দুর্ভোগে শিক্ষার্থী ও অভিভাবরা

স্টাফ রিপোর্টার
সুনামগঞ্জে শুরু হয়েছে এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের করোনা টিকা প্রদান কার্যক্রম। জেলার ১২ টি উপজেলার ২০২১ শিক্ষাবর্ষের এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের সুনামগঞ্জ সদরে এনে ফাইজারের টিকা দেওয়া হচ্ছে। এ কারণে হাওলাঞ্চলের দুর্গম এলাকার শিক্ষার্থীসহ অভিভাবকরা পড়েছেন ভোগান্তিতে। তবে অপেক্ষাকৃত উন্নত যোগাযোগের উপজেলা দিরাই, ছাতক, জগন্নাথপুরে ভেন্যু করার কথাও জানালেন জেলা শিক্ষা অফিসার। গত ২০ নভেম্বর থেকে সদর উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ে এই কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এই কেন্দ্রে ১৩ হাজার শিক্ষার্থীতে টিকা দেয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। হাওর বাওরের জেলা হিসেবে পরিচিত সুনামগঞ্জ। এখনও জেলার অনেক উচ্চ মাধ্যমিক প্রতিষ্ঠানে যাতায়াতে পায়ে হাঁটাই ভরসা। ৩ টি উপজেলার জেলা সদরের সঙ্গে যোগাযোগ বর্ষায় নায়ে হেমন্তে মোটর সাইকেলে করতে হয়। দীর্ঘ পথ মোটর সাইকেলে আসা এই সময়ে কষ্টসাধ্য। বিশেষ করে মেয়েদের ক্ষেত্রে আরো কঠিন। ভ্রমণ ব্যয়ও অনেক বেশি যা বহু শিক্ষার্থী পরিবারের বহন করার সংগতি নেই। অনেক মেয়ে শিক্ষার্থীর সঙ্গে জেলা সদরে এসেছেন অভিভাবকরাও। তারা বলছেন নিজ নিজ ইউনিয়ন বা উপজেলা সদরে এই ভ্যাকসিন প্রদান হলে সময়, শ্রম ও আর্থিক ভোগান্তিতে পড়তে হতো না তাদের।
ট্যাকেরঘাট চুনাপাথর খনি প্রকল্প মাধ্যমিক স্কুল এন্ড কলেজের শিক্ষার্থী জয়ধর আলম বললেন, উপজেলা অথবা নিজ নিজ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভ্যাকসিন গ্রহণের ব্যবস্থা হলে প্রায় ৩০ কিলোমিটার দূর থেকে মোটর সাইকেলে আসতে হত না। অনেক শিক্ষার্থীর টাকা পয়সার সংকট থাকলেও প্রতিষ্ঠানের চাপে এখানে আসতে হয়েছে। সোমবার আমাদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে বলা হয়েছে সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে গিয়ে ভ্যাকসিন নেওয়া লাগবে। ভ্যাকসিন না নিলে পরীক্ষা দিতে দেওয়া হবে না।
তাহিরপুর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় এবং কলেজের শিক্ষার্থী ইতি রায় বললেন, করোনার ভ্যাকসিন নেবার জন্য পরিশ্রম হয়েছে, সময় গেছে, এই সময়টায় পড়তে পারলে ভালো হতো।
শান্তিগঞ্জ উপজেলার ডুংরিয়া গ্রামের বাসিন্দা মো. সৈয়দুর রহমান বললেন, আমাদের জন্য এই টিকা কেন্দ্র অনেক দূরে হয়ে গেছে। উপজেলা সদরে হাসপাতাল রয়েছে। সেখানে যদি টিকা দেওয়ার ব্যবস্থা হতো তাহলে বাচ্চাদের এরকম টাকা খরচ হতো না, কষ্টও লাঘব হতো।
জেলা শিক্ষা অফিসার মো. জাহাঙ্গীর আলম বলছেন, ফাইজারের টিকা উপজেলা পর্যায়ে সংগ্রহের ব্যবস্থা না থাকায় শিক্ষার্থীদের জেলা পর্যায়ে এনে ভ্যাকসিন দেওয়া হচ্ছে। ভালো টিকা নিতে একটু কষ্ট সহ্য করার পরামর্শ দিয়ে তিনি জানালেন, দিরাই, ছাতক, জগন্নাথপুরসহ কয়েকটি দুর্গম এলাকায় পৃথক ভেন্যু করা হবে। তিনি জানান, সুনামগঞ্জের ১২ উপজেলার ১৩ হাজার এইচএসসি পরীক্ষার্থীকে আগামী ২৫ নভেম্বরের ভেতরে প্রথম ডোজ ভ্যাকসিন দেয়া হবে। মঙ্গলবার শান্তিগঞ্জ ৪৭২, বিশ^ম্ভরপুর ৬৮৫, জামালগঞ্জ ৬৬৪ ও তাহিরপুর উপজেলার ৮৭২ জন শিক্ষার্থীকে টিকা দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন ওই কর্মকর্তা।