দুর্ভোগের আরেক নাম বালিয়াঘাট সড়ক

এম.এ রাজ্জাক, তাহিরপুর
তাহিরপুর উপজেলার শ্রীপুর (উত্তর) ইউনিয়নের বালিয়াঘাট নতুন বাজার থেকে জনতা উচ্চ বিদ্যালয় পর্যন্ত মাত্র ৫ কিলোমিটার সড়ক দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার না হওয়ায় চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। ভাঙাচোরা একমাত্র সড়ক দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে এলাকার মানুষদের। বিশেষ করে স্কুল-মাদ্রাসা পড়–য়া শিক্ষার্থী এবং শ্রীপুর উত্তর ইউনিয়ন পরিষদ ভবনে আসা লোকজন চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করতে হচ্ছে এখানকার মোটরসাইকেল ও অটো চালকদের। সংস্কার না হওয়ায় খানাখন্দে ভরপুর সড়কটি এখন এলাকার মানুষদের গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে। গত বছরের বন্যায় সড়কে দেয়া ব্লক উল্টে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে। সড়কের দুই পাশের বিভিন্ন স্থান হাওরের ঢেউয়ে ভেঙে গেছে। পুরো সড়ক জুড়েই ছোট বড় গর্তে ভরপুর। জনতা উচ্চ বিদ্যালয়, তেলীগাঁও সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী এবং বালিয়াঘাট নতুন বাজার ও শ্রীপুর বাজারে আসা লোকজন ভাঙাচোরা সড়ক দিয়ে চলাচল করতে গিয়ে প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন। এদিকে বালিয়াঘাট নতুন বাজার থেকে কাউকান্দি বাজার পর্যন্ত সড়কটি গত বছরের ভয়াবহ বন্যায় ভেঙে তছনছ হয়ে গেছে। মেরামতের উদ্যোগ না নেওয়ায় এলাকার মানুষ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলছেন, বড় বড় ব্রিজ দিয়ে কি হবে যদি আভ্যন্তরীণ সড়কগুলো সংস্কার না করা হয়।
স্থানীয় ভুক্তভোগীরা জানান, ১০ বছর আগে বালিয়াঘাট নতুনবাজার সড়কের কিছু স্থানে ব্লক বসালেও এখন পর্যন্ত সড়ক পাকা হয়নি। ব্লকগুলো ফাঁকা হয়ে গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। সড়কের বিভিন্ন স্থান ভেঙে গেছে। মাঝে মধ্যে সড়কের ভাঙাচোরা গর্তগুলো সংস্কার করা হলেও বৃষ্টির পানি, হাওরের ঢেউ এবং ভারী যানবাহন চলাচলের কারণে আবারও সড়ক ভেঙে গেছে। এতে অটো ও মোটরসাইকেল চালকরা যাত্রী নিয়ে প্রায়ই দুর্ঘটনার সম্মুখীন হচ্ছেন।
বালিয়াঘাট গ্রামের রেজাউল জানান, বর্ষা মৌসুম আসার পূর্বেই জরুরী ভিত্তিতে সড়কটি সংস্কার করা প্রয়োজন। না হলে সড়ক আর থাকবে না।
জনতা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী রাজন বলেন, প্রতিদিন এই সড়ক দিয়ে আমাদের বিদ্যালয়ে যাতায়াত করতে হয়। কিন্তু এমন ভাঙাচোরা সড়ক দিয়ে একবার গেলে দ্বিতীয়বার আর যেতে ইচ্ছে করে না। আমরা দ্রুত সড়ক সংস্কার চাই, যাতে শিক্ষার্থীরা নিরাপদে বিদ্যালয়ে যাওয়া-আসা করতে পারে।
স্থানীয় ওয়ার্ড সদস্য আমির আলী বলেন, এ সড়কটির অবস্থা খুবই নাজুক। চলাচলের একেবারে অনুপযোগী। সড়কটি যাতে দ্রুত সংস্কার হয়, সেই বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরে আনা উচিত।
মোটরসাইকেল চালক জজ মিয়া বলেন, পেটের দায়ে আমরা মোটরসাইকেল চালাই। ভাঙা সড়কে গাড়ি চালাতে মন চায় না। কিন্তু নিরুপায় হয়ে আমাদেরকে গাড়ি চালাতে হচ্ছে। ভাঙাচোরা সড়কে গাড়ি চালাতে খুবই কষ্ট হচ্ছে, কয়েকদিন পরপর দুর্ঘটনা ঘটছে।
টমটম চালক মহিম উদ্দিন জানান, গত বছরের বন্যায় সড়কটি ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হলেও স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ বা এলজিইডি এখনও সংস্কার করেনি। প্রতিনিয়ত তাঁরা ঝুঁকি নিয়ে গাড়ি চালাচ্ছন।
শ্রীপুর (উত্তর) ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আলী হায়দার বলেন, জনবহুল এই সড়কটি এলজিইডির আওতায় নেয়া হয়েছে। আসা করছি দ্রুততম সময়ের মধ্যেই সড়ক সংস্কার কাজ শুরু হবে।
তাহিরপুর উপজেলা প্রকৌশলী আরিফুল্লাহ খান বলেন, সড়কের সার্ভের কাজ চলমান। কিছু দিনের মধ্যেই সংস্কার কাজ শুরু হবে।