দেশে করোনা শনাক্তের নতুন রেকর্ড, মৃত্যু ১৯৯

সু.খবর ডেস্ক
মহামারি আকার ধারণ করা করোনায় দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ১৯৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। আজকের মৃত্যু নিয়ে এখন পর্যন্ত দেশে মোট মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৫ হাজার ৭৯২ জনে।
এ ছাড়া গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে করোনা শনাক্ত হয়েছেন ১১ হাজার ৬৫১ জন। যা দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ রেকর্ড শনাক্ত। এ নিয়ে দেশে মোট করোনা শনাক্তের সংখ্যা দাঁড়াল ৯ লাখ ৮৯ হাজার ২১৯ জনে।
বৃহস্পতিবার বিকালে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তি থেকে এসব তথ্য জানা যায়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় ৩৬ হাজার ৮৫০টি নমুনা পরীক্ষায় ১১ হাজার ৫২৫ জন শনাক্ত হন, যাতে শনাক্তের হার ৩১.৬২ শতাংশ। এর আগে বুধবার ১১ হাজার ১৬২ ও মঙ্গলবার ১১ হাজার ৫২৫ জন শনাক্তের তথ্য জানানো হয়েছিল। এ নিয়ে মোট শনাক্ত ৯ লাখ ৮৯ হাজার ২১৯ জন। মোট পরীক্ষার তুলনায় শনাক্তের হার ১৪ দশমিক ৪১ শতাংশ।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর আরও জানায়, গত এক দিনে যারা মারা গেছেন তাদের মধ্যে ১৩৩ জন পুরুষ এবং ৬৬ জন নারী। নতুন মৃতদের মধ্যে ৬৫ জনই ঢাকার। এছাড়া খুলনার ৫৮, চট্টগ্রামে ৩৭, রাজশাহীতে ১৫, বরিশালে ৩, সিলেটে ৫, রংপুরে ৯ এবং ময়মনসিংহে ১০ জন মারা গেছেন।
বয়সভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, গত ২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়াদের মধ্যে ১০৭ জনের বয়স ৬০ বছরের বেশি। এছাড়া ৫১ থেকে ৬০ বছরের ৪৭ জন, ৪১ থেকে ৫০ বছরের ২৮ জন, ৩১ থেকে ৪০ বছরের ৬ জন এবং ২১ থেকে ৩০ বছরের ৯ জন ও ১১ থেকে ২০ বছরের মধ্যে দ্ইুজন রয়েছেন। এ নিয়ে দেশে করোনার মৃত্যুর মোট সংখ্যা দাঁড়ালো ১৫ হাজার ৫৯৩ জনে।
২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়েছেন ৫ হাজার ৮৪৪ জন এবং এখন পর্যন্ত সুস্থ হয়েছেন ৮ লাখ ৫৬ হাজার ৩৪৬ জন।
দেশে গত বছরের ৮ মার্চ প্রথম করোনা রোগী শনাক্ত হয়। এর ১০ দিন পর ১৮ মার্চ প্রথম মৃত্যুর খবর আসে। কয়েক মাস সংক্রমণ ও মৃত্যুর হার ঊর্ধ্বগতিতে থাকার পর অনেকটা নিয়ন্ত্রণে চলে আসে। চলতি বছরের শুরুতে করোনাভাইরাসের প্রকোপ অনেকটা নিয়ন্ত্রণে ছিল। তখন শনাক্তের হারও ৫ শতাংশের নিচে নেমেছিল। তবে গত মার্চ মাস থেকে মৃত্যু ও শনাক্ত আবার বাড়তে থাকে। জুলাই মাসে দৈনিক শনাক্তের হার ৩০ শতাংশের উপরে আছে। মোট গড় হার ১৪ শতাংশের উপরে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মানদণ্ড অনুযায়ী, কোনো দেশে টানা দুই সপ্তাহের বেশি সময় পরীক্ষার বিপরীতে রোগী শনাক্তের হার ৫ শতাংশের নিচে থাকলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে বলে ধরা যায়। সে হিসেবে বাংলাদেশে করোনা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেই বলা যায়।
