভিড়ানোর সিঁড়িঘাট নির্মাণ করে দেয়া হচ্ছে না । যাত্রী ভোগান্তি কমিয়ে আনতে প্রত্যেক খেয়াঘাটে সিঁড়িঘাট নির্মাণের দাবি স্থানীয় বাসিন্দাদের।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, দোয়ারা উপজেলায় যোগযোগে সুরমা নদীর উপর যেসব খেয়াঘাট ইজারা হয়ে আসছে, এসব খেয়া নৌকায় যাত্রী বা যানবাহন উঠানামার কোনো সিঁড়িঘাট নেই। রোদ ও বৃষ্টি থেকে বাঁচতে যাত্রী ছাউনিও নেই। দুই খেয়া ঘাটের চার পাড়ে মাটি কেটে যানবাহন ও যাত্রী উঠানামার ব্যবস্থা করা হয়েছে। চওড়া করে তৈরি করা খেয়াঘাট দিয়ে নৌকায় উঠানামা করতে মারাত্মক ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হয়। এই কারণে প্রতিদিনই যাত্রী বা যানবাহনের দুর্ঘটনাও ঘটে চলেছে। এছাড়া শুকনো মৌসুমে নদীর পানি যখন অনেক নীচে নেমে যায় তখন সড়ক থেকে নৌকা পর্যন্ত দীর্ঘ ঢালু রাস্তা পারাপারে বয়স্ক, শিশু ও মহিলারা অবর্ণনীয় দুর্ভোগে পড়েন। বিশেষ করে বৃষ্টিতে এই ঢালু রাস্তা কর্দমাক্ত হয়ে গেলে দুর্ভোগের শেষ থাকে না। কাঁদায় পা পিছলে প্রতিবছরই ছোটখাটো বহু দুর্ঘটনা ঘটে। এই দীর্ঘ ঢালু বেয়ে মোটরসাইকেল উঠাতে প্রায়শই দুর্ঘটনা ঘটে।
উপজেলার মান্নারগাঁও ইউনিয়নের ৩৮ গ্রামের প্রায় ৪০ হাজার মানুষ আজমপুর খেয়াঘাট দিয়ে দোয়ারা উপজেলা সদরে আসা যাওয়া করেন। যাত্রী ও যানবাহন উঠানামা করতে চওড়া করে তৈরি করা এই খেয়াঘাট শুকনায় যেমন ঝুঁকিপূর্ণ, বর্ষায় ও বৃষ্টির দিনে এই ঘাট হয়ে উঠে মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ।
অপরদিকে, জঙ্গলশ্রী খেয়াঘাট দিয়ে দোয়ারাবাজারে আসা যাওয়া করেন দোহালিয়া ইউনিয়নের ৩৮ গ্রামের প্রায় ৩৯ হাজার মানুষ। একই খেয়া ঘাট দিয়ে পান্ডারগাঁও ইউনিয়নের ২৬ গ্রামের ৩৭ হাজার মানুষ পারাপার হয়ে থাকেন।
আজমপুর গ্রামের বাসিন্দা ফজর আলী ও মৃদুল দাস জানান, খেয়াঘাট চওড়া থাকায় রোগীসহ মুরব্বীদের উঠানামা করতে কষ্ট হয়। যানবাহন উঠানামা করে ঝুঁকি নিয়ে। প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটে খেয়াঘাটে। খেয়াঘাটের ভোগান্তি নিত্যদিনের।
দোয়ারা বাজারের দেলোয়ার হোসেন ও নাছির উদ্দিন জানান, খেয়াঘাটে উঠানামা যে কষ্ট, দায়িত্বশীলদের তা জানা নেই। যদি আমাদের মতো আসা যাওয়া করতেন, তখন ঠিকই পাকা সিঁড়ি নির্মাণের জন্য ব্যবস্থা নিতেন। খেয়াঘাটে উঠানামার ভোগান্তি কবে শেষ হবে জানি না আমরা।
কাটাখালি গ্রামের বাসিন্দা ব্যবসায়ী আব্দুর রহমান জানান, দোয়ারা উপজেলা হওয়ায় খেয়াঘাটে চরম ভোগান্তি হলেও আমাদের যেতেই হয়। পাকা সিঁড়িঘাট ও যাত্রী ছাউনি নির্মাণের দাবি আমাদের বহুদিনের।
আমবাড়ি গ্রামের বাসিন্দা ব্যবসায়ী রহিম উদ্দিন জানান, খেয়া নৌকায় মালামাল নিয়ে গেলেও মারাত্মক ভোগান্তিতে পড়তে হয়। পাকা সিঁড়িঘাট হলে একটু কষ্ট দূর হতো।
কলেজে পড়–য়া শিক্ষার্থী হামিদা খাতুন ও সুমন রহমান বলেন, রোদ, বৃষ্টি, বর্ষায় খেয়া নৌকায় চলাচল আমাদের। খেয়াঘাটে ঝুঁকিপূর্ণ যাতায়াত, বর্ষায় আরও বেশি ঝুঁকিপূর্ণ হয়। মান্নারগাঁও ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আবু হেনা আজিজ বলেন, ইউনিয়নের সকল মানুষকেই জরুরি প্রয়োজনে দোয়ারা উপজেলায় যেতে হয়। আজমপুর খেয়া পার হয়ে রোদ, বৃষ্টি উপেক্ষা করে প্রতিদিন হাজারো মানুষের যাতায়াত দোয়ারাবাজারে। আজমপুর যাত্রী ছাউনি এবং পাকা খেয়াঘাট না থাকায় মানুষের কষ্টের শেষ থাকে না।
দোহালিয়া ইউপি চেয়ারম্যান কাজী আনোয়ার মিয়া আনু বলেন, দোয়ারা ও জঙ্গলশ্রী খেয়াঘাটের ভোগান্তির কথা বহুবার সমন্বয় সভায় বলেছি, কোন কাজ হচ্ছে না।
পান্ডারগাঁও ইউপি চেয়ারম্যান ফারুক আহমদ বলেন, খেওয়াঘাট থেকে সরকার প্রতি বছর লাখ লাখ টাকা রাজস্ব পাচ্ছে। কিন্তু যাত্রী ছাউনি ও সিঁড়িঘাট নির্মাণ না হওয়ায় যাত্রী ভোগান্তি কমছে না।
দোয়ারাবাজারের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুনিয়া সুলতানা বললেন, দোয়ারাবাজারে দুটি খেওয়াঘাট আছে, একটির সিঁড়ি ভেঙেছে, এটি মেরামত করে দেবার জন্য সমন্বয় সভায় বলেছি, আরেকটি ঘাট পানি কমার সঙ্গে সঙ্গে সরাতে হয়, সেই ঘাটে যাত্রী ছাউনি ও সিঁড়ি করার জন্য সমন্বয় সভায় বলা হয়েছে।


