দুর্গন্ধে দম বন্ধ করে চলতে হয় যে সড়কে

শহীদনূর আহমেদ
নাকে হাত রেখে দম বন্ধ করে প্রতিদিন চলাচল করছেন পথচারীরা। অথচ এই রাস্তাটি অজপাড়াগায়ের নয়। এটি সুনামগঞ্জ পৌর শহরের প্রাণ কেন্দ্র স্টেশন রোড থেকে ২০০গজ পশ্চিমে মোক্তারপাড়া সড়কের সংযোগস্থল।
রাস্তাটির ১০০ গজের ভিতরে রহমান বেকারী ও ম্যানশন, মধুমিতা আবাসিক হোটেল, পানামা রেস্টুুরেন্ট, হক প্রেস ও একটি দৈনিক পত্রিকার কার্যালয়সহ আবাসিক বাড়িঘর রয়েছে।
গুত্বপুর্ণ একটি রাস্তা হওয়ায় প্রতিনিয়ত চলাচল করছেন নানা শ্রেণী পেশার শত শত মানুষ। কিন্তু এই রাস্তার উপর পচা আর্বজনা ও মল-মুত্রের সব সময় লেগেই থাকে। দুর্গন্ধে চলাচলে রীতিমত বিব্রতকর অবস্থায় পড়তে হয় পথচারীদের।
রাস্তার উপর মল-মুত্র ত্যাগ, ডাষ্টবিনের যথাযথ ব্যবহার না করে যেখানে সেখানে ময়লা আবর্জনা ফেলায় এই রাস্তার পরিবেশ নষ্ট হয়ে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে দাবী স্থানীয় বাসিন্দা ও   পথচারীদের।
বুধবার সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, রাস্তার দুই পাশে ময়লা-আবর্জনার স্তুপ। পচা ময়লা আবর্জনার গন্ধ উপেক্ষা করে হাতে নাক চেপে দমবন্ধ করে চলাচল করছেন শত শত মানুষ। কিছুক্ষণ অপেক্ষা করলে রাস্তায় পাশে প্রস্রাব করতে দেখা যায় একাধিক ব্যক্তিকে।
মধ্যশহরের এই রাস্তাটি  উন্মুক্ত শৌচাগারে পরিণত হয়েছে। যেন দেখার যেন কেউ নেই। রাস্তার এই দশা নিয়ে সাধারণ মানুষ ও পথচারীদের মধ্যে রয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া।  
রহমান ম্যানশনের আশরাফুল বলেন,‘ ট্রাফিক পয়েন্টে বের হওয়ার সহজ রাস্তা হওয়ায় এই রাস্তা দিয়ে আমরা আসা যাওয়া করি। কিন্তু প্রায় সময়ই দেখি মানুষ রাস্তার উপর প্র¯্রাব করছে। যা খুবই লজ্জাজনক। প্র¯্রাবের দুর্গন্ধের কারণে সহপাঠীরা প্রায় সময় উপহাস করে বলে এটি নাকি ……(যা লেখার অযোগ্য) পাড়া।’
মাজেদুল ইসলাম নামে আরেক পথচারি বলেন, প্র¯্রাব আর আবর্জনার দুর্গন্ধে রাস্তা দিয়ে যাওয়া যায় না। কোন রকমে গেলেও ভাই দমবন্ধ করে চলাচল করতে হয়। ডাষ্টবিনের অবস্থা খুবই খারাপ। আমার মনে হয় নিয়মিত পরিষ্কার করা হয় না। এই কারণে আরো বেশি দুর্গন্ধ হয়।
স্থানীয় পৌর কাউন্সিলর চঞ্চল কুমার লোহ বলেন,‘মুক্তারপাড়ায় যাওয়ার রাস্তার সংযোগ স্থল সর্ম্পকে আমি অবগত আছি। আমি সম্প্রতি পৌর পরিষদের মাসিক সভায় বিষয়টি নিয়ে আলাচনা করেছি। রাস্তাটির পরিবেশ ভাল করার জন্যে আমরা তৎপর আছি।’
তিনি আরো বলেন,‘রাস্তায় ময়লা না ফেলা ও প্র¯্রাব না করতে সাধারণের অবগতির জন্যে সাইন বোর্ড টানানো হবে।’ রাস্তাটি চলাচলের উপযোগী করতে পৌরসভার পাশাপাশি এলাকাবাসী ও স্ব স্ব প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।