বিশেষজ্ঞরা এটাকে বাংলাদেশে করোনার ‘দ্বিতীয় ঢেউ’ বলছেন। করোনা সংক্রমণ মারাত্মক আকার ধারণ করায় প্রথমে ২১ এপ্রিল ও পরে তা বাড়িয়ে ২৮ এপ্রিল পর্যন্ত বিধিনিষেধ জারি করেছিল সরকার। এরপর সেটি ধাপে ধাপে বাড়িয়ে ১৬ জুলাই পর্যন্ত করা হয়েছে। এর মধ্যেই আবার ১ জুলাই থেকে এক সপ্তাহের জন্য কঠোর লকডাউনের জারি করেছে সরকার, যা আরও এক সপ্তাহ বাড়ানো হয়েছে।এদিকে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ও প্রাণহানির পরিসংখ্যান রাখা ওয়েবসাইট ওয়ার্ল্ডওমিটারের তথ্যানুযায়ী, বৃহস্পতিবার (৮ জুলাই) সকাল ৮টা পর্যন্ত পূর্ববর্তী ২৪ ঘণ্টায় বিশ্বে মারা গেছেন আরও ৮ হাজার ২১৬ জন এবং আক্রান্ত হয়েছেন ৪ লাখ ৩২ হাজার ৩৯ জন।
এ নিয়ে বিশ্বে এখন পর্যন্ত মোট করোনায় মৃত্যু হলো ৪০ লাখ ১৭ হাজার ২০৮ জনের এবং আক্রান্ত হয়েছেন ১৮ কোটি ৫৮ লাখ ২২ হাজার ৫৭০ জন। এদের মধ্যে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ১৭ কোটি ৭৭ হাজার ৮২৫ জন।
করোনায় এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি সংক্রমণ ও মৃত্যু হয়েছে বিশ্বের ক্ষমতাধর দেশ যুক্তরাষ্ট্রে। তালিকায় শীর্ষে থাকা দেশটিতে এখন পর্যন্ত করোনা সংক্রমিত হয়েছেন ৩ কোটি ৪৬ লাখ ২৭ হাজার ৪৭৩ জন। মৃত্যু হয়েছে ৬ লাখ ২১ হাজার ৬২৯ জনের।
আক্রান্তে দ্বিতীয় ও মৃত্যুতে তৃতীয় অবস্থানে থাকা ভারতে এখন পর্যন্ত মোট সংক্রমিত হয়েছেন ৩ কোটি ৬৬ লাখ ২ হাজার ৮৯৬ জন এবং এখন পর্যন্ত মোট মৃত্যু হয়েছে ৪ লাখ ৪ হাজার ২৪০ জনের।
আক্রান্তে তৃতীয় এবং মৃত্যুতে দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা ব্রাজিলে এখন পর্যন্ত করোনায় এক কোটি ৮৮ লাখ ৫৫ হাজার ১৫ জন সংক্রমিত হয়েছেন। মৃত্যু হয়েছে ৫ লাখ ২৭ হাজার ১৬ জনের।
আক্রান্তের দিক থেকে চতুর্থ স্থানে রয়েছে ফ্রান্স। দেশটিতে এখন পর্যন্ত করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন ৫৭ লাখ ৯০ হাজার ৫৮৪ জন। ভাইরাসটিতে মারা গেছেন এক লাখ ১১ হাজার ২৩১ জন।
এ তালিকায় পঞ্চম স্থানে রয়েছে রাশিয়া। দেশটিতে এখন পর্যন্ত করোনায় সংক্রমিত হয়েছেন ৫৬ লাখ ৫৮ হাজার ৬৭২ জন। এর মধ্যে মারা গেছেন এক লাখ ৩৯ হাজার ৩১৬ জন।
এদিকে আক্রান্তের তালিকায় তুরস্ক ষষ্ঠ, যুক্তরাজ্য সপ্তম, আর্জেন্টিনা অষ্টম, কলম্বিয়া নবম ও ইতালি দশম স্থানে রয়েছে। এই তালিকায় বাংলাদেশের অবস্থান ৩০তম।
২০১৯ সালের ডিসেম্বরের শেষ দিকে চীনের হুবেই প্রদেশের উহান থেকে করোনাভাইরাস সংক্রমণ শুরু হয়। এখন পর্যন্ত বাংলাদেশসহ বিশ্বের ২১৮টি দেশ ও অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েছে কোভিড-১৯